fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের জেরে সংকটে উত্তর দিনাজপুর জেলার আনারস চাষিরা

তপন চক্রবর্তী: লকডাউনের জেরে উত্তরবঙ্গের আনারস চাষিদের সঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলার আনারস চাষিরাও এবার চরম সঙ্কটে। উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর এবং চোপরার আনারসের খ্যাতি শুধু উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গেই নয় এই এলাকার আনারসের খ্যাতি সমগ্র ভারত জুড়ে। এই খ্যাতি তিলে তিলে বিস্তার লাভ ঘটেছে।

আনারসের ফলন শীতে কম হলেও গরমে আনারসের ফলন ভালো হয়। শুধু মাত্র উত্তর দিনাজপুর জেলাতেই আনুমানিক সাতশো হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হলেও বর্তমানে তা কমের দিকে। সেই জমিতে আনারসের পরিবর্তে চা বাগান গড়ার দিকে চাষিরা অগ্রসর হচ্ছেন। উদ্যান পালন বিভাগ জানায় আনারস চাষের জন্য যে ধরনের আবহাওয়া ও মাটির প্রযোজন তা উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার অনেক এলাকাতেই আছে। লকডাউনের মুখে গাড়ি বন্ধ থাকায় কযেক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে আনারস চাষিরা। অনেক লাভের আশায় স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বেশি আনারস ফলনের ব্যবস্থা করলেও করোনার কারণে এবার তাদের মাথায় হাত পড়েছে বলে চোপড়া ব্লকের কালাগছের আনারস চাষি অমূল্য রায়
জানান।

                                        আরও পড়ুন: নদিয়ায় কাজলি জাতের পটল চাষ

তিনি বলেন, ভিন রাজ্যের লরি না আসায় শুধুমাত্র কলকাতা ছাড়া আর কোথাও আনারস পাঠাতে পারা যাচ্ছে না। চোপড়া ব্লকের হাপতিয়াগছের আনারস চাষি আনিসুর রহমান বলেন, প্রতি বছর এই সময় ইসলামপুর ও চোপড়া থেকে দিল্লি, মুম্বই, আমেদাবাদ, পুণে, চণ্ডীগড়, রাজস্থান প্রভৃতি শহরে আনারস রফতানি হলেও এবার তা করোনা আবহে সস্পূর্ণ বন্ধ। জানা যায়, এবার সমগ্র উত্তরবঙ্গে আনারসের উৎপাদন হয়েছিল ৫ লক্ষ টন। যার মধ্যে ইসলামপুর ও চোপড়ায় দুই লক্ষ টনের উপর। এবার আনারসের দাম নেই বললেই চলে।

                        আরও পড়ুন: সর্বরোগহরা ড্রাগন ফল চাষে সফল খেজুরির দেবাশীষ

গত বছর যেখানে আনারসের কেজি দর ছিল প্রতি কেজি ১৫ টাকা। এবার করোনার কারণে থেকে ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। উত্তর দিনাজপুর জেলার আনারস চাষিদের দাবি এবার বেশিরভাগ আনারস চাষিদের আনারস বিক্রি করার পরেও জমিতেই প্রচুর আনারস পচে গেছে। তাই আনারস চাষিদের দাবি জেলার ইসলামপুর অথবা চোপড়ায় যদি একটি দুটি সরকারি বা বেসরকারিভাবে আনারসের জুস ফ্যাক্টরি করা হয় তাহলে এই এলাকার আনারস চাষিরা ভীষণ ভাবে উপকৃত হতে পারে।

শুধু তাই নয় উত্তর দিনাজপুর জেলার চা শিল্প কোনওভাবেই আনারস শিল্পকে উৎখাত না করে বরং আনারস শিল্পের উন্নযনে সরকারের অত্যাধুনিক প্রকল্প গ্রহণ করে আনারস শিল্পকে বাঁচিযে রেখে তার মাধ্যমে যাতে এলাকার বেকার সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান করা যায় সেদিকেই নজর দেওয়া উচিৎ বলে এলাকার অভিজ্ঞ কৃষিমহল মনে করেন।

এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন আনারসের পাতা থেকে মসৃন সুতোও তৈরি হতে পারে। ইসলসমপুর ও চোপড়ার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দল একসময় আনারসের পাতা থেকে সুতো তৈরি করে তা থেকে শাড়ি করার অভিজ্ঞতা থাকলেও সরকারের অবহেলার কারণে তা নিযে কোনও চিন্তা ভাবনা আজ পর্যন্ত এগোয়নি।

Related Articles

Back to top button
Close