fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আসাম থেকে শিক্ষা! এনআরসির বিরুদ্ধে পথে নামতে ৪১টি সংগঠন এক মঞ্চে

মোকতার হোসেন মন্ডল: আসাম থেকে ‘শিক্ষা’ নিয়ে এনআরসির বিরুদ্ধে পথে নামতে ৪১টি সংগঠন মিলে একটি মঞ্চ তৈরি হয়েছে বাংলায়। ওই সংগঠনে মতুয়া,আদিবাসী, দলিত ও সংখ্যালঘুদের অনেক সংগঠন যোগ দিয়েছে। দলিত- আদিবাসী- মাইনোরিটি আন্দোলন লীগ বা দামাল নামে যে মঞ্চ তৈরি হয়েছে তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে,’ভারতে জন্মানো সকলকে জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে হবে।’

দামালের দাবি, অবৈধ অভিবাসীর তকমা বিলোপ ঘটাতে হবে এবং আগামীদিনে ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ এর আগের মতো বাইরে থেকে ভারতে আসা মানুষদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাবার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনো একদিন সে বা তার পূর্বপুরুষ বিনা ভিসা পাসপোর্টে ভারতে এসেছিল বলে চির জীবনের মতো তার ভারতের নাগরিক হওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না। তাছাড়া এখনো পর্যন্ত ভারতে স্থায়ী ভাবে বসবাসকারী সকলকে নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং হয়রানির অবসান ঘটাতে হবে।

দলিত-আদিবাসী-মাইনোরিটি আন্দোলন লীগের নেতা মানিক ফকির জানান, আসামে যা হচ্ছে তাতে বাংলাদেশ থেকে আসা বাঙালিদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। যদি চুক্তির বলে এতো কিছু হয় তাহলে ২০০৩ সালের এনআরসি আইনে পশ্চিমবঙ্গের উদ্বাস্তুদের কী হবে ভেবে দেখুন। মোদি সরকার সিএএ ২০১৯ এনে ২০০৩ সালের আইনকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের দাবি, ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করে উদ্বাস্তুদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে হবে তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। মানিকের আরও দাবি, এনআরসির নামে নামে সমস্ত নাগরিকদের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং নজরদারি চালানো যাবে না।

মানিক ফকির বলছেন, ভারতের প্রথম নাগরিক আইনে শর্তহীন জন্মগত নাগরিকত্বের কথা ছিলো। পরে ১৯৮৬ এবং ২০০৩ এর ক্যাতে এটাকে সংশোধন করে বলা হয়েছে ভারতের নাগরিক হতে গেলে ভারতে জন্মালেই হবে না, ভারতে জন্মাতে হবে এবং মা বাবা দুজনকেই শিশুটির জম্মাবার সময় ভারতের নাগরিক হতে হবে। সুতরাং অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানরাও অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত হয়েছে। এদের মধ্যে সামান্য অংশ চিহ্নিত হয়েছেন বাকিরা যখন চিহ্নত হবেন তখন নাগরিক হওয়ার মাপকাঠিতে পাস না করার জন্য অথবা নিজের বা বাবা মায়ে অথবা দাদু ঠাকুমার বার্থ সাটিফিকেট না থাকার জন্য এনআরসি প্রক্রিয়ায় গণহারে এই অবৈধ অভিবাসীদের ধরা হবে। তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই অধিকার রক্ষা করতে হবে। দাবি মানা পর্যন্ত জনগণনা সহ সমস্ত রকম সরকারি সমীক্ষা বন্ধ থাকবে।

লোকডাউনের পূর্বে যে আন্দোলন চলছিল তা ফের শুরু করার পক্ষে ৪১টি সংগঠনের নেতারা। দামালের এক নেতা বলছেন, শুধু জন্মের ভিত্তিতে নয়, কর্মের ভিত্তিতেও নাগরিকত্বের অধিকার অর্থাৎ যে যে-দেশে শ্রম করে, তাকে সেই দেশে অধিকারহীন না রেখে নাগরিকত্ব প্রদান করতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close