fbpx
অন্যান্যকলকাতাহেডলাইন

থিমের রঙে শারোদৎসব……

অরিজিৎ মৈত্র: পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসন্ন দুর্গাপুজোয় ঘটতে চলেছে হরেকরকম বদল। ফি বছরের মত এবারে আর পাড়ায় পাড়ায় দেখা যাবে না থিমের রমরমা। বেশিরভাগ বারোয়ারির পুজোর উদ্যোক্তারা নমো নমো করেই পুজো সারবে। তবুও এই ব্যতিক্রমী শারোদৎসবে থিম যে একদম থাকছে না, এমন নয়। কলকাতার একাধিক সর্বজনীন পুজোমণ্ডপ থিমের ভিত্তিতে তৈরি হবে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, হাতে গোনা কয়েকটি সর্বজনীনে ইতিমধ্যে থিমের কাজও শুরু হয়ে গেছে। মণ্ডপ, প্রতিমা এবং আলোকসজ্জায় থাকছে থিমের ছোঁয়া। এবার একবার দেখে নেওয়া যাক কলকাতার কোন কোন বারোয়ারির পুজোমণ্ডপে থিমকে কেন্দ্র করে দেবী আরাধনা হবে।

বেহালা নতুন সংঘের দুর্গাপ্রতিমা
(ফাইল চিত্র)

উত্তর হীরকজয়ন্তী বর্ষে বেহালার ‘নতুন সংঘ’-এর ভাবনা ‘যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক, আমি তোমায় ছাড়ব না মা’। সমগ্র রূপায়ণে থাকছেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সনাতন দিন্দা। দক্ষিণ কলকাতার ‘হিন্দুস্থান পার্ক সার্বজনীন’-এর এবারের ভাবনা ‘মানত’। সৃজনে রিন্টু দাস। কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা হাজরা মোড়ের যতীন দাস পার্কের কলকাতা পৌরকর্মচারী সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির থিমের নাম ‘সহজিয়া। হাজরা পার্কের ভাবনা ও পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করে তুলবেন কৃশানু পাল। উত্তর কলকাতার কুমোরপাড়ার জনপ্রিয় পুজো ‘কুমারটুলি সর্বজনীন দুর্গোৎসব এখানকার প্রতিমাশিল্পী অরূপ পাল। এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ডা. শশী পাঁজা।

টালা পার্ক প্রত্যয়

শহরের উত্তরে হালসীবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবও সেজে উঠবে থিমে। এখানে সমগ্র পরিকল্পনায় রয়েছেন সম্রাট ভট্টাচার্য। আবহসংগীত তৈরি করছেন সৈকত দেব। গত কয়েক বছর ধরে উত্তরের টালা পার্ক প্রত্যয় থিমের নানা রূপকে সাজিয়ে উপস্থিত করছেন দর্শনার্থীদের সামনে। এবারে তাদের বিষয় ‘কল্পলোক এবার লোকহিত’। ভাবনায় রয়েছেন সুশান্ত পাল। দক্ষিণের যোধপুর পার্ক শারদীয়া উৎসব কমিটির উদ্যোক্তারা মায়ের ঘোটকে আগমনের কথা মাথায় রেখে সাজিয়েছেন তাদের এ বছরের থিম। শিল্পী বাপাই সেন বিষয়ের নাম দিয়েছেন দুর্গারথ। এরই লাগোয়া প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের ওপর তালতলার মাঠেও থিম প্রাধান্য পাচ্ছে। এখানে পল্লিমঙ্গল সমিতির ভাবনাকে রূপ দেবেন বিভাস মুখার্জি ও সনাতন পাল।

কাঁকুরগাছি মিতালী সংঘ

দক্ষিণ থেকে আবার চলে যাই উত্তরে। ক্লাবের ৮৫ তম বর্ষে কাঁকুড়গাছি মিতালী সংঘ এবারের দেবী আরাধনা করবেন ‘প্রথম আদি তব শক্তি’ বিষয়কে ভিত্তি করে। সৃজনে সিদ্ধার্থ বিশ্বাস। এখানকার প্রতিমাশিল্পী সনাতন পাল। আজও বাংলায় ‘ধর্মঘট’ শব্দটি শুনলে অতীতের কথা মনে পড়ে, যখন কারণে-অকারণে রাজনৈতিক দলগুলি হরতাল বা ধর্মঘট ডেকে বসত কিন্তু আলিপুর ৭৮ পল্লি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের ধর্মঘট আলাদা বার্তা বহন করছে। পুজো পরিচালনয় গোপালনগর কল্যাণ সংঘ। ধর্মঘটের সমগ্র পরিকল্পনায় থাকছেন অভিজিৎ ঘটক। আবহ-গৌতম ব্রহ্ম (জোয়ার। এই পুজোর চেয়ারম্যান কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। ভারতচক্র আয়োজিত পুজোর বিজ্ঞাপন দেখলে মনে হবে বোধহয় বিশম্ভর রায়ের জলসাঘরে এসে পড়েছ। এখানে থিমের বিষয়বস্তুর নাম ‘অনির্বাণ’।

চোরবাগান…

শ্যামা পল্লির শ্যামা সংঘ শ্যামাপুজো করবে কিনা জানি না তবে তাদের দুর্গাপুজোর থিম ‘উষা’। এখানকার পরিকল্পনাতেও রয়েছেন শিল্পী অভিজিৎ ঘটক। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি ২০২০ সালের অশান্ত বছরে থিমপুজো করতে গিয়ে আশ্রয় করেছেন রবীন্দ্রনাথকে। তারা বলতে চাইছেন ‘দে খুলে দে পাল তুলে দে যা হয় হবে বাঁচি মরি’। এখানে রবীন্দ্রআশ্রিত বিষয়ের নাম ‘ জয় মা বলে ভাসা তরী’। আন্তরিকতার পুজো মানবিকতার উৎসব করতে চলেছে বেহালা নতুন দল। পরিকল্পনায় বিশ্বনাথ দে। উল্টোডাঙার অরবিন্দ সেতু সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় থিমের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাবে রায়মশাইকে। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে তাদের নিবেদন ‘পাঁচালীর দুগ্গা’।

শহর জুড়ে যখন পুজোয় ডিজিটাল ঢাক বাজানোর চিন্তা-ভাবনা করছেন উদ্যোক্তারা তখন উল্টোডাঙা সংগ্রামী মাকে বরণ করবে ঢাকের তালে। বেহালার বরিশা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি সবার উদ্দেশ্য বলতে চাইছে ‘নীরব হয়ে দেখবে যত, শিহরণ জাগবে তত।’ ৭২ তম বর্ষে তারা শেষ পর্যন্ত কী চমক দিতে চলেছেন সেটা দেখতে গেলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। শতবর্ষের প্রাচীন পুজো টালা বারোযারি। ১০০ তম পুজোয় তারা খুঁজছেন উত্তরের উত্তর। ‘শুভা শুভ’, অশুভের ওপর শুভকে প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প করেছেন শিল্পী দীপাঞ্জন দে হরিদেবপুর অজয় সংঘের পুজো প্রাঙ্গণে। এখানে প্রতিমা নির্মাণ করছেন রাজেশ মণ্ডল। গ্রাফিক্সে রত্নদীপ প্রামানিক। এবার কলকাতার বন্দর এলাকা খিদিরপুর ৫ পল্লির স্থির বিশ্বাস মায়ের আর্শীবাদে সব বিপদ দূরে সরে যাবে। বিপন্মুক্ত নতুন সকালের সূর্য উদয় হবে। ‘বাধা পেরিয়ে মা আসবেন’ বিষযকে রূপ দেবেন শিল্পী প্রদীপ্ত পাল।

Related Articles

Back to top button
Close