fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউন শিথিল হতেই সচেতনতা শিকেয়

দেবজ্যোতি কর্মকার, করিমপুর, নদিয়া: চতুর্থ দফার শেষে পঞ্চম দফার লক ডাউন শুরু চলছে। এই সময়ে শুধুমাত্র কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন সম্পূর্ণ কার্যকর থাকলেও অর্থনীতিকে সচল রাখতে অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই ছাড় দিয়েছে প্রশাসন।

 

 

সরকারি ছাড়ের নির্দেশ মিলতেই সচেতনতা শিকেয় উঠে গিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ মুখে মাস্ক ছাড়া কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই ভিড় করছেন রাস্তা ঘাট, দোকান অথবা হাটে বাজারে। আর তাতেই সংক্রমণের আশংকা করছেন বহু সাধারণ মানুষ। করিমপুর এলাকার মানুষের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘ দুই মাস পরেও সমাজের বৃহত্তম অংশের মানুষ সামান্যতম সচেতন হতে পারেননি। রাস্তায় বের হলে দেখা যাচ্ছে প্রায় অর্ধেক লোকের মুখে মাস্ক পরছেন না। কোথাও কোন দূরত্ব থাকছে না। লকডাউনে কাজকর্ম ও ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সকল শ্রেণির মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। সেদিকে খেয়াল রেখে প্রশাসন যানবাহন চলাচল কিংবা দোকানপাট খোলার অনুমতি দিতেই কিছু মানুষ মনে করছেন করোনা মুক্ত হয়ে গিয়েছে। অথচ করিমপুরের গত কয়েকটি দিনে দেশ, রাজ্য তথা নদিয়া জেলায় হুহু করে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। তবুও কোথাও মানুষের মধ্যে সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই সংক্রমণ ভয়ঙ্কর আকার নেবে যখন আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

 

 

সকলের দাবি, লকডাউনের প্রথম দিকে মানুষকে ঘর বন্দি করতে যেমন পুলিসকে যেমন রাস্তায় লাঠি হাতে দাঁড়াতে হয়েছিল এখনো তেমনি ব্যবস্থা নিয়ে সরকার সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুন। করিমপুরের বাসিন্দা ও পেশায় স্কুল শিক্ষক সুব্রত পাল বলেন, “এতদিন করোনার প্রকোপ কম ছিল। তখন মানুষ লক ডাউনের সমস্ত বিধি মেনে চলেছে। আর যখন করোনার থাবা জোরাল হচ্ছে তখনই যেন অনেক মানুষ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না। এব্যাপারে সব মানুষকে বেশি সচেতন হওয়া জরুরি এবং অন্তত মুখে মাস্ক ব্যবহার ও দূরত্ব বজায় রেখে সব কাজ করতে হবে। নাহলে অদুর ভবিষ্যতে সকলের বিপদ ঘনিয়ে আসবে। আর সামান্য একটু সচেতনতা মেনে চলতে এমন কিছু কষ্ট হবার কথা নয়, তবুও মানুষের এত অবহেলা কেন তা বুঝতে পারছি না।”

 

 

করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক শিবময় সিংহ রায় জানান, করোনা সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাইরাস। এর সম্পর্কে সঠিক কোন ধারনা কারও ছিল না। নতুন অদৃশ্য এই করোনা ভাইরাসের সাথে মানুষকে লড়াই করতে যেমন শুধু ঘরের মধ্যে থাকলেই চলবে না। তেমনি ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সব সময় নাক মুখ ঢেকে রাখা ও দুজনের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখাটা বাধ্যতা মূলক। নাহলে মানুষকে নিজের কাজকর্মে বা যেকোনও কারণে বাড়ির বাইরে বের হতে হবে এবং এই নিয়ম মেনে চলতেই হবে। নিয়ম না মানলে আগামী দিনে যে সংক্রমণ আরও বাড়বে ও অনেক মানুষ আক্রান্ত হবেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

Related Articles

Back to top button
Close