fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে দর্শক বিহীন দুর্গাপুজোয় বিন্দুমাত্র দুঃখিত নন প্রতিমা শিল্পী মিন্টু পাল

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: করোনাসুরের দাপটে কোণঠাসা বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা পুজোয় জনতার ঢল নামলে করোনা সংক্রমণ বিপজ্জনকভাবে বাড়বে। কিন্ত করোনার এই আবহেও পুজোর আয়োজন বা আড়ম্বরে কোনও খামতি নেই। কোথাও রূপোর মাস্ক তো কোথাও ২৫ কেজি সোনার গয়নায় সাজানো হবে দেবী দুর্গাকে। থিম বা মণ্ডপসজ্জায় খামতিই বা কোথায়? কোথাও কেদারনাথের মন্দির তো কোথাও রাজপুতানার দুর্গ। দর্শনার্থীরা ভিড় জমাবেন না! তাই মধ্য কলকাতার বিখ্যাত পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ঘোষণা করেছে এবার তাঁদের পুজোয় দর্শক প্রবেশ নিষিদ্ধ। হেঁটে নয়, নেটে দেখুন প্রতিমা। আর এই ঘোষণায় বিন্দুমাত্র মন খারাপ করছেন না ‘ সবচেয়ে বড়ো দুর্গার’ স্রষ্টা মৃৎশিল্পী মিন্টু পাল। যিনি এবার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের প্রতিমা গড়েছেন।

বাস্তবিকই করোনা আবহে সবক্ষেত্রেই নজির গড়লো এই ঐতিহ্যময় পুজো। করোনার দাপটে যখন এ বছর দুর্গাপুজো হবে কী না তা নিয়ে সংশয় ছিল তখন এঁরাই প্রথম মিন্টু পালকে অগ্রিম দিয়েছিলেন। আবার ৮৫ বছরে এই প্রথম পুজো মণ্ডপে দর্শক প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নজির গড়লেন। অবশ্য এঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বেহালার ‘ দেবদারু ফটক’ পুজো কমিটিও ঘোষণা করেছেন তাঁদের পুজোয় দর্শক প্রবেশ নিষিদ্ধ।

এবারের সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর প্রতিমা শিল্পী মিন্টু পাল অবশ্য এই সিদ্ধান্তে এতটুকু দুঃখিত নন। বৃহস্পতিবার কুমোরটুলিতে নিজের স্টুডিওতে বলেন, ‘ আমার এতোটুকু দুঃখ হচ্ছে না। ভার্চুয়ালি মানুষ তো আমার প্রতিমা দেখতে পাবেন। সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার হলো মানুষের জীবন। করোনার আবহে সংক্রমণের ঝুঁকি কোনভাবেই নেওয়া যায় না। পুজো হচ্ছে এটাই বড়ো কথা।’

আরও পড়ুন: দেশে পুরুষ সংকট! ভারতীয় পুরুষের চাহিদা বাড়ছে যে সমস্ত ইউরোপীয় দেশগুলিতে

তবে এ বছর ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশিষ্ট ভাষ্কর প্রশান্ত পাল। একটিমাত্র একচালার বাড়ির পুজোর প্রতিমা ছাড়া আর কোন মূর্তি তৈরি করেন নি। প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম ভাষ্কর রমেশচন্দ্র পালের পুত্র প্রশান্ত বলেন, ‘ এবার করোনার জন্য উদ্যোক্তারাও গোড়ায় দোটানায় ছিলেন। তারপর একচালায় ছোট প্রতিমা গড়ার বিষয়টা মেনে নিতে পারিনি। একটা বছর নাই বা করলাম।’ কুমোরটুলির মহিলা মৃৎশিল্পী চায়না পাল বলেন, ‘ শেষের দিকে অনেক প্রতিমা গড়ার অর্ডার এসেছিল, নিতে পারলাম না। এবার ১২ টা প্রতিমা গড়েছি। তবে মনে সুখ পেলাম না। প্রতিমা ছোট, বাজেট কম, কী আর করা।’ সব মিলিয়ে উৎসবের চেনা ছবিটা হারিয়ে গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close