fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বীরেন্দ্রকৃষ্ণের চণ্ডীপাঠ হোক পুজোর ৭ দিন আগেও, আকাশবাণীর কাছে আবেদন পুরোহিতদের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  আকাশে মেঘেদের ভেলা জানান দিচ্ছে ‘মা’ আসছে। আর মাত্র ৩৫দিন বাকি।  মা আসছে মানেই, ভোরে আলো ফোটার আগেই প্রত্যেক বাঙালি ঘরে ঘরে বেজে ওঠে রেডিও। ‘জাগো দূর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিণী’। বোঝা যায় শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির ঐতিহ্য, বাঙালির সংস্কৃতি ‘মহিষাসুরোমর্দিনী’। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর চণ্ডীপাঠ যাকে জীবন্ত করে দিয়েছে আবহমানকালের জন্য। মহালয়ার সকালে এই গান শুনলেই মনে মনে পুজো এসে যায়। কিন্তু এবার মনে মনে এলেও সত্যি সত্যি আসবে না। অপেক্ষা করতে হবে এক মাসেরও বেশি সময়।

তিথি-নক্ষত্রের মহা গেরো। ফলে এবার পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হচ্ছে না দেবীপক্ষ। মাঝে ঢুকে পড়েছে মল-আশ্বিন। তাই মায়ের পুজো এবার কার্তিকে। কিন্তু বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর চণ্ডীপাঠ? শাস্ত্র মেনে ১৭ সেপ্টেম্বর, মহালয়ার দিন সেই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সম্প্রচার হবে? না কি পুজোর সাতদিন আগে, ১৬ অক্টোবর? না কি দু’দিনই বাজবে সুপ্রীতি ঘোষের আলোর বেণু?

সাধারণত কোনও মাসে দুটি অমাবস্যা পড়ে গেলে পরের মাসটি মলমাস হিসাবে চিহ্নিত হয়। এই বছর ভাদ্র মাসে দুটি অমাবস্যা পড়ে গিয়েছে। তাই আশ্বিন মাস মল মাস হয়ে গিয়েছে। সেই কারনে দূর্গাপুজো এক মাস পিছিয়ে আশ্বিন মাসের বদলে কার্তিক মাসে হচ্ছে। কিন্তু পঞ্জিকা মতে মহালয়া পড়েছে ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন। ইংরাজির ১৭ সেপ্টেম্বর। প্রতিবছর পুজোর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই মহালয়ার ভোরে আকাশবাণীতে সম্প্রচারিত হয় ‘মহিষাসুরোমর্দিনী’। স্বাভাবিক ভাবেই একটা প্রশ্ন ঘোড়া শুরু হয়েছিল আমজনতার মধ্যে যে আকাশবাণীর এই বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান কবে সম্প্রচারিত হবে। কারন এই অনুষ্ঠানটির সম্প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির চিরন্তন দূর্গাপুজো কার্যত এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে বাঁধা পড়ে গিয়েছে। এই অনুষ্ঠান যেন উৎসব শুরুর ঘোষক। আর এই নিয়েই বিবাদ বেঁধেছে বৈদিক পণ্ডিত ও পুরোহিত মহামিলন কেন্দ্রের সঙ্গে বঙ্গীয় পুরোহিত কল্যাণ পরিষদের।

১৭ অক্টোবর দেবীপক্ষ শুরু। তার আগের দিন মহালয়ার প্রভাতি অনুষ্ঠান সম্প্রচারের অনুরোধ করা হয়েছে। ২০০১ সালের মতো এবারও আশা করি অনুরোধ রাখা হবে।”

বৈদিক পণ্ডিত ও পুরোহিত মহামিলন কেন্দ্রের বক্তব্য, তিথিটি মহালয়া নামে পরিচিত যা আবহমানকাল ধরে চলে আসছে। এই তিথি কার্যত পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা ঘটায়। তাই এই দিনেই তর্পণের কাজ করতে হয় শাস্ত্র মতে। কিন্তু ‘মহিষাসুরোমর্দিনী’একান্তভাবেই বাঙালির একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যা বিগত অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে আকাশবানীতে সম্প্রচারিত হওয়ায় তা উৎসবের ঘোষক, সূচক হয়ে উঠেছে। এই অনুষ্ঠানটি গীতি আলেখ্য। এতে শ্রী শ্রী চন্ডীর অংশ বিশেষ থাকলেও এর সঙ্গে সরাসরি ধর্ম বা শাস্ত্রের কোনও যোগ নেই। তাই এবারে মহালয়ার প্রভাতে নয়, পুজোর এক সপ্তাহ আগেই এই অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হোক আকাশবানীকে। ইতিমধ্যেই বৈদিক পণ্ডিত ও পুরোহিত মহামিলন কেন্দ্রের তরফে কলকাতা আকাশবাণী কেন্দ্রকে এই মর্মে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

পুরোহিতদের আর এক সংগঠন ‘বঙ্গীয় পুরোহিত কল্যাণ পরিষদ’ অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শাস্ত্র মেনেই ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া সম্প্রচার হওয়া উচিত। পরিষদের সম্পাদক সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ওই চণ্ডীপাঠ শুনেই পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করা প্রথায় দাঁড়িয়েছে। তা বদলানো অবাঞ্ছিত। তবে মানুষের সুবিধার্থে পুজোর ৭ দিন আগে দ্বিতীয় বার সম্প্রচার করা যেতেই পারে। বুধবার থেকে পিতৃপক্ষের শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দেবীপক্ষ শুরু ১৭ অক্টোবর। তার পরের দিন শুরু কার্তিক মাস। শাস্ত্রমতে এবার কার্তিকই শুদ্ধ আশ্বিন। তবে কি এবার দু’বার বেতারে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের পাঠ শোনা যাবে?

Related Articles

Back to top button
Close