fbpx
অন্যান্যঅফবিটকলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দুগ্গা দুগ্গা – সাবধানে এসো মা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: পঞ্জিকা বলছে আজ মহালয়া। আবার আজ ভাদ্রের সংক্রান্তিতে বিশ্বকর্মার আরাধনা। খোলা মাঠে কাশ, বাগান ভর্তি শিউলি আর পাঁকের মাঝেই পদ্মরা উঁকি দিতে শুরু করেছে। ওদিকে কৈলাসের ঘোড়াশাল থেকে ঘোড়ারা বেরিয়েছে। চলবে এবার কিছুদিন শারীরিক কসরত। একটু লম্ফঝম্প। হাড়-কব্জাগুলোকে তো একটু ঝালিয়ে নিতে হবে। আসলে কালে ভদ্রে মা ঘোড়াকে নিয়ে বেরোন তো, তাই। এবার অবশ্য মা সপরিবারে ঘোড়াতেই আসবেন, ঘোড়াতেই যাবেন। হাতে এবার অঢেল সময় (৩৫দিন)। মায়ের সবে ঘুম ভেঙেছে। প্রতিবার তো ঘুম থেকে উঠেই চলে আসতে হয়। তবে এবার মা ধীরে-সুস্থে তৈরি হবেন। তারপর? তার আর পর নেই…না আছে। মা এবার কী আনবেন মর্তবাসীদের জন্য? তারাই বা কী চাইবেন? চাওয়া-পাওয়ার মাঝেই প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। সাবধানে এসো মা।

 

দীর্ঘ লকডাউনের পর গত প্রায় দেড়মাস ধরে শিল্পীরা শুরু করেছেন কাজ। আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও টিকে থাকার লড়াইয়ে সামিল সকল মৃৎশিল্পী। আশ্বিনের শারদপ্রাতে নয়, কার্তিকেই এবার শারদপ্রভাত। যদিও পুরোহিত বলবেন, আশ্বিনে মাসে শুক্লেপক্ষে সপ্তম্যাং তিথৌ…

 

খড়ের কাঠামোয় পড়েছে মাটির প্রলেপ। প্রথমে এঁটেল বা চিটমাটির সঙ্গে খড়ের কুচো মিশিয়ে লাগানো হয়। এঁটেল মাটির গুণ হল খড়ের কাঠামোকে আঁকড়ে ধরে থাকে, ছেড়ে যায় না। আর খড়ের কুচি এই আকড়ানো গুণকে আরও জোরদার করে। সবশেষের স্তরে থাকে বেলেমাটি। এই মাটির গুণে মূর্তির গড়ন মসৃণ হয়। মূর্তির বুক, পেট, হাত, পা সব কিছুর ওপরের স্তরটি থাকে বেলেমাটির।

মুণ্ডহীন মূর্তিতে লাগানো হবে মায়ের মুখ। শিল্পী নিমগ্ন ছাঁচে মায়ের সেই মুখ তৈরিতে। মুখের গড়ন যাতে নিখুঁত হয়, মোলায়েম হয়, চমকদার হয়-সেইজন্য মুখের মাটি ছেনে নেওয়ার আগে কত যত্ন নেন কারিগর শিল্পীরা। অনেক জল মিশিয়ে মাটি আগে পাতলা কাপড়ে ছেঁকে নেওয়া হয়। তারপর সেই মাটি রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করা হয়।

ছাঁচে মাটির কাজ সম্পন্ন করে শিল্পী বাঁশের চেয়াড়ির সাহায্যে আঁকছেন মায়ের চোখ, ঠোঁট। এক ঝলক দেখলে মনে হয় এ যেন মাটির নয়, জ্যান্ত মুখ।

একচালায় মায়ের মাটির মূর্তি সাঙ্গ হয়েছে। এবার রঙের পালা। তারপর মায়ের সাজ-পোশাক। এবছর বাড়ির ঠাকুর, বারোয়ারি ঠাকুর সবই আকৃতিতে ছোট হচ্ছে।

মাকে বাসন্তী রঙে রাঙিয়ে তুলছেন শিল্পী। কোনও কোনও মায়ের রং গোলাপী বা কমলাও হয়। তবে ইতিহাস বলছে, দুর্গাপুজোর সূচনাকালে মায়ের যে সনাতন রূপ আমরা পাই তাতে সবুজ অসুর, হলুদ রঙের প্রতিমা, আলতা পরা পা ও সাদা সিংহ ছিল। পরবর্তীতে মায়ের সূর্যমুখী হলুদ রঙের সঙ্গে গোলাপী রং মেশান শিল্পী গোপেশ্বর পাল ও কমলা রং মেশান রমেশ পাল। তবে হলুদের মধ্যে একটা নৈকট্যের উষ্ণতা আছে।


এক সময় রীতি ছিল মহালয়ায় মায়ের চোখ আঁকা হত। এবার অবশ্য তা হবার জো নেই। তবু মহালয়ায় মায়ের সম্পূর্ণ মুখ দেখতে কে না চায়। দুর্গা শব্দের ব্যাখ্যায় পাওয়া যায় ‘দ’ অক্ষর দৈত্য নাশ করে, ‘ঊ-কার’ বিঘ্ন নাশ করে, ‘রেফ’ রোগ নাশ করে, ‘গ’-পাপ নাশ করে এবং ‘আ-কার’ শত্রু নাশ করে। অর্থাৎ যিনি রোগ, পাপ, শত্রু, বিঘ্ন নাশ করেন তিনিই দুর্গা দুর্গতিনাশিনী।

আর মাত্র ৩৫ দিনের অপেক্ষা। তিনি আসছেন। এবার আর রূপ, জয়, যশ নয়-মায়ের কাছে আমাদের মিলিত প্রার্থনা হোক ‘ওঁ মহিষগ্নি, মহামায়া, চামুণ্ডে, মুণ্ডমালিনি। আয়ুরারোগ্যবিজয়ং দেহি দেবি নমোহস্তু তে।।’

Related Articles

Back to top button
Close