fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঘরে অভাব… দুর্গার ছবি এঁকে মায়ের আরাধনায় অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়া

দিব্যেন্দু রায়, বর্ধমান: গ্রামে হাতে গোনা দু’একটা দুর্গাপুজো হয়। এবারে সেখানে গিয়ে আনন্দ করার রাস্তাও বন্ধ। কারণ করোনা আবহের জন্য সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার গেরো। তাই পুজোর আনন্দ পুষিয়ে নিতে দেবী দুর্গার ছবি এঁকে পুজো করার উদ্যোগ নিল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের চকদিঘি গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী পড়ুয়া সুর্যকান্ত চন্দ্র। মা ও ঠাকুমার কয়েকটা কাপড় দিয়ে বাড়ির পাশে ছোট্ট একটা প্যান্ডেল করে শুক্রবার মহা সপ্তমীর দিন থেকে শুরু হল সুর্যকান্ত ও তার বন্ধুদের দুর্গাপুজো। সূর্যকান্তের কথায়, “বাবা-মা বলেছেন ব্রাহ্মণকে দিয়ে শাস্ত্রসম্মতভাবে পুজো করার খরচ জোটাতে পারবে না। তাই চারদিন ধরে নিজেরাই পুজো করব বলে ঠিক করেছি।”

জামালপুর ব্লকের চকদিঘি গ্রামের বাসিন্দা উৎপল চন্দ ও রূপালিদেবীর একমাত্র সন্তান সূর্যকান্ত। উৎপলবাবু চন্দননগরের একটি বিএড কলেজ লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত রয়েছেন। রূপালিদেবী গৃহবধূ। সূর্যকান্ত মেধাবী ছাত্র হিসাবে এলাকায় পরিচিত। প্রথম শ্রেণী থেকেই সে ক্লাসে ফার্স্ট হয়ে আসছে। সেই সঙ্গে ছোট থেকেই আঁকার উপর তার অসম্ভব ঝোঁক, এমনই জানিয়েছেন সূর্যকান্তের মা রূপালিদেবী।
রূপালি দেবীর কথায়, “আমার ছেলের যখন খুব অল্প বয়স তখন থেকে ঘরের পাকা মেঝেতে খড়ি পেন্সিল দিয়ে গরু, ছাগল, মানুষের ছবি আঁকত পরে ননদের মেয়ে স্নাতকোত্তর পড়ুয়া তৃষা কুন্ডুর কাছে প্রথম আঁকার হাতে। খড়ি হয় ছেলের । তৃষা ছোট থেকেই আমাদের কাছে মানুষ। সে আঁকার উপর কোর্স করেছে।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমার শ্বশুর ছেলেকে আঁকার জন্য খুব উৎসাহ দিত। একদিকে দাদুর উৎসাহ অন্যদিকে দিদি তৃষার হাতে কলমে শিক্ষার কারণে আমার ছেলের আঁকার উপর খুব আগ্রহ বেড়ে যায়। তাই ছেলে পঞ্চম শ্রেণীতে ওঠার পর ওকে একটা আঁকার স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। ছেলে বর্তমানে আঁকাতে অনেক দক্ষ হয়ে উঠেছে।”

 

 

জানা গেছে, বিগত দু’তিন বছর ধরে সরস্বতী পুজোর সময় নিজের আঁকা ছবিতেই বাণী বন্দনা করে আসছে সূর্যকান্ত। তবে দূর্গাপুজো এই প্রথম৷ সূর্যকান্ত বলে, ” করোনার কারনে এবারের দুর্গাপুজোয় আগের মত আনন্দ করতে পারবো না। এই দেখে পাড়ার বন্ধুরা বলছিল যদি নিজেরা পুজো করা হয় তাহলে খুব ভালো হয়। সেই কারণে দেবী দূর্গা ছবি এঁকে পুজো করার উদ্যোগ নিয়েছি ।”

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে মহিষাসুর মর্দিনীর ছবি আঁকার কাজ শুরু করেছিল সূর্যকান্ত। আর্ট পেপারে পেন্সিলে স্কেচ তৈরি করার পর তার উপর ওয়াটার কালার বুলিয়ে মহিষাসুর মর্দিনীসহ সরস্বতী-কার্তিক ও লক্ষ্মী-গণেশে পৃথক তিনটি ছবি আঁকে সূর্যকান্ত৷ পরে ছবিগুলি থার্মালকের উপর চেটানো হয়। বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠীর দিন রাতে সম্পূর্ণ হয় ওই পড়ুয়ার ছবি আঁকার কাজ। ছবি আঁকা শেষ হলে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ছোটখাটো একটা প্যান্ডেল তৈরি করে সূর্যকান্ত। রঙিন বৈদ্যুতিক আলো দিয়ে প্যান্ডেল সাজানোর পর ছবিগুলি সাজিয়ে রাখা হয় প্যান্ডেলে। এদিন সপ্তমীর দিন সকাল সকাল স্নান সেরে নিয়ে পুজোর সামগ্রী নিয়ে মন্ডপের চলে আসে সুর্যকান্ত ও তার পাড়ার বন্ধুরা। তারপর শুরু হয় মহা সপ্তমীর পুজো। ফুল, বেলপাতা দিয়ে দেবীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সপ্তমীর পুজো পর্ব সম্পন্ন করে সুর্যকান্ত।
সূর্যকান্তের বন্ধু জয়দীপ মুখার্জি, অনুভব দে’রা বলে, “সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত আমরা নিজেরাই পুজো করব। এই চার দিন আমাদের আনন্দেই কাটবে। ভাগ্যিস সূর্যকান্ত এই উদ্যোগ নিয়েছিল। তা না হলে এবারের পুজোর আনন্দটাই মাটি হয়ে যেত।”

Related Articles

Back to top button
Close