fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আগে মানুষ বাঁচুক তারপর উৎসবের আনন্দ, বলছেন ইমাম ও মুসলিম নেতারা

মোকতার হোসেন মন্ডল: আগে মানুষ বাঁচুক তারপর উৎসবের আনন্দ করবেন, এমনটাই বলছেন ইমাম ও মুসলিম নেতারা। আসন্ন ঈদুল ফিতরের বাজার ও করোনা ভাইরাস জনিত লকডাউন প্রসঙ্গে এ কথা বলছেন তাঁরা।

জমিয়তে আহলে হাদিস পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক আলমগীর সরদার, ইমাম মুয়াজ্জিন সমিতির নেতা ও একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল মাজেদ খাঁ, নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি নাসের ইব্রাহিম ঈদের বাজার নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে এ রাজ্যের প্রায় সমস্ত মুসলিম সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে ঈদের জামাত এড়িয়ে যাবার পরামর্শ দিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে,’ঈদের বাজারের জন্য যেন লকডাউন শিথিল না করা হয়’।
রবিবার জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার এক বিবৃতিতে জানান,সরকার ১০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলে এবারের ঈদুল ফিতরের নামাজ ঈদগাহে পড়া একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সুতরাং এ অবস্থা চলতে থাকলে ঈদের নামাজ ঈদগাহের পরিবর্তে বাড়িতে পড়ার জন্য সর্বস্তরের মুসলিমদের প্রতি আবেদন রাখা হয়েছে।

তাছাড়া জনমনে ঈদ কেন্দ্রিক নতুন জামা কাপড় কেনা ও তা পরিধান করার রেওয়াজ চালু আছে। এ রেওয়াজকে অনেকে আবশ্যিক মনে করেন। কিন্তু ইসলামে ঈদ কেন্দ্রিক নতুন জামা-কাপড় কেনা বা তা পরিধান করা আবশ্যিক নয়। তবে, উত্তম পোশাক পরিধান করে ঈদগাহে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, বর্তমান যা পরিস্থিতি তাতে এবারের ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়াও একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থা অপ্রয়োজনীয় খরচ না করার জন্য মিটিং থেকে বিশেষ আবেদন রাখা হয়েছে। উপরন্তু ব্যয় সংকোচন করে গরিব দুঃখী অসহায় দের সাহায্যের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ রাখা হয়েছে।”

এদিকে বেঙ্গল ইমাম এসোসিয়েশনের মুহাম্মদ ইয়াহিয়া ইমেইল মারফত মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে লকডাউন ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দিন। আগে মানুষ বাঁচুক পরে উৎসব। আমরা স্যাক্রিফাইস করেছি, আরও করবো। আমাদের উৎসবের দরকার নেই। অন্য দোকান কেন খোলা হলো, কেন পুলিশ কিছু বললো না, এসব প্রশ্ন করে আপনাকে বিব্রত করবো না। ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হোক লকডাউন। আপনার কাছে জোরের সাথে আবেদন বা দাবী, এই লকডাউন কোনও অবস্থাতেই ৩০ মে ২০২০ আগে কেন্দ্র সরকার তুললেও, রাজ্য সরকার যেন না তোলে।”

ওই চিঠি রাজ্য পুলিশ, হজ কমিটি, ওয়াকফ বোর্ড, জামায়াতে ইসলামী হিন্দ, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সহ বেশ মুসলিম সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশ্যেও পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close