fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দুর্গাপুর… লকগেট ভেঙে বিপত্তি…জলশূন্য ব্যারেজ, জলাধারে মাছ না থাকায় কর্মহীন মৎস্যজীবীরা

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: দামোদর নদের ওপর দুর্গাপুর ব্যারেজের লকগেট ভেঙে বিপত্তি ঘটে। ফলে হু হু করে বেরিয়ে পড়ে জলাধার জল। জলশূন্য হয়ে পড়ে হয় ব্যারেজ। আর তাতে ব্যারেজে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জলের স্রোতে দামোদর নিম্ন তীরবর্তী এলাকায় নেমে যায়। জলাধারে আবাসিক মাছ চলে যাওয়ায় নতুন করে ওই মাছের প্রজনন হওয়ার আশা যেমন নেই, তেমনই নতুন করে মাছের চারা ছাড়া হলে তা বড় হতে সময় সাপেক্ষ্য। জলাধারে মাছ থাকায় একপ্রকার কর্মহীন মৎস্যজীবীরা। চরম জীবিকা সংকটে পড়েছেন তারা। ব্যারেজ সংলগ্ন দুর্গাপুর অন্ডাল, আশীষনগর, বড়জোড়া এলাকায় প্রায় ১ হাজার মৎস্যজীবী রয়েছে। তাদের জীবন জীবিকা ব্যারেজের ওপর নির্ভর।

মৎস্যজীবীরা জানান, ‘ব্যারেজে লাভজনক মাছ মূলত বোয়াল, আড়, শোল, বান, বাটা, চিংড়ি। ওইসব মাছ আবাসিক। ব্যারেজে প্রজনন হত। এখন ওইসব মাছের বংশবৃদ্ধি হবে না। নতুন করে মাছ ছাড়লে তা বড় হতে ৬মাস থেকে ১ বছর সময় লাগবে। ততদিন আমাদের আয়ের কোন উৎস নেই। বেঁচে থাকার রসদ খুঁজতে বিকল্প কাজ ছাড়া উপায় নেই। চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা।” এমনকী ওই সব মৎস্যজীবীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও তিন হাজার পরিবার জড়িয়ে। যেমন আড়তদার, ট্রান্সপোটার, ভ্যান রিক্সা চালক, খুচরো বিক্রেতা। একই সঙ্গে সঙ্কটে পড়েছে তারাও।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর দুর্গাপুর ব্যারেজের ১ নং লকগেট বিপর্যয় হয়। তখনও জলশূন্য করা হয় ব্যারেজ। ফলে ওই সময় প্রচুর মাছ জলের স্রোতে চলে যায়। তখনও প্রায় কোটি টাকার মাছ জলস্রোতে গিয়েছিল বলে দাবি মৎস্যজীবীদের।। শুধু তাই নয় ওইসময় ব্যারেজের বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়েছিল। নষ্ট হয়েছিল ব্যারেজের বহু জলজ জীব। প্রচুর আবাসিক মাছ। তারপর তিনবছর পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় ৩১ অক্টোবর। যার দরুণ একইরকমভাবে জলস্রোতে নেমে যায় ব্যারেজের মাছ। ফলে একই সঙ্কটের মুখে ব্যারেজের জীব বৈচিত্র্য।

আরও পড়ুন: উপসর্গ থাকলেই রোগীদের সেফ হোমে চলে আসার পরামর্শ ফিরহাদের

জেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ লকগেট বিপর্যয়ের পর বিশেষ প্রকল্পে পরের বছর ৭ লক্ষ ২০ হাজার মাছ ছাড়া হয়েছিল। ৩-৫ ইঞ্চি মাপের চারা মাছ দুর্গাপুর ও অন্ডাল মিলিয়ে চারটি জায়গায় ছাড়া হয়েছিল। এছাড়াও ২০১৯ অর্থ বছর ৬০ হাজার চারা মাছ ছাড়া হয়েছিল। ওইসব মাছ একবছরে কমপক্ষে ৫০০-৭৫০ গ্রাম ওজনের হওয়া স্বাভাবিক। এছাড়াও বর্ষার জলস্রোতে বিভিন্ন পুকুর জলাশয় থেকেও নানান মাছে ঢোকে ব্যারেজে। আবার ব্যারেজেই পুরনো মাছ প্রজনন হয়। স্বাভাবিকভাবে এদিন ব্যারেজ জলশূন্য হওয়া লোকসান যেমন হয়েছে। তেমনই করোনা আবহে নতুন করে বিপাকে পড়েছে ব্যারেজের মৎস্যজীবীরা। নতুন করে মাছ ছাড়া হলেও ওই মাছ বড় হতে ৬ মাস থেকে ১ বছর লাগবে। ততদিন আপাতত একপ্রকার কর্মহীন মৎস্যজীবীরা। পশ্চিম বর্ধমান জেলা মৎস্য আধিকারিক অভিজিৎ ব্যানার্জি জানান, ‘ব্যারেজ জলশূন্য হওয়া মাছ নেমেছে। ওই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন করে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আরও মাছ ছাড়া হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close