fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুরুলিয়ার বাগাল বাবার আশ্রমে বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু দুর্গাপুজো

সাথী প্রামাণিক, পুরুলিয়া: দেবীর বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শারদীয়ার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর সূচনা হল পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলিতে। একদিকে করোনা আবহ অন্যদিকে শারদ উৎসবের আবহ, মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। আজকের দিনে সাত দশকের বেশি সময় ধরে পুরুলিয়ার শ্রী শ্রী সচিদানন্দ বাগাল বাবার আশ্রমে দুর্গা পূজিতা হয়ে আসছেন। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের নবমীর দিন থেকে পুজো শুরু হয়ে যায় এখানে। ওই দিন থেকেই শারদীয় এই প্রধান উৎসবে মেতে ওঠেন এলাকাবাসী। মহাসপ্তমী থেকে দূর দূরান্তের মানুষ ও শিষ্যদের পরিবার উপস্থিত হন এই আশ্রমে। সুন্দর পরিবেশে গড়ে ওঠা উৎসবের রেশ দশমীর পরও বাড়ি পর্যন্ত বয়ে নিয়ে যান তাঁরা। এবার সেই পরম্পরায় ছেদ টেনেছে কোভিড-১৯

পুরুলিয়া জেলা সদর শহর হলেও পূর্ব প্রান্তে আট দশক আগে পর্যন্ত জনপদ ছিল না। সেই সময় নিরিবিলি নির্জন এলাকাতে এসে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন দৈব পুরুষ শ্রী শ্রী সচিদানন্দ। কয়েক জন শিষ্যকে নিয়ে গড়ে তোলেন আশ্রম। বাংলা ১৩৫৫ সালে ১৯ কার্তিক আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সেই থেকে ধীরে ধীরে জনবসতি গড়ে উঠে ওই এলাকায়। ওই এলাকার নাম হয়ে যায় সাধু ডাঙা। আশ্রম প্রতিষ্ঠা বছরেই ঘট দিয়ে দেবী দুর্গাপুজোর সূচনা করেন সচিদানন্দ। পরের বছর থেকে মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ে পুজো হয়। সাবেকি মূর্তি গড়া শুরু হয় রথযাত্রার দিন থেকেই।

আরও পড়ুন:বিতর্কিত চিঠির জের, সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরানো হল কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদকে

কালী, শিব সহ বিভিন্ন দেব-দেবীর পুজো হয় এখানে। কৃষ্ণা নবমী থেকে পুজোর সূচনা হয়ে যায়। ওই দিন থেকে প্রদীপ প্রজ্বলিত থাকে ঠাকুর দালানে। মন্দিরের পাশেই বেল গাছের তলায় মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যের সময় পুজো হয়। পর দিন সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ। অষ্টমী, সন্ধিক্ষণ, নবমী এবং বিজয়া দশমীতে পুজোর আয়োজনে শিষ্যরা সহযোগিতা করে থাকেন। শত শত ভক্ত তাঁদের শ্রদ্ধা ভক্তি উজাড় করে পুজোতে মনোনিবেশ করেন। সু-শৃঙ্খলভাবে মায়ের পুজো ও প্রসাদ বিতরণ হয়ে যায়। চার দিন ধরে কয়েক’শো শিষ্য ও তাঁদের পরিবার তিন বেলা পাত পেড়ে খান। ভোজনে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বিজয়ার দিন ঘট বিসর্জন হলেও মায়ের মূর্তি থেকেই যায়। বিসর্জন হয় অষ্টমঙ্গলার পুজোর পরে। এটাই এখানের পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট বলে জানান আশ্রমিক অহনা ব্যানার্জি।

…………………………………

Related Articles

Back to top button
Close