fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হতদরিদ্র শ্রমিকদের শুরু করা দিনহাটার মহামায়া পাটের দুর্গাপুজো শতবর্ষের আলোকে উজ্জ্বল, শুরু প্রস্তুতি

জেলা প্রতিনিধি, দিনহাটা: শতবর্ষ প্রাচীন দিনহাটার মা মহামায়া পাটের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হল। প্রতি বছর রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজার মধ্যে দিয়ে প্রস্তুতি শুরু হলেও এবছর করোনা আবহে লকডাউনের ফলে শুক্ল পক্ষ্যের অষ্টমি তিথিতে বৃহস্পতিবার প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রাচীন কাল থেকেই তিথি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুজো শুরু হয়ে থাকে। এই পুজো বাসিন্দাদের কাছে বড়মা বলেই পরিচিত।

এবছর এই পুজো ১৩০তম বর্ষ বলে মহামায়া পাট মন্দির কমিটির সম্পাদক কালীপদ পাল, সভাপতি মানিক বৈদ্ জানান। প্রাচীন এই পুজোর এদিন প্রস্তুতি শুরু হলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির বিভুরঞ্জন সাহা, দিলীপ দে, রামকৃষ্ণ সাহা, দিলীপ রায়, গৌতম সাহা প্রমুখদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা।

এদিন মন্দির প্রাঙ্গণে কাঠামো পুজো শুরু হলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক কালীপদ পাল, বিভুরঞ্জন সরকার, মানিক বৈদ, ভোলা পোদ্দার, দিলীপ রায় প্রমূখ। এবছর করোনা আবহের ফলে দেবীর কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি শুরু হল। প্রতিবছর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত প্রাণ গোপাল চক্রবর্তী পুজোর দায়িত্ব সামলালেও তাঁর প্রয়াণের পর এ বছর কৃষ্ণপদ চক্রবর্তী প্রধান পুরোহিত হিসাবে পুজো পরিচালনা করবেন। দিনহাটার এই পুজো বাসিন্দাদের কাছে আলাদা এক অনুভূতি। এ বছর এই পুজো ১৩০ তম বর্ষ বলে মহামায়া পাট মন্দির কমিটির কালীপদ পাল, বিভুরঞ্জন সাহা প্রমূখ জানান। প্রাচীন এই পুজোয় এদিন শুরু হয় প্রস্তুতি।

দিনহাটার মহামায়া পাটের দুর্গা স্বয়ং দশভূজা। এদিন পূজাকে ঘিরে মন্দিরে পুজো উদ্যোক্তা ও মন্দিরের কমিটির সদস্যরা ছাড়াও ভক্ত প্রাণ মানুষের ভিড় ছিল যথেষ্ঠ। মহামায়া পার্ট মন্দির কমিটির অন্যতম কর্তা কালিপদ পাল, বিভূরঞ্জন সাহা জানান, প্রাচীন প্রথা মেনে প্রতিবছর রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। এবছর করোনা আবহের জন্য শুক্লপক্ষে অষ্টমী তিথিতে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। বাহ্যিক জাঁকজমক না থাকলেও নিষ্ঠা ও ভক্তি এই পুজোর মূল বৈশিষ্ট্য।

মহামায়া পাট মন্দির সূত্রে জানা গেছে, শতবর্ষ প্রাচীন এই পুজোয় পুরনো রীতি মেনেই রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। হতদরিদ্র শ্রমিকদের শুরু করা এই পুজো এখন দিনহাটা ঐতিহ্যবাহী পরিণত হয়েছে। শুরুতে পাথরে পুজো শুরু হলেও ধীরে ধীরে মন্দির গড়ে ওঠে। জানা গেছে, হাজার ১৮৯১ সালে কোচবিহারের মহারাজার উদ্যোগে ডুয়ার্সের জায়গা থেকে বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর পর্যন্ত রেল যোগাযোগের জন্য রেল লাইন পাতার কাজ চলছিল। সেই কাজ চলাকালীন বামনহাট সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় এক শ্রমিক গোলাকার একটি পাথরের টুকরো করে পেয়েছিল। তার মধ্যে দেবী দুর্গার অববয় খুঁজে পান ওই শ্রমিক। প্রবীণদের মতে স্বপ্নাদেশ অনুসারে সেই শিলাকে প্রতিষ্ঠা করে তখন থেকেই শ্রদ্ধা ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারে পুজো শুরু করেন শ্রমিকরা। হতদরিদ্র শ্রমিকদের চালু করা এই পুজোয় আজ বড় মা’র পুজো বলে পরিচিত হয়ে উঠেছে। দিনহাটা মহকুমার বাসিন্দাদের কাছে বড়মা বলেই পরিচিত শতবর্ষ প্রাচীন মা মহামায়া পাটের দুর্গা। হত দরিদ্র শ্রমিকদের শুরু করা এই এই পুজো এখন দিনহাটার ঐতিহ্যবাহী পুজোতে পরিণত হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close