fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

মুকুল রায়ের সপরিবার সম্পত্তির হিসেব ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়ে কড়া নোটিস পাঠাল ইডি

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: একদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে উন্নীত হয়েছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। আবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাকেই ফের আতস কাঁচের তলায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সারদা মামলায় এর আগে ইডি অফিসারদের নোটিশের ভিত্তিতে তিনি নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং নথিপত্র পেশ করেছেন। কিন্তু তা সম্পূর্ণ নয় বলে দাবি করে এ বার বিজেপি নেতা মুকুল রায় আর তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তির পূর্ণ হিসেব এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সবিস্তার বিবরণ চেয়ে নোটিশ পাঠালেন ইডি আধিকারিকরা। সব তথ্য নিয়ে মৌখিক ভাবে মুকুলকে সিবিআইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

ইডি সূত্রের খবর, এই নোটিস-সহ চিঠিটি পাঠানোর কথা ছিল ৯ নভেম্বর। কিন্তু ছুটি থাকায় সেটি সোমবার পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ই-মেল করে যে-সব নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল, ৩১ জুলাই ই-মেল করে তার উত্তরে তিনি যা যা তথ্য জানিয়েছেন তা সম্পূর্ণ নয়। মাত্র একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি দিয়েছেন তিনি। এ বার তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য , ২০১৭-১৮ এবং ২০১৯-২০ সালের আয়কর রিটার্নও এবং ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষ থেকে অদ্যাবধি তিনি যত সম্পত্তি কিনেছেন, চিঠি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে সমস্ত কিছুর হিসাব দিতে হবে।

এর আগে বেশ কয়েক বার নোটিস পাঠানোর পরে ২০১৫-র জানুয়ারির শেষে কলকাতায় সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে মুকুলবাবুকে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআই অফিসারেরা। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে তদানীন্তন মন্ত্রী মদন মিত্রকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তবে মুকুলবাবুকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে নারদ মামলাতেও জড়িয়ে যান মুকুল রায়। ২০১৭-র ৩ নভেম্বর মুকুলবাবু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন।

আরও পড়ুন: যাদবপুরে সিপিএমের রক্তক্ষরণ অব্যাহত!

কিন্তু বিজেপিতে যোগ দিলে ও তার বিরুদ্ধে যা যা তথ্য-প্রমাণ ছিল, তাতে তাকে কোনদিনই ক্লিনচিট দেয়নি সিবিআই। হলে তার পক্ষে বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না বলেই মত রাজ্য বিজেপির একাংশের। মুকুলের জন্যই রাজ্য বিজেপির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ডানাছাঁটা পর্ব চলছে, কমছে তাঁদের ক্ষমতাও। তাই মুকুল গ্রেফতার হলে তাঁদের এই সমস্যা কাটবে অনেকটাই। তখন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও কার্যত বাধ্য হবে আবার তাঁদের গুরুত্ব দিতে। কিন্তু মুকুল রায়কে নিয়ে এখনই সেরকম কোনও পদক্ষেপের কথা ভাবছে না এনফর্সমেন্ট গ্রেফতারের অফিসারেরা বলে ইডি সূত্রের খবর।

Related Articles

Back to top button
Close