fbpx
কলকাতাহেডলাইন

গৌরীবেড়িয়া সার্বজনীনে রূপোর মাস্ক পরবেন দুর্গা

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজোয় করোনাসুরের দাপটে এবার জৌলুস কম। কিন্তু তাই বলে কোন চমক থাকবে না তা আবার হয় নাকি? এবার শহরের সেরা চমক হতে পারে উত্তর কলকাতার গৌরীবেড়িয়া সার্বজনীন দুর্গোৎসবের প্রতিমা। দেবীর মুখে থাকবে ৪ গ্রাম ওজনের রূপোলি মাস্ক। দশহাতে পরিচিত যুদ্ধাস্ত্রের বদলে থাকবে মাস্ক আর হ্যাণ্ড স্যানেটাইজার।

সোমবার উত্তর কলকাতার গৌরীবেড়িয়া সার্বজনীনের খুঁটি পুজোয় কাঠের তৈরি দুর্গা মূর্তির মুখে রূপোলি মাস্ক পরানো হয়, দশহাতে মাস্ক আর স্যানেটাইজার। পুজো কমিটির তরফে মান্টা মিশ্র বলেন, ‘ করোনার এই সঙ্কটের মুহূর্তে আমরা একটা সচেতনতার বার্তা দিতে চাইছি। আসলে দেবী তো আমাদের ঘরের মেয়ে ঊমারূপেই চারদিনের জন্য বাপের বাড়ি আসেন। তাই মায়ের রক্ষাকবচ দরকার, সেইজন্যই রূপোর মাস্ক পরানো হবে মাকে। খুঁটি পুজোয় তাই কাঠের যে প্রতিমা রয়েছে মায়ের, সেই মূর্তিতে রূপোর মাস্ক পরানো হয়েছে।’

কিন্তু দেবীর মুখে মাস্ক পরানো কতোটা শাস্ত্র সম্মত? শাস্ত্রজ্ঞ জয়ন্ত কুশারী বলছেন, ‘ যুগের সঙ্গে শাস্ত্রীয় রীতিনীতির পরিবর্তন প্রয়োজন মাফিক কিছু হয়েই থাকে। পুজোর মন্ত্রোচ্চারণে ‘ফেনক’ শব্দটা ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ সাবান, অর্থাৎ সাবান দিয়ে হাতধোয়ার কথা বলা হয়েছে। পুরাণে যেভাবে রক্তবীজকে বর্ণনা করা হয়েছে। তাতে এটা স্পষ্ট সে যুগেও ভাইরাস ছিল। মা রক্তবীজকে বধ করেছিলেন। করোনাসুরকেও মা বধ করবেন।’

আরও পড়ুন:  SSKM থেকে পালিয়ে হেঁটেই অশোকনগরের বাড়িতে পৌঁছলেন রোগী! কাঠগড়ায় হাসপাতাল

করোনার আবহে মা আসবেন, মানসিকভাবে মেনে নিয়েছেন সবাই। তাই এবারের দুর্গাপুজোয় সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস হয়তো দেখা যাবে না। একসঙ্গে বেশি দর্শক মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন না, থাকবে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা। সবার মুখে থাকবে মাস্ক, হ্যাণ্ড স্যানেটাইজার হাতে মাখাতে হবে। আরও নানা স্বাস্থ্যবিধির পাহারা থাকবে। গৌরীবেড়িয়া প্রতিমার রূপায়ণে সেই বার্তাই দিতে চাইছে। ঢাকের বোলে, ধুনুচি নৃত্যে তাই এবছর নানা নিষেধের পাহারা।আর সেই পাহারা ডিঙিয়েই উচ্চারিত হবে ‘ বলো দুর্গা মাইকি জয়।’

 

Related Articles

Back to top button
Close