fbpx
অফবিটকলকাতাহেডলাইন

এবারের পুজো আমাদের কাছে ‘দায়বদ্ধতার পুজো’: তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, তারপরেই উমা সপরিবারে হাজির হবেন মর্ত্যে। সারা বছর ধরে অধীর আগ্রহে মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন দুর্গাপুজোর জন্য। তার মধ্যে কলকাতার পুজো-কে ঘিরে উন্মাদনা থাকে আরও তুঙ্গে। কিন্তু এবছর করোনার আবহে সেই জৌলুস, জাঁকজমকের উচ্ছ্বাস না থাকলেও, বাঙালি নষ্ট্যালজি  সাদামাটা মধ্যদিয়ে মাতৃ আরাধনা সম্পন্ন করবে।

থিম পুজোর দৌড়ে কম বেশি এগিয়ে সব ক্লাবই। উত্তর কলকাতার ক্লাবগুলির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন। উত্তর কলকাতার দুর্গোৎসব এবার ৫৫ বছরে পর্দাপণ করল। কতৃপক্ষের কথায় বিগত বছরে গুলিতে উল্টোডাঙা অঞ্চলের দর্শকদের যে জনপ্লাবন দেখা গেছে, তার নেতৃত্ব রয়েছে তেলেঙ্গাবাগান সার্বজনীন। সারা রাজ্যের মধ্যে তেলেঙ্গাবাগান করোনার কনন্টেনমেন্ট জোনের মধ্যে একটি ছিল। সেই অবস্থা থেকে শুধুমাত্র মা দুর্গার কৃপায় আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে পেরেছি আমরা।

তার মধ্যেই মহামারীর কোপে বেহাল অর্থহীন, কর্মহীন মানুষ, আমফান, পরর্বতী পর্যায়ে লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ গৃহহীন, এদের সবার কথা মাথায় রেখে আমাদের বিগত বছরের থেকে ৭০ শতাংশ বাজেট কমিয়ে পুজো করতে চলেছি। এবারের পুজো আমাদের কাছে ‘দায়বদ্ধতার পুজো’। বিগত কিছু বছর থিমের বাড়বাড়ন্তকে ভেঙে ফের চেনা ছন্দে সাবেকিয়ানা ফিরছে দুর্গাপুজো।

এবার তেলেঙ্গাবাগান সার্বজনীনে দেখা যাবে সেই আদি অকৃত্রিম সাবেকিয়ানা। মন্ডপ তৈরি হচ্ছে মন্দিরের আদপে, যেখানে দুইদিক খোলা থাকবে, দর্শকরা যেকোনো দিক থেকেই প্রতিমাকে দর্শন করতে পারবেন। ১২ ফুট এর প্রতিমাতেও থাকবে ভাস্কর প্রদীপ রুদ্র পালের অভিনবত্বের ছোঁয়া যা দর্শকদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। মাতৃ আরাধনাই যেখানে আমাদের মূলমন্ত্র। আর তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন পল্লিবাসী মনে করে মায়ের হাত ধরে করোনা পৃথিবী থেকে নিপাত হবে।

আরও পড়ুন: নিউ নর্মাল পুজো…..

প্রান্তিক কিছু মানুষ, যারা এই মণ্ডপের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের মুখে অন্নসংস্থান এর ব্যবস্থা করতে সমাজের কাছে দায়বদ্ধ আমরা। পুজো হোক সবার সঙ্গে মিলে তেলেঙ্গাবাগান সার্বজনীনর পুজো কমিটির সদস্যদের কামনা। মন্ডপের প্রবেশ পথে থাকছে জায়ান্ট স্ক্রিন যেখানে অঞ্জলি থেকে হোম , আরতি সব কিছু দেখা যাবে ডিজিটাল মাধ্যমে। প্রত্যেক বারের মতো এবারও এই অতিমারী পরিস্থিতিতেও বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, বিনামূল্যে স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করছি আমরা। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক পরে ও স্যানিটাইজার টানেলে এ দর্শকরা প্রবেশ করে মাকে দর্শন করবেন।শরৎ-এর নীলাকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘকে মাঝে মধ্যেই ঢেকে দিয়ে জাঁকিয়ে বসছে বর্ষার ঘন কালো মেঘ, তারই মধ্যে ফের নতুন ভাবে মাতৃ আরাধনার মধ্যদিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে তেলেঙ্গাবাগান।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close