fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রিহ্যাব থেকে ফিরলেও মাদকাসক্তিই প্রাণ কাড়ল একবালপুরের তরুণীর? একবালপুর কাণ্ডে ধন্দে পুলিশ

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: অত্যাধুনিক জীবনযাত্রাই কি কাল হল একবালপুরে বস্তাবন্দি‌‌‌‌ মৃত তরুণীর? প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্যই উঠে আসছে পুলিশের হাতে। এলাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, মেয়ে হলেও একইসঙ্গে ডাকাবুকো এবং প্রতিবাদী ছিলেন সুন্দরী সাবা খাতুন ওরফে নয়না। নিজের মত ছকে জীবনে বাঁচতে ভালোবাসতেন।

তবে রিহ্যাব থেকে ফিরে এলেও মাদকাসক্তি কাটিয়ে উঠতে পারেননি‌। আর মাদকাসক্তিকে হাতিয়ার করেই তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হতে পারে বলে অনুমান পুলিশের।এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণেই বাড়িতে থাকতেন না নয়না। এমনিতেই বাবা-মা না থাকায় থাকতেন দিদিমার কাছে। কিন্তু মাদকাসক্তির সমস্যার জন্য বেশিরভাগ সময় তিনি থাকতেন একবালপুরের বাঙালি ওয়ার্সি লেনের স্টোরগলির বাসিন্দা রেশমা নামে বান্ধবীর বাড়িতে। জানা গিয়েছে, সাবা ওরফে নয়নার সঙ্গে কখনও বান্ধবী সোনম আবার কখনও সোনমের মা রেশমাকেও স্কুটি নিয়ে ঘুরতে দেখা যেত। জানা গিয়েছে, সাবা ওরফে নয়না মাঝেমধ্যে মদ্যপান করতেন ও গাঁজা খেতেন। কিন্তু তিনি মাদক বিক্রি করতেন না এমনটা দাবি করেছেন তার বান্ধবী। বুধবার গভীর রাতে যখন একবালপুরের এম এম আলি রোড থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নয়নার দেহ উদ্ধার হয়, তখন তাঁর পকেট থেকে গাঁজা ও অন্য মাদক পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।

আরও পড়ুন- মানহানির অভিযোগে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে আইনি নোটিশ দিলেন দিলীপ ঘোষ

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছেন নয়না ও সুনয়না। তাঁদের এক ভাই আছে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভাইবোনদের মা ও বউদির কাছে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে নতুন সংসার পাতেন বাবা শেখ দুলারা। পঞ্চম শ্রেণির পর পড়াশোনা করেননি নয়না। ধীরে ধীরে বাঁধন ছাড়া জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন  সুন্দরী নয়না। বহু যুবক তার প্রেমে পড়ে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাঁধনছাড়া জীবনযাত্রা ছেড়ে সংসারে থিতু হতে চাননি ওই তরুণী। কুসঙ্গে পড়ে বিড়ি-সিগারেট থেকে শুরু করে ক্রমাগত মদ্যপান, গাঁজা অন্যান্য মাদকের দিকে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। 

এদিন রেশমা স্বীকার করেন যে, ওই টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনেন নয়না। দিন পনেরো আগে বাকি ২৫ হাজার টাকা দিঘা ও মন্দারমণিতে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গিয়ে খরচ করে আসেন। রেশমার দাবি, কয়েকজন বন্ধুর নাম উল্কি করে নিজের হাতে লিখে রেখেছিলেন সাবা খাতুন ওরফে নয়না।

মূলত দিদিমার কাছে থাকতেন। কিন্তু মাদকে এতটাই আসক্ত হয়ে গিয়েছিলেন যে, মামা ইব্রাহিম ও দিদিমা মিলে মাদক ছাড়ানোর জন্য বেহালায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে তাঁকে ভর্তি করিয়েছিলেন। তার টানা ৮ মাস চিকিৎসা হয়। ৪ মাস আগে মাদকের পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে নয়না ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে, সাবা খাতুন ওরফে নয়নার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট শিলমোহর দিল খুনের তত্ত্বেই। শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে সাবা খাতুনকে। পুলিশ সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।

 

মৃতার আত্মীয়রা জানিয়েছেন, সাবার নেশা করার অভ্যাস ছিল। সব সময়ই নেশা করত সে। এজন্য মাস ছয়েক রিহ্যাবিলেশন সেন্টারেও ছিল সে। তবে গত সপ্তাহেও মত্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল সাবাকে। মাদক জোগাড়ের জন্য সে সবকিছু করতে পারত। আগে মামার বাড়িতে থাকলেও ইদানিং ২ মাস ধরে বন্ধুর বাড়িতে ছিল সে। বুধবার বিকেলে বিরিয়ানি আনার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। তারপরে বৃহস্পতিবার সকালে সিমেন্টের বস্তায় উদ্ধার হয় তার দেহ। তাই এ ঘটনার সঙ্গে তরুনীর মাদকাসক্তির জড়িয়ে আছে বলে মনে করছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close