fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

খোলা মণ্ডপেও যানজটের আশঙ্কা, কলকাতার বিশেষ ১২টি পয়েন্টে নজরদারি চালাবে পুলিশ

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: পুজোয় বরাবরই শহরে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখতে ভালোবাসেন বেশিরভাগ মানুষ। রাস্তায় গাড়ির ভিড় তো বটেই, এমনকি পথচলতি মানুষকে সামাল দিতেও আলাদা করে পরিকল্পনা করতে হয় কলকাতা পুলিশ কে। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম। গত কয়েক মাসে গাড়ি বিক্রি বেড়ে যাওয়ার ফলে সংক্রমনের ছোঁয়াচ এড়াতে এবারে রাস্তায় গাড়ি করে ঘুরবেন বেশিরভাগ মানুষ, এমনটাই জানতে পারছে পুলিশ। তাই রাস্তায় হতে পারে বেশ ভাল রকমের যানজট।

পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতার বিশেষ কয়েকটি পয়েন্ট রয়েছে, যেখানে সাধারণত পুজোর সময় ভিড় হয়। এই পয়েন্টগুলি থেকেই মানুষ আশপাশের মণ্ডপগুলি দর্শন করেন। এরকমই ১২ ১২টি পয়েন্টে এবার যানজট ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে নজরদারি চালাবে পুলিশ, এমনটাই জানিয়েছে লালবাজার।

এই তালিকার মধ্যে রয়েছে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার ও হাতিবাগান, অথবা তেলেঙ্গাবাগান অঞ্চল। আছে মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিট, যেখান থেকে একদিকে মহম্মদ আলি পার্ক, আবার অন্যদিকে কলেজ স্কোয়ারে যাওয়া যায়। রয়েছে শিয়ালদহ, যেখান থেকে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ও শিয়ালদহে প্রতিমা দর্শন করতে যান বহু মানুষ। তবে উত্তর কলকাতার চেয়ে গত কয়েক বছরে দক্ষিণ কলকাতার দিকে ভিড় বাড়ছে।

পুজোর সময়ে এরকমই একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রাসবিহারী মোড়। দেখা গিয়েছে, বড় সংখ্যক দর্শনার্থী কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে নেমেই পৌঁছে যান রাসবিহারী মোড়ে। এখান থেকেই একদিকে বাদামতলা-সহ কালীঘাট অঞ্চলের বেশ কয়েকটি মণ্ডপ, আবার অন্যদিকে নিউ আলিপুর, বেহালার দিকে যান দর্শনার্থীরা। রাসবিহারী থেকে পূর্বদিকে দেশপ্রিয় পার্ক থেকে শুরু করে কসবার দিকেও যান অনেকে। এ ছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুর, বেহালা চৌরাস্তা, ঠাকুরপুকুর, অন্যদিকে দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট মোড়, পাক সার্কাস, কসবা অঞ্চলেও পুজোর জন্য কলকাতায় তৈরি হচ্ছে ট্রাফিকের বিশেষ জোন।
দেশপ্রিয় পার্ক থেকে ত্রিধারা ও চক্রবেড়িয়ার দিকে ঠাকুর দেখতে যান বহু মানুষ। আবার গড়িয়াহাট থেকে একডালিয়া, সিংহি পার্ক, হিন্দুস্থান পার্ক ও কসবা অঞ্চলে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় মণ্ডপ।

ফলে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, রাসবিহারী কানেক্টর ও তার সংযোগস্থলগুলিতে যদি যানজট হয়, তবে দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল অবরুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই কারণে দর্শনার্থীদের রাস্তায় নামতে দেওয়া যেমন হবে না, তেমনই তাঁরা যাতে দূরত্ব মেনে চলেন, তা দেখা হবে। এই পয়েন্টগুলিতে নির্ধারিত সময়ের দুই-তৃতীয়াংশ গাড়ি চলার জন্য রাখা হয়। বাকি একাংশ রাস্তা পার হওয়ার জন্য। পুজোর সময় প্রায় ৬০০ পুলিশকর্মী থাকবেন রাসবিহারী ও সংলগ্ন জায়গায়। যাতে মণ্ডপ দর্শনার্থীরা যথেষ্ট পারস্পরিক দূরত্ব মেনে রাস্তা পারাপারের হন, সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যে মণ্ডপগুলি রাস্তার ওপরে, সেগুলি যাতে মানুষ গাড়ি করে দেখতে পারেন, তারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close