fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

দুর্গাপুজো নিয়ে ভুয়ো খবর যারা ছড়াছে তাদের ১০০ বার কান ধরে ওঠবোস করান’, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে কী হবে বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজোর ভবিষ্যৎ? তা নিয়ে আমজনতার চিন্তার শেষ নেই। আর তা বাড়িয়ে দিচ্ছিল ভুয়ো এক হোয়াটসঅ্যাপ। এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । যারা এই কাজ করেছে তাদের কান ধরে ওঠবোস করানোর কথাই বলেছেন তিনি।

ভুয়ো ওই হোয়াটসঅ্যাপে কী লেখা ছিল? তাতে লেখা ছিল এবছর পুজোয় সারারাত ঘুরে প্রতিমা দর্শন বন্ধ। পঞ্চমী থেকে একাদশী পর্যন্ত বিকেল পাঁচটার পর থেকে জারি থাকবে নাইট কারফিউ। এছাড়াও লেখা রয়েছে মণ্ডপে একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি প্রবেশ করা যাবে না এবং প্রত্যেকের থার্মাল স্ক্রিনিং হবে। অষ্টমীর অঞ্জলিতে ফুল দেওয়া যাবে না। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় শোভাযাত্রা বন্ধ রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে ওই ভুয়ো মেসেজে। যা নজরে আসে রাজ্য পুলিশের । মঙ্গলবার টুইটে পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই মেসেজের কোনও সত্যতা নেই। যে বা যারা এই কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গাপুজো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গতকাল থেকে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে, এটা ঠিক বের করা হবে কে করেছে। তারপর তাঁকে প্রকাশ্যে ১০০ বার কানধরে ওঠবোস করানো হবে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে ফেসবুক ও টুইটারে একটি ছবিও পোস্ট করা হয়। তাতে বড় অক্ষরে ‘ভুয়ো’লেখা। ছবির সঙ্গে লেখা হয়েছে,”দুর্গাপুজো নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে এই গুজবটি ছড়াচ্ছে। এ রকম কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দয়া করে মেসেজটি ফরোয়ার্ড করবেন না। এটি মিথ্যা।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে নিয়ে ফেক নিউজ ছড়িয়ে দিচ্ছে। দূর্গাপুজোকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। এর বিহিত হবেই। আমি পুলিশকে বলেছি বিষয়টা দেখতে। কে করেছে।’ ক্রুদ্ধ মুখ্যমন্ত্রীর বিজেপিকে তোপ, কোন হরিদাস এরা, মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগাতে চাইছে। নির্লজ্জের দল, পাষণ্ডের দল, শোষণের দল, অসভ্যের দল, অশিক্ষিতের দল বলেও নাম না করে গেরুয়া শিবিরকে তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রীর, আনন্দপুর কাণ্ডের ‘সাহসিনী’র চিকিত্‍সার খরচ দেবে রাজ্য, পাশে থাকার আশ্বাস অনুজ শর্মার

হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘সবকিছুর সীমারেখা থাকা দরকার। একইসঙ্গে তিনি দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসুর নাম না করে স্পষ্টই তাঁদের উদ্দেশ্যে তোপ দাগেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বলা হচ্ছে ঘর থেকে বের করে করে মারা হবে। পুলিশের স্ত্রী, সন্তানদের গায়ে হাত দেওয়া হবে।’ তাঁর হুশিয়ারি গায়ে হাত দিলে কেউ পার পাবেন না। একইসঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে সতর্ক করে বলেছেন ট্রেন কিংবা বিমান চালু হলে অনেক গুণ্ডা-বদমাশ বাইরে থেকে আমদানি হবে। সেদিকে যেন নজর থাকে। একইসঙ্গে সারদাকাণ্ডে রাজীব কুমারের প্রসঙ্গে বহুদি বাদে টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভুলে যায়নি রাজীব কুমারের বাড়িতে বৃদ্ধা মা’কে গিয়ে ভয় দেখিয়ে এসেছেন। ভয় দেখাবেন না। জন্ম ও মৃত্যু একদিনই হবে। কিন্তু যতদিন বাঁচব লড়াই করেই যাব।

এদিন রাজ্যের পুরো পুলিশ বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক কাজ করার পরেও পুলিশকে খারাপ কথা শুনতে হয়। কিছু লোক রয়েছে, যাঁরা কোনও কাজ না করে গালাগালি দেয়, কুৎসা করে। তখন জানতে ইচ্ছে করে সবাই মিলে কেন কাজ না করে, সকলকে গালাগালি দেওয়া হয়। এটা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’

Related Articles

Back to top button
Close