fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউন: কোটি কোটি টাকার লেনদেন বন্ধ কোলাঘাট হোসিয়ারী শিল্পে

বাবলু ব্যানার্জি, কোলাঘাট: মে জুন মাস, এই সময় থেকেই হোসিয়ারী শিল্পের রমরমা শুরু হয়ে যায় বাঙালির বড় পুজোকে সামনে রেখে। কিন্তু এবছর লক ডাউন থাকায় সেই রমরমা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট ব্লকে। লকডাউন প্রায় দু মাস অতিক্রান্ত কোটি কোটি টাকার লেনদেনের ব্যবসায় ধাক্কা সামলাতে যে বেশ সময় লাগবে হোসিযারী শিল্পের মালিকদের কথাবার্তার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

 

 

কলকাতার বিভিন্ন স্থানে এই হোসিয়ারী কারখানা চালাত এই এলাকার মালিকরা, কলকাতার নানাবিধ সমস্যা থাকায় বেশ কয়েক বছর আগে কোলাঘাট ব্লকের বিভিন্ন স্থানে কারখানা আরম্ভ করে মালিকরা। অন্যান্য বছর এই ব্যবসা এই সময় রমরমিয়ে চললেও এবছর কিন্তু দেখা যাচ্ছে না,কারণটা একটাই মরণ করোনা ভাইরাস এর জন্য। সরকার লকডাউন ঘোষণা করায় নেই সকাল বিকালে কারখানাগুলোতে কারিগরদের আনাগোনা, নেই কলকাতা থেকে কাঁচামাল আনার ক্ষেত্রে ব্লক জুড়ে ছোট বড় গাড়ির যাতায়াত, নেই এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের অবসর সময়ে হৈ-হুল্লোড় এর ব্যস্ততা পথে-ঘাটে।

এই ব্লকে প্রায় ৫০০টির মতো গেঞ্জি জাঙ্গিয়ার এর কারখানা রয়েছে,এর সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার কারিগর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এখন এরা প্রত্যেকেই কর্মহীন,বাধ্য হয়ে কেউ সবজি ব্যবসা, কেউ মাছের ব্যবসা, কেউ কৃষিকাজে মন দিয়েছে। কারিগরদের সঙ্গে কথা বলা হলে তাদের আক্ষেপের সুর একটাই আগামী দিনে তাদের সংসার চলবে কেমন করে জানা নেই,কবে এই মরন ভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়ে কারখানার কাজ শুরু হবে তাও জানা নেই।

 

 

আক্ষেপের সুর এই কাজ করেই তাদের সংসার চলে। তিল তিল করে যে অর্থ বাঁচে সেই অর্থ দিয়ে বউ ছেলে মেয়েদের পুজোর সময় জামা কাপড় কিনে দিতাম,কিন্তু এবার পুজোয় কেমন করে ছেলেমেয়েদের আবদার পূরণ করব সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। তাছাড়া সারা বছর কাজের উপর নির্ভর করে মালিকরা যে বোনাস দিত তাও এবারে পাওয়া যাবে কিনা এখন মনের মধ্যে সংশয় শুরু হয়েছে।

 

 

হোসিয়ারী মালিক পক্ষ থেকে বলা হয়, আমূল, লাক্স, ডোনার, রুপা,সিদ্ধেশ্বরী ,ভিআইপি সহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি কলকাতা থেকে কাঁচামাল পাঠাতো।বর্তমানে লকডাউন থাকায় কোম্পানীগুলো সমস্যার মধ্যে পড়েছে, কাঁচামাল পাঠাতে পারছেনা। স্বভাবতই কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। কারিগরদের কাজ দিতে পারা যাচ্ছে না। তবে সরকারপক্ষ গ্রামীণ এলাকার ছোট ছোট শিল্প কারখানায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিছুটা শিথিলতা করলেও আগামী দিনে কিভাবে তাদের এই ব্যবসাকে পুনরায় নতুন করে রূপ দেবে এবং যে অর্থনৈতিক ধাক্কা তাকে সামাল দিয়ে পূর্বের ন্যায় ব্যবসা শুরু করবে এখন সেটাই দেখার। তবে সামনে পুজো আসছে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা তা সামাল দেওয়া খুবই কষ্টকর বলে মালিক পক্ষের বক্তব্য।

 

বেঙ্গল হোসিয়ারী টেলার্সের কোলাঘাট ব্লক শাখার সম্পাদক ও সভাপতি গণেশ কান্ডার ও প্রণব নায়েক বলেন বর্তমানে যে অচলাবস্থা চলছে তাকে সচল করার প্রক্রিয়া সদ্য শুরু হলেও পাকাপোক্তভাবে কাজে ফিরে আসা সময় লাগবে। করোনা আতঙ্কের মধ্যে সরকারের নিয়ম অনুসারে কাজ করতে গেলে বহুবিধ সমস্যা দেখা দেবে আগামী দিনে বলে জানান দুই নেতা।

Related Articles

Back to top button
Close