fbpx
কলকাতাহেডলাইন

‘দুর্গাপুজো ঘরে বসে হয় না’, উত্‍সব নিয়ে সমালোচনার জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা আবহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজোর ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর জেরে হাইকোর্টের ভর্ত্‍সনার মুখে পড়েও দুর্গাপুজো নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে ১১০টি পুজোর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘দুর্গাপুজো ঘরে বসে হয় না।’

দোরগোরায় দুর্গা পুজো। বারোয়ারি পুজোগুলোকে পঞ্চাশ হাজার করে উত্‍সবের অনুদান দেওয়ারও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অতিমারীতে মমতা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। অনুদান সংক্রান্ত মামলায় ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখোমুখি রাজ্য। কিন্তু, তাতেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানালেন, ‘পুজো আবার ঘরে বসে হয় নাকি? দুর্গা পুজো বন্ধ করা ঠিক নয়।’ একই সঙ্গে উত্‍সবে কোভিড নিয়মবিধি মেনে চলার জন্যও রাজ্যবাসীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন মমতা।

নবান্নে ভার্চুয়াল পুজো উদ্বোধন অুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘রমজান, ঈদ,গণেশ পুজো বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে হয়েছিল।। কিন্তু, মা দুর্গার বড় সংসার। তাই পুজো ওইটুকুনি জায়গার মধ্যে করা অসম্ভব। দুর্গা পুজো বারোয়ারি। বেশিরভাগ পুজোই করে ক্লাব-কমিটি। বাড়ির পুজো খুব কম হয়। তাই অন্যসব রাজ্যের মতো বাংলায় পুরোপুরি পুজো বন্ধ করে দেওয়া অসম্ভব ব্যাপার। আমরা (রাজ্য সরকার) পুজো বন্ধ করতে চাই না, এটা ঠিক নয়।।’

উত্‍সবের পাঁচ দিন করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে আগেই আবেদন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেনাকাট করতে ভিড়ে যেতে বা মণ্ডপে গিয়ে ভিড় না বাড়ানোর কথা বলেছিলেন তিনি। আবার একই সঙ্গে শিল্পীদের কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট বিধি মেনে ছাড় দেওয়া হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। এ দিনও বাংলার উত্‍সব প্রিয় মানুষ ও পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘প্রটোকল অবশ্যই মানতে হবে। ক্লাব-কমিটিগুলোর এতে বড় দায়িত্ব রয়েছে। পুজোর পর যাতে সংক্রমিতের সংখ্যা না বাড়ে সেদিকে ধ্যান দিতে হবে। সবাই মাস্ক পড়ুন, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন।’

আরও পড়ুন: সঙ্কট না কাটলেও, সুস্থতার পথে ফেলুদা

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দুর্গাপুজো আয়োজন নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারকে ভর্ত্‍সনা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘দুর্গাপুজোয় ৫০,০০০ সরকারি অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় তো?’ বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, ‘যেখানে সংক্রমণের আশঙ্কায় স্কুল, কলেজ পর্যন্ত খোলা হল না, সেখানে কীভাবে দুর্গাপুজোর আয়োজন হচ্ছে?’ আদালতের কোনও প্রশ্নেরই জবাব দিতে পারেননি অ্যাডভোকেট জেনারেল। তাঁকে শুক্রবারের মধ্যে আদালতে লিখিত জবাব পেশ করতে বলেছেন বিচারপতিরা।

এদিকে, প্রতি বছর বিজয়া দশমিতে উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে ইছামতি নদীতে দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জন হয়। একযোগে ভাসান হয় দুই বাংলার প্রতিমার। এই দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর দশমিতে টাকিতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। এবার করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সেই ভাসান হবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। বৃহস্পতিবার সেই আশঙ্কা কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, শান্তিপূর্নভাবে ইছামতীতে দুই বাংলার বিসর্জন করা যাবে। দেখভালের দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় পুজো কমিটি আর পুলিশ।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close