fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের জেরে দূষণ কমছে বায়ুমন্ডলে, ঋতু পরিবর্তনের সঠিক দশা ফিরে এসেছে

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর:  লকডাউনের জের। বন্ধ কলকারখানা। রাস্তায় যানবাহন হাতে গোনা। বাতাসে কালো ধোঁয়ার দাপট নেই। দূষণ কমেছে বায়ুমন্ডলে। আর তার সুফলে ফিরে পেয়েছে ঋতু পরিবর্তনের সঠিক দশা। ভরা বৈশাখেও বদলে গেছে কাঠফাঠা গরমের ধারা। রুটিন করে বিকালে অঝোরে বৃষ্টি। রাতভর ঠান্ডা আমেজে।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনার কামড়। সংক্রামক রুখতে গত দেড় মাস ধরে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বন্ধ কলকারখানা। বন্ধ পরিবহনের যান চলাচল। আর তার জেরে বাতাসে দূষণ কমছে। স্বচ্ছ আকাশ। একবছর আগেও শিল্পশহর দুর্গাপুরে দূষণ ছিল নজরকাড়া। যার জেরে চিন্তিত ছিল দুষন দফতর। শহরে আকাশে বাতাসে লাল- কালো ধোঁয়া গ্রাস করে থাকত। আবার অনেক এলাকায় সকাল বেলায় নজরে পড়ত বারান্দা ভর্তি কালো ধুলোর স্তর পড়েছে। একই দৃশ্য নজরে পড়ত শহরে গাছপালা, খাল বিলের জলে। গত দেড় মাসে সেসব ধুলো উধাও। আরও পরিবর্তন হয়েছে আবহাওয়ার। বদল গেছে জলবায়ু। গত কয়েকবছর ধরে ভরা বৈশাখে গরমে হাসফাঁস হয়ে উঠত জনজীবন। বলা হত ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন’ র ফল। চলতি বছর গরমের দাপট কমেছে। গত সপ্তাহখানেক রুটিন ধরে বিকাল হলে কয়েকমিনিটের অঝোরে বৃষ্টি। যা মুহুর্তেই শিতল করছে পরিবেশকে। আর তারপর রাতভর ঠান্ডা আমেজ।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এবং ‘সেবা’- একটি নিরবচ্ছিন্ন পরম্পরা

প্রবীনদের মতে, ত্রিশ বছর আগে এই ধারাবাহিকতাটা ছিল। সেটা ফিরে এসেছে।  জলবায়ুর এই পরিবর্তনের কারন কি? বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক অপুর্বরতন ঘোষ বলেন, “বিশ্ব উষ্ণায়নে বাতাসে তাপমাত্রা বেড়েছিল। ফলে ঋতু পরিবর্তনে ব্যাহত হত। এখন বায়ুমন্ডলে দূষণের পরিমান কমেছে। কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোস্কাইড, অক্সাইড নাইট্রোজেন। এছাড়াও ধুলিকণা বা পার্টিকুলেট মেটার কমেছে।”

বিজ্ঞনীমহল সুত্রে জানা গেছে, লকডাউন শুরুর কয়েকমাস আগে দুর্গাপুর রাতুড়িয়া অঙ্গদপুর, কিম্বা বাঁশকোপা শিল্পতালুকে দূষণ ছিল ৩০০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি মিটারকিউবে। এছাড়াও বাতাসে পার্টিকুলেট মেটার(পিএম) ২.৫ ও পিএম-১০ ছিল অনেক বেশী। অধ্যাপক অপুর্বরতন ঘোষ জানান, ” লকডাউনের ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, অক্সাইড নাইট্রোজেনের মত দূষণের পরিমান গড়ে ৩০-৪০ শতাংশ কমেছে। এছাড়াও বাতাসে পার্টিকুলেট মেটার(পিএম) ২.৫ ও পিএম -১০ র পরিমান অনেকটাই কমেছে। তার ফলস্বরূপ জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন এসেছে। বাতাসে আপেক্ষিক তাপমাত্রা কমেছে। ঋতু পরিবর্তনের সঠিক দশা এখন পরিবেশ পেয়ে গেছে। আর তাই এখন সারদিন গরম থাকলেও বিকাল হতেই রুটিন করে বৃষ্টি হচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close