fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

প্রবল বিস্ফোরণে কাঁপল দুর্গাপুর, মৃত ১, আহত ১

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: প্রবল বিস্ফোরণে কাঁপল শিল্পশহর দুর্গাপুর। মঙ্গলবার রাজ্যের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেড (ডিপিএল) বিস্ফোরণে এক ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু হল। আহত হয়েছে একজন নিরাপত্তারক্ষী। ডিপিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম ওমপ্রকাশ চৌহান (৩৪)। তিনি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শালবাগান এলাকায় থাকেন। দুদিন পর বাঁকুড়ায় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসছেন। আর তার আগে এধরনের বিস্ফোরণে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিএমএস ও ইনটাক।

ঘটনায় জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১ টা নাগাদ ওই দু’জন অস্থায়ীকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষী ডিপিএল-এর ৭ নম্বর কনস্ট্রাকশন গেটের কাছে স্ক্র্যাপ পয়েন্টে জঙ্গল পরিস্কারের কাজ করছিল। ওই সময় হঠাৎই প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে ওই এলাকা কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় আশপাশের কর্মীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিরাপত্তারক্ষীর নজরের পড়ে ওই এলাকায় ওমপ্রকাশ বাবুর রক্তাক্ত ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে রয়েছে। অপর একজন বাম রুইদাস রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল, ওই এলাকার নিরাপত্তারক্ষীর অফিসের কাঁচের জানালা ভেঙে পড়ে। জখম এক নিরাপত্তারক্ষীর শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে ৫০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। তাঁর শরীর বিস্ফোরণ স্থল থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরত্বে পড়ে। ঘটনাস্থলের একটি আমগাছের ওপরে রক্ত ও জামাপ্যান্ট গিয়ে পড়ে। এলাকার বেশকয়েকটি গাছের পাতা ঝলসে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুুর্গাপুর কোকওভেন থানার পুলিশ ও বম্বস্কোয়াড। পৌঁছায় ডিপিএলের আধিকারিকরা ও স্থানীয় বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। ঘটনাস্থলে কিছু নমুনা সংগ্রহ করে বম্বস্কোয়াড।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিপিএল কারখানা ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, দুদিন পর বাঁকড়ায় দলীয় কর্মসূচীতে যোগ দিতে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র অমিত শাহ। তার আগে পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুরে এধরনের বিস্ফোরণে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল বলেন, “বিস্ফোরণের তীব্রতা মারাত্মক ছিল অস্বীকার করা যায় না। ডিপিএলের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, ইলেক্ট্রিক শর্ট সার্কিট নয়। তাহলে বিস্ফোরক থাকতে পারে। বিস্ফোরক কিভাবে এসেছে, নিরাপত্তা গাফিলাতি রয়েছে কিনা তার উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করা দরকার।”

কারখানার বিএমএস শ্রমিক সংগঠনের অসীম প্রামানিক বলেন, “৭ নম্বর গেটের কাছে স্ক্র্যাপ পয়েন্ট করা হয়েছে। ওই এলাকায় স্ক্র্যাপ পয়েন্ট ছিল না ডিপিএল-এর। দুষ্কৃতিদের চুরি করার সুবিধার্থে পয়েন্টটি করা হয়েছে। সেখানে বিস্ফোরক কি করে এসেছে? তাই আমরা এনআইএ তদন্তের দাবি করছি।” কারখানার কংগ্রেস শ্রমিক নেতা উমাপদ দাস বলেন, “চল্লিশ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম। কোকওভেন প্ল্যান্ট চালু থাকলে হয়তো দুর্গাপুর ধ্বংস হয়ে যেত। নিরাপত্তারক্ষী থাকার পরেও কারখানা চত্বরে বিস্ফোরক কিভাবে আসলো? আমরা বিদ্যুৎমন্ত্রীকে জানিয়েছি। ঘটনার জন্য ডিপিএল-এর নিরাপত্তারক্ষীর প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছি।”

ডিপিএল-এর জিএম গোপীনাথ মাজি বলেন, “কিভাবে বিস্ফোরণ হয়েছে পুলিশকে তদন্তের জন্য জানানো হয়েছে।” ডিপিএল -এর জনসংযোগ আধিকারিক স্বাগতা মিত্র বলেন, শর্টসার্কিটের কারণে বিস্ফোরণ হয়নি। তদন্তের জন্য তিনজনের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের রিপোট জমা দেওয়ার পর জানা যাবে সঠিক ঘটনা।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাঁকসা এসিপি অক্সত গর্গ। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে কোনও ক্যামিক্যাল এখানে এসেছিল। তবে এখনই নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাবে না।”

Related Articles

Back to top button
Close