fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চিচিংফাক, রক্ষনাবেক্ষন শিকেয়, দুর্গাপুরে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত এইচএফসির আবাসন ভেঙে অবাধে ইট চুরি

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: দরজা-জানলা বৈদুতিক সামগ্রী আগেই চুরি গিয়েছিল। ঢালাই ভেঙে রডটুকুও চুরি হয়েছে। অবশিষ্ট পড়ে থাকা আবাসনের দেওয়াল গেল এবার দুষ্কৃতীদের খপ্পরে। দেওয়াল ভেঙে অবাধে চলছে ইট চুরি। এমনই নজিরবীহিন ঘটনাটি দুর্গাপুরে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এইচএফসি কলোনীতে। প্রকাশ্য দিবালোকে আবাসনের দেওয়াল ভেঙে অবাধে ইট চুরি চলছে। ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে শিল্পশহরজুড়ে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে ইতালিয়ান প্রযুক্তিতে প্রায় সাড়ে ৫ ‘শ একর জমির ওপর তৈরী হয় হিন্দুস্থান ফার্টিলাইজার কারখানা। জানা গেছে ওই সময় দুর্গাপুর নোটিফায়েড এরিয়া ছিল। সার কারখানা ও আনুসঙ্গিক কারখানা তৈরীর জন্য হাজার একর জমি চাওয়া হয়েছিল। শ্রমিকদের আবাসনের জন্য ২৪৫ একর জমি দিয়েছিল। যেখানে ১০৪০ টি আবাসন,ও  স্কুল হাসপাতাল রয়েছে। কারখানাটির উদ্বোধন করেন প্রয়াত তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী।

১৯৭৩ সালে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়। মুলত ন্যাপথা বেস কারখানা। কর্মীসংখ্যা ছিল প্রায় ১২০০। কিন্তু  কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি টনে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে ২০ বছরের মধ্যে ১৯৯২ সালে কারখানাটি বিআইএফআরে চলে যায়। এবং কর্মিদের ভিএসএস দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে কোলবেড মিথেন পাওয়ার পর একবার পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তা অচিরে থমকে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ আবাসন ভুতুড়ে বাড়ীতে পরিনত হয়েছে। শ’খানেক শ্রমিক পরিবার বসবাস করে আবাসনগুলিতে। বাকি আবাসনগুলিতে  সমাজবিরোধীদের আঁখড়ায় পরিনত হয়েছে। দরজা, জানলা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম অনেক অগেই চুরি গিয়েছে। এমনকি ছাদের ঢালাই চাদর ভেঙে রডটুকুও চুরি গেছে। পড়ে রয়েছে ইটের দেওয়াল।

তবে লকডাউনের কয়েকমাস ওই দেওয়ালের ইটও চলে যাচ্ছে দুস্কৃতীদের খপ্পরে। দিন দুপুরে ইটের দেওয়াল ভেঙে অবাধে চলছে ইট বের করার কাজ। তারপর ট্রাক্টরে করে ওই ইট গ্রামে শহরে বিক্রি হচ্ছে। ইটগুলি শক্ত ও মজবুত থাকায় সস্তায় অনায়সে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রশ্ন উঠেছে এখানেই। বন্ধ কারখানার খোলার দাবীতে যখন শ্রমিক সংগঠন থেকে বিরোধীদলগুলি সরব। তখন রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে জাতীয় ওইসব সম্পত্তি কিভাবে দিনদুপুর চুরি যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তায়। শ্রমিক নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায়। একরাশ ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন,” বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার রক্ষনাবেক্ষনের দায় রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারের। কারখানার সম্পত্তি চুরি বন্ধ হওয়া দরকার।”  এবিষয়ে সংস্থার দুর্গাপুর ইনচার্জ গৌতম বিশ্বাস জানান,” বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।”

Related Articles

Back to top button
Close