fbpx
কলকাতাহেডলাইন

মহালয়ের ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কন্ঠে শোনা যাবে চণ্ডীপাঠ, পুজোর ৭ দিন আগে বাজবে না মহিষাসুরমর্দিনী: আকাশবাণী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ভোরেই এবার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠে ঘুম ভাঙ্গবে বাঙালির। এ বছর প্রথম মহালয়ার তিথি পড়েছে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ১৭ সেপ্টেম্বর। মহালয়ার ভোরেই শুধু বাজবে মহিষাসুরমর্দিনী। এবার দুবার মহালয়া, পুরোহিত সমাজের পক্ষে আকাশবাণী কলকাতা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল দুবার মহিষাসুর মর্দিনী সম্প্রচার করার জন্য। কিন্তু আকাশবাণী জানিয়ে দিয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বরই সম্প্রচার হবে মহিষাসুর মর্দিনী। ফলে দুর্গাপুজোর একমাস আগে মহালয়া পড়ায় দু’বার আকাশবাণী তাঁদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে কি না, তা নিয়ে যে দোলাচল তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেল।

এবারে ভাদ্র মাসে দুটি অমাবস্যা পড়ে যাওয়ায় আশ্বিন মাস মল মাস হয়ে গিয়েছে। তাই আশ্বিন মাসের দূর্গাপুজো পিছিয়ে হচ্ছে কার্তিক মাসের শুক্লা সপ্তমি তিথি থেকে। যদিও মহালয়া পড়েছে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন। অর্থাত্‍ এবারে মহালয়া আর পুজোর মধ্যেকার ফারাক ৭ দিনের বদলে ১ মাস ৭ দিন। সেই কারনেই প্রশ্ন উঠেছিল মহালয়ায় আকাশবাণী যে বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিণী’ সম্প্রচারিত করে তা কবে প্রচারিত হবে? এর জেরে বাংলার দুই পুরোহিত সমাজ দুই ভিন্ন ভিন্ন দাবি জানিয়ে বসে।কিন্তু ভাঙছে না আদি-রীতি। রীতি মেনেই ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার ভোরেই শুধু বাজবে মহিষাসুরমর্দিনী।

চলতি বছরে মহিষাসুরমর্দিনী দ্বিতীয়বার সম্প্রচারের প্রসঙ্গে আকাশবাণী কলকাতার প্রোগ্রাম হেড সুব্রত মজুমদার বললেন, “না, তা তো সম্ভব নয়।, মহিষাসুরমর্দিনী আজ একটা মিথ। একটা নির্দিষ্ট রীতি মেনে, নিষ্ঠা নিয়ে এই অনুষ্ঠানের সম্প্রচার হয়ে আসছে প্রথম থেকে। এক সময় লাইভ হতো, পরে রেকর্ডিং করা হয়। সেই রীতি মেনেই এবারও মহালয়ার ভোরেই সম্প্রচার হবে। এর মর্যাদাই আলাদা। অন্য কোনও দিনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। তাই এই অনুষ্ঠান আর দ্বিতীয়বার শোনানো যাবে না। পরে ২২ অক্টোবর অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিন ভোর পাঁচটায় বাজবে উত্তমকুমারের কণ্ঠের ‘দেবীদুর্গতিহারিনী’।

আরও পড়ুন: আমফান পরবর্তী সুন্দরবনের মৃৎশিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

একটা সময় পর্যন্ত বাণীকুমার, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জুগলবন্দি প্রতি বছর লাইভ সম্প্রচার করত মহিষাসুরমর্দিনী। ভোর চারটের অনেক আগে শিল্পীরা আকাশবাণী পৌঁছে যেতেন। নির্ধারিত সময়ে শুরু হত লাইভ সম্প্রচার। কিন্তু একটা সময়ের পর এই চণ্ডীপাঠের শিল্পীদের কণ্ঠ ধরে রাখার প্রয়োজন অনুভব করেন সকলেই। রেকর্ড হয়। যা পরে কিনে নেয় এইচএমভি। সেটিই এখন অন্যান্য রেডিও স্টেশন সম্প্রচার করে। কিন্তু এখানেই বলে রাখা দরকার, রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে একটি নয়, একাধিকবার তাতে ভ্যারাইটি আনেন বাণীকুমার।  সুব্রতবাবুর কথায়, তাঁরা নানা গবেষণা করেছেন এটা নিয়ে। কখনও নতুন গান সংযোজিত হয়েছে। তার জন্য কখনও হয়তো নির্দিষ্ট কোনও শিল্পীকে না পেয়ে অন্য কাউকে দিয়ে সেই গান তোলানো হয়েছে। তার সব ক’টিই রয়েছে আকাশবাণীর সংগ্রহে। কখনও কখনও বদলে বদলে সেগুলি শোনানো হয়। গত বছরই যেমন ছয়ের দশকের প্রথম দিকে রেকর্ড করা একটি চণ্ডীপাঠ শোনানো হয়েছিল। এটাও একটা রেওয়াজ। সেইসব বহুমূল্য সংগ্রহের মধ্যে থেকেই একটি এবার শোনানো হবে।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close