fbpx
কলকাতাহেডলাইন

‘পরকীয়া’র জেরেই কি খুন নয়না? ফোনের সূত্রতে গ্রেফতার একবালপুরের দম্পতি

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: গতানুগতিক সম্পর্কে বাঁধা পড়তে নারাজ ছিলেন একবালপুর ডাকাবুকো সুন্দরী তরুণী সাবা খাতুন ওরফে নয়না। নিজের মত বাঁচতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন পরকীয়া সম্পর্কে। আর সেটাই জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল,তদন্তে ক্রমশ জোরালো হয়েছে সেই সম্ভাবনার কথা-ই। ঘটনার চার দিন পর রবিবার একবালপুর খুনের ঘটনায় দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর শেখ সাজিদ ও তাঁর স্ত্রী অঞ্জু বেগমকে গ্রেফতার করল পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহত তরুণী সাবার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল শেখ সাজিদ ওরফে রোহিতের।
পুলিস সূত্রে খবর, নিহত যুবতী সাবা খাতুনের ফোন ঘেঁটে শেখ সাজিদ ওরফে রোহিতের নাম পায় পুলিশ। জানা গিয়েছে ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব সম্পর্কের দিকে গড়ায়। অভিযোগ, এই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে রোহিতকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে সাবা। তার কাছ থেকে টাকা অথবা মাদক  হাসানোর চেষ্টা করত সে। সম্প্রতি কোথাও থেকে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে তার মধ্যে  ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল কিনে  বাকি টাকা  দীঘা মন্দারমনি  ঘুরে  বন্ধুদের সঙ্গে খরচ করে ফেলেছিলেন। সেই টাকা  শেখ সাজিদ  দিয়েছিলেন কিনা আর নয়না কে কে দীঘা মন্দারমনি নিয়ে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে যুবতী সাবার সঙ্গে স্বামীর ‘পরকীয়া’র কথা জেনে ফেলেছিলেন শেখ সাজিদের স্ত্রী অঞ্জু বেগম। পুলিশের ধারণা, এরপরই সাবাকে খুনের ছক কষে স্বামী-স্ত্রী। খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে শেখ সাজিদের নাম উঠে আসে। এরপরই খুনের ঘটনায় সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগে দম্পতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তবে রোহিত ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করলেও, এই খুনের ঘটনার পিছনে আর কেউ জড়িত কিনা, সে বিষয়েও খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে একবালপুরে রাস্তায় সিমেন্টের বস্তায় ওই তরুণীর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর শেখ সাজিদই প্রথম খবর দেন পুলিশকে। তার খবরের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। সে ক্ষেত্রে নিজেই খুন করে সাজিদ পুলিশকে খবর দিয়েছিল কিনা তা জানতে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close