fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চিন সীমান্তে সংঘাতের জের, পান্ডবেশ্বরে ইসিএলের অনিশ্চিত হয়ে পড়ল মহার্ঘ্য প্রকল্পের কাজ

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে জব্বর ধাক্কা পড়েছিল। এবার সীমান্ত সংঘাতের জেরে বেসামাল খনিঅঞ্চলের মাটির তলার একটি মহার্ঘ্য প্রকল্প। চিনা প্রযুক্তির যন্ত্র পৌঁছালেও বিশেষজ্ঞরা আসার অনুমতি না পাওয়ায় থমকে রয়েছে প্রকল্পের কাজ। যা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের(ইসিএলের) প্রায় ১২৭ কোটি টাকার প্রযুক্তি বিন্যাসের একটি কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার জেরে কয়লা উৎপাদনের লক্ষমাত্রায় পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএলের) লাভজনক খোট্টাডিহি কোলিয়ারি। ওই কোলিয়ারির কয়লা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে খনিটির প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে জোর দেয় কোল ইন্ডিয়া। সেখানে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খনিতে “কন্টিনিউয়াস মাইনার” নামে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মতো চিনের একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে ইসিএল। চিনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হয় এ রাজ্যের একটি বেসরকারি সংস্থার মারফৎ।

জানা গেছে, প্রকল্পের খরচ প্রায় ১২৭ কোটি টাকা। ওই মেশিনে বছরে ৬ লক্ষ টন কয়লা উৎপাদন হত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মেশিন না বসায় ওই উৎপাদন হাত ফসকে যায় রাষ্ট্রায়ত্ত খনি সংস্থার। খনি সংস্থা সুত্রে জানা গেছে, এক দেশীয় সংস্থা সর্বনিম্ন দরে কন্টিনিউয়াস মাইনার যন্ত্র সরবরাহ অঙ্গীকার করে ২০১৭ র ২৬ এপ্রিল মাসে। গোটা প্রক্রিয়াটিতে যন্ত্র বসানোর কাজ ২০১৯ র আগস্ট মাসে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গোড়া থেকেই পিছিয়ে যায় মেশিন বসানোর কাজ। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ডিসেম্বর- জানুয়ারী মাসে চিনের সংস্থাটি কন্টিনিউয়াস মাইনার যন্ত্র গুলি সমুদ্র পথে ভারতে পাঠানোর শুরু করে।

পান্ডবেশ্বর এরিয়া সুত্রে জানা গেছে, খনির মাটির নিচে আর-৪ ও আর- ৬ সিম দুটিতে “কন্টিনিউয়াস মাইনার” বসবে। প্রথম পর্বের কিছু অংশ এসেছিল। দ্বিতীয় অংশের যন্ত্রপাতি করোনাভাইরাস দরুন পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি সমস্ত যন্ত্রাংশ এখানে পৌঁছে গেছে। কিন্তু চিন সীমান্তে সংঘাতের জেরে যন্ত্র বসানোর চিনা বিশেষজ্ঞরা এখন এদেশে আসার অনুমতি পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরী হয়েছে। ফলে খোট্টাডিহি প্রকল্পে যন্ত্র বসানোর কাজ শুরু করা যায়নি।

জানা গেছে, পান্ডবেশ্বর এরিয়ার চলতি অর্থ বছরে ৩১ লক্ষ টন লক্ষমাত্রা রয়েছে। খোট্টারডিহি কোলিয়ারীতে মাসে ৩০-৩৫ হাজার টন কয়লা উৎপাদন হয়। স্বয়ংক্রিয় কন্টিনিউয়াস মাইনার প্রতিস্থাপন হলে দৈনিক দেড় হাজার টন অর্থাৎ মাসে আরও ৪০-৪৫ হাজার টন বাড়তি কয়লা উৎপাদন হত। স্বয়ংক্রীয় যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই লক্ষমাত্রায় পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইসিএলের কার্যনির্বাহী আধিকারিক (কারিগরি) নিলাদ্রী রায় জানান,” মেশিন চলে এসেছে। চিনা বিশেষজ্ঞরা না আসায় মেশিন বসানো যায়নি। যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন কবে হবে সেটাও নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না।”

Related Articles

Back to top button
Close