fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দুর্গা পুজার আগে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত 

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা:  করোনা আবহের মধ্যেই গত কিছুদিন ধরে দোকানপাট খোলার সময়সীমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও  নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দুর্গা পুজোর আগে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। করোনা আবহের মধ্যে দোকান খোলার সময় বাড়লেও গত কয়েকদিন ধরে  বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কঠিন এই সময় সরকারি সহযোগিতা আবেদন জানানো হয়। হাতে পুজোর আর বেশি দেরি নেই। পুজো উদ্যোক্তারাও বিভিন্ন রকম খরচ কাটছাঁট করে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু শারদীয় উৎসবের এই আনন্দ যাতে সকলেই উপভোগ করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও উৎসাহিত হয়তো তাদের পুজোয় কিছুটা হলেও ব্যবসায় সুফল আসবে। পুজোর ঠিক একমাস যখন বাকি ঠিক তার আগে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এখনো পুজোর বাজার জমেনি।

গত বছর এই সময় যে পরিমাণ ব্যবসা শুরু হয়েছিল বর্তমানে তার ১৫-২০ শতাংশ ব্যবসা হয়নি বলে জানাল ব্যবসায়ীরা। করোনা ভাইরাসের ফলে গত কয়েক মাস ধরে পর্যায় ক্রমে লকডাউন। গত কিছুদিন ধরে দোকানপাট অনেকটাই বেশি সময় ধরে খোলা থাকলেও নতুন করে বাঁধ সেধেছে বৃষ্টি।

[আরও পড়ুন- মেয়ের জন্মদিনে শিক্ষক দম্পতির উদ‍্যোগে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ]

করোনা আবহের মধ্যেও উৎসবের এই মরশুমে এভাবে দফায় দফায় বৃষ্টি চলতে থাকায় হতাশ হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে বৃষ্টিও চলছে পাল্লা দিয়ে। গত দুইদিন ধরে নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় হাট-বাজার দোকানপাট কার্যত ফাঁকা থাকছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা অনেকেই। তাদের অনেকেরই আশা কিছুটা হলেও বাজার জমে উঠবে। কিন্তু সেই করোনার পাশাপাশি বৃষ্টি এমনটাই অভিমত ব্যবসায়ীদের।

দিনহাটার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের রাজকুমার সোমানি, হরিদাস সাহা, মৃণাল সাহা প্রমুখ বলেন, এবছর করোনা ভাইরাসের থাবায় তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টি আরো ক্ষতি করছে। আগামী কয়েকটা দিন করোনার প্রভাব এবং আবহাওয়া কেমন থাকবে তা নিয়েও সন্দিহান তিনি। আরেক ব্যবসায়ী বিপ্লব সাহা বলেন, একদিকে করোনা, অন্যদিকে বৃষ্টি তাদের মতো ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের কঠিন সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অনেকে বলেন যে অবস্থা চলছে তাতে হয়তো দোকানের কর্মচারীদের বেতন দেওয়া অসম্ভব হয়ে উঠবে।

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, ব্যবসায়ীদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৮০ শতাংশ ব্যবসা ক্ষতি হয়েছে। লকডাউনের ফলে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের উপর আঘাত নেমে এসেছে। সামনে দুর্গা পুজো। এমত অবস্থায় ব্যবসায়ীরা ধারদেনা করে কিছু কিছু মাল তুলতে শুরু করলেও একদিকে করোনার ভয় অপরদিকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পুজোর বাজার এখনও জমে ওঠেনি।

ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক উৎপলেন্দু রায় বলেন, চৈত্র সেল থেকে শুরু করে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন উৎসব হলেও ৫ থেকে ১০% ব্যবসা হয়েছে। সামনে দুর্গা পুজো। মানুষের হাতে টাকা পয়সা না থাকায় ইচ্ছে থাকলেও নতুন জামা-কাপড় কিনতে পারছেন না অনেকেই। এভাবে চলতে থাকলে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের আরও সমস্যায় ফেলে দেবে।

 

Related Articles

Back to top button
Close