fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আসানসোলে অন্য ছবি, খুঁটির পরিবর্তে গাছে তার লাগিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে বিদ্যুৎ

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: বিশ্ব পরিবেশ দিবস-শুক্রবার আসানসোলের পাশাপাশি গোটা রাজ্য ও দেশজুড়ে পালিত হয়। বৃক্ষরোপণ করা থেকে সাধারণ মানুষের হাতে গাছের চারা বিলি ও পরিবেশ বাঁচাতে সচেতনতার প্রচার সবকিছুই হয় এদিন। আর ঠিক এই সময়ই দেখা গেলো অন্য এক ছবি। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার সালানপুরের রূপনারায়ণপুর ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসে বিদ্যুতের খুঁটির পরিবর্তে বড় বড় বেশ কয়েকটি গাছের গুঁড়িকে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রান্সফর্মার থেকে তার নিয়ে যাওয়ার জন্য। এই কাজ করেছে খোদ বিদ্যুৎ দপ্তরই।

 

ট্রান্সফর্মার থেকে তারের সাহায্যে ২২০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে রেঞ্জ অফিসে ও আবাসনগুলিতে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় বছর দুয়েক আগে থেকে এই ব্যবস্থা চলছে। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া রেঞ্জ অফিসার সৌরিশ সাঁধু তা লক্ষ্য করেন। তিনি দেখেন, বিদ্যুতের তার যেভাবে গাছের মধ্যে দিয়ে গেছে। তাতে গাছের গুড়ির অংশগুলো কেটে গিয়ে, গুঁড়ির ভেতরে বিদ্যুতের তার ঢুকে গেছে । যে কোন সময়ে ঝড় বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় এই গাছগুলো ভেঙে পড়তে পারে। তাতে গোটা এলাকা বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারে। এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।

 

এই বিষয়ে রূপনারায়ণপুরের রেঞ্জ অফিসার সৌরিশ সাধু লিখিতভাবে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার স্থানীয় স্টেশন সুপারের কাছে চিঠি পাঠান। সেই চিঠি পেয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা এসে দেখেও যাযন। তাদের কাছে বিদ্যুতের খুঁটি এই মুহুর্তে নেই৷ তাই এখন তারা বিদ্যুতের খুঁটি বসিয়ে তাতে ট্রান্সফর্মার লাগিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন না বলে স্টেশন সুপার জানান।

 

 

জানা গেছে, বন দপ্তরের এই রেঞ্জ অফিসটি বারাবনি, সালানপুর, রানিগঞ্জ, মাইথন ও আসানসোলের একটি অংশের দেখভালের দায়িত্বে আছে। সৌরিশবাবুর আগে এখানে তিনজন রেঞ্জ অফিসার এসেছেন। কিন্তু তারা কখনও লক্ষ্যই করেননি যে রাস্তার ধারে বিদ্যুতের খুঁটির পরিবর্তে বড় বড় গাছের গুঁড়িকে খুঁটি করে ট্রান্সফর্মার বসানো হয়েছে। তা থেকে বনদপ্তরের অফিস ও আবাসনে বিদ্যুৎ সরবরাহর জন্য তার লাগানো হয়েছে।

 

 

এই বিষয়ে রেঞ্জ অফিসার বলেন, অবশ্যই আমার আগে যারা এখানে দায়িত্বে ছিলেন, এটা তাদের দেখা উচিত ছিল । সবচেয়ে দুঃখজনক ট্রান্সফর্মার থেকে এত মোটা মোটা গাছের মধ্যে তার জড়িয়ে দেওয়াতে যেকোনো মুহূর্তে গাছগুলো ভেঙে পড়তে পারে। দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে । আমি মাত্র কয়েকদিন আগেই দায়িত্ব নিয়ে এই বিষয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরে চিঠি লিখেছিলাম। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা এসে দেখে আমাকে জানিয়েছে যে, এখন বিদ্যুতের খুঁটি নেই। তাই এই কাজ করা এখন সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, অবশ্যই এইভাবে গাছগুলোকে নষ্ট করার অধিকার কারোরই নেই । সর্বোপরি বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে যেখানে গাছ লাগানো হচ্ছে, সেখানে বিদ্যুৎ দপ্তরের অপদার্থতায় গাছের এভাবে মৃত্যু হোক এটা নিশ্চয় কেউই চান না।

 

পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মাধক্ষ্য ও এলাকাই বাসিন্দা মহঃ আরমান এই খবর পেয়ে এদিন নিজে সেখানে আসেন। পরে বলেন, আমি এটা ভাবতেই পারছিনা যে সরকারি অফিসে কিভাবে বিদ্যুতের লাইন গাছের মধ্যে দিয়ে নিয়ে গেলো বিদ্যুৎ দপ্তর। আমি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মাধক্ষ্য। অবশ্যই আমি এটা জেলা প্রশাসনের নজরে আনব । অন্যদিকে, রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার আসানসোলের ডিভিশনাল ম্যানেজার শুভেন্দু চক্রবর্তী বলেন, আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যুতের খুঁটি আছে। কেন এতদিন এভাবে গাছের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুতের তার লাগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা দপ্তর অবশ্যই তদন্ত করে দেখবে। যাতে ওখানে দ্রুত খুঁটি লাগিয়ে তার গুলোকে সরিয়ে দেওয়া যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button
Close