fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

মায়ের শোলার শিল্পীরা….

মনীষা ভট্টাচার্য: মায়ের মালাকার সন্তানেরা আছে কেমন? এ প্রশ্ন মাথায় আসতেই বেরিয়ে পড়লাম কুমোরটুলির উদ্দেশে। আমরা জানি শোলাশিল্প বাংলার এক প্রাচীন লোকজ শিল্প। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শিল্পের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রথম করোনার কারণে ট্রেন চলছে না আর দুই আমফানে বিধ্বস্ত সারা গ্রামবাংলা। মূলত বর্ষার সময় ধানি জমিতে এরা জন্মায়। জলাশয় থেকে শোলাফুল তুলে শুকিয়ে তা দিয়ে তৈরি হয় নানা হাতের কাজ।

শোলার কাজ মানেই যে শুধু টোপর নয় তা গ্রামবাংলার শিল্পীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন। শোলা দিয়ে কদমফুল, টিয়াপাখির পাশাপাশি শোলার দুর্গা, সরস্বতী, গণেশ, বুদ্ধ ইত্যাদি আজ অনেকের বাড়িতেই আছে। এছাড়া শোলা দিয়ে তৈরি গয়না-গাটি, মুকুট এসবও দেখতে বেশ লাগে। প্রতি বছরই মায়ের সাজে শোলার আধিক্য দেখা যায়, কিন্তু এবার? প্রতিমাশিল্পীরা প্রায় সকলেই বলেছেন মায়ের সাজ এবার কীভাবে হবে তা বলে যাচ্ছে না, কারণ ট্রেন চলছে না, কাটোয়া থেকে মাল আসছে না। তবু তারই মধ্যে মায়ের সাজ শিল্পীরা কোনওনা কোনওভাবে করে দেবেন। কিন্তু যারা সারা বছরই শোলার কাজটাই করেন তাদের অবস্থা কেমন?

 

শিল্পী মালাকার দীপক জানালেন, এবছর কাজের অর্ডার নেই একেবারেই। আসলে প্রতি বছরের থেকে এবছরটা একেবারে আলাদা। শুধু তো দুর্গা নয়, বড় বড় কোম্পানি থেকে অনেক সংখ্যক কাজের অর্ডার থাকে। এবার সেটা একেবারেই নেই। ট্রেন না চলার দরুণ বাইরের কোনও অর্ডারও আসছে না। তাছাড়া এবার ঠাকুর ছোট আকৃতিতে হচ্ছে বলে মায়ের বড় সাজের দরকার হচ্ছে না। বড় সাজে যে দাম পাওয়া যায় ছোট সাজে তা পাওয়া যাবে না, অথচ বানাতে লেবার একই লাগছে। ফলত সব দিক দিয়েই রোজগারের অঙ্কটা কমে গেছে। এই মুহূর্তে অল্প কিছু ফোন আসছে বটে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে জানা নেই। আসলে বাজারে যে টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে তা সারা পৃথিবী জুড়ে রয়েছে। মানুষের হাতে পর্যাপ্ত টাকা না আসা পর্যন্ত সঠিক অর্ডার আসা এবং দাম পাওয়ায় অসুবিধে হবে। তাছাড়া কাঁচামাল এসেও পৌঁছচ্ছে না। গাড়িতে কাটোয়া থেকে মাল নিয়ে আসার খরচাও বেশি। তাই থার্মোকল ব্যবহার করতে হচ্ছে। শোলার কাজের যে গুণমান তা থার্মোকলে পাওয়া যায় না। তাই কাজ করেও আনন্দ পাচ্ছেন না শিল্পীরা।

 

আরও পড়ুন:সঙ্কটজনক হলেও, চিকিত্‍সায় সাড়া দিচ্ছেন সৌমিত্র

তবু এমন পরিস্থিতিতে পুজো যখন হচ্ছে তখন মায়ের সাজ নিশ্চয়ই বানাবেন মায়ের মালাকার সন্তানেরা। পুজোর এই শেষ সময়ে তাই শিল্পীরাও নিবিষ্ট হয়েছেন কাজে। শোলা কেটে, তারে জড়িয়ে গড়ে তুলছেন মায়ের মুকুট, গয়না।

Related Articles

Back to top button
Close