fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এবার মেদিনীপুর, ক্ষেতের পর ক্ষেত নষ্ট করল দাঁতালের দল

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর : আমনের চারা পোঁতার কাজ সবে শেষ হয়েছে। সবুজ সতেজ সেই চারা লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে। গ্রামে গ্রামে সম্বল এই ধান, সারা বছরের আয়ের একমাত্র উৎস, আর সেই ধানেই সর্বনাশের ছায়া ফেলতে ফের হাজির হয়েছে দলমার পাল।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে কংসাবতী নদী পেরিয়ে প্রায় ৩০টি দলমার ঢুকে পড়ে চাঁদড়া রেঞ্জের মনিদহ এলাকার ফরিদচক, পলাশিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায়। বিঘার পর বিঘা পায়ে চটকিয়ে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি করে ধানজমি ও ফসলের পুরো বারোটা বাজাচ্ছে । পরে গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে, দিনের আলো ফোটার পর জঙ্গলে প্রবেশ করে হাতির পালটি। ফের সন্ধ্যা বেলা হাতির হানার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে এলাকাবাসীর।

             আরও পড়ুন: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন

এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, “কিছুদিন আগেই দাপিয়ে যাওয়ার পর এই নিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার হাতির পাল প্রবেশ করছে মেদিনীপুর সদরে। একটি হাতির পাল ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া থেকে কংসাবতী নদী পেরিয়ে ঢুকে পড়ে মেদিনীপুর সদর ব্লকে। তছনছ করছে বিঘার পর বিঘা ধানজমি। সম্প্রতি হাতির পাল দুটিকে  পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে বাঁকুড়ার  জঙ্গলের দিকে পাঠালেও নতুন করে ঝাড়গ্রাম থেকে আবার হাতির পাল এসে প্রবেশ করছে আমাদের এই গুড়গুড়িপাল এলাকায়”।

বনদফতর সূত্রে জানা গেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে এই মুহূর্তে প্রায় একশো হাতি রয়েছে জেলার বিভিন্ন জঙ্গল গুলিতে। মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়ার জঙ্গলে সারা বছরই রেসিডেন্সিয়াল হাতি রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করে চাঁদড়ার জঙ্গল থেকে ২৫টি হাতির একটি দলকে বাঁকুড়া জেলার দিকে পাঠাতে সক্ষম হলেও সেগুলিকে তাড়ানোর আগেই আরোও একটি দল প্রবেশ করল মেদিনীপুর সদর ব্লকে।

বনদপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, “পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এখন সর্বত্রই ধানের চারা অথবা সবজির ক্ষেত রয়েছে।  হাতিদের বেশি বিরক্ত করলে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।তাই হাতি গুলিকে জঙ্গলে পাঠানোর জন্য একটি রুট তৈরি করা হয়েছে । মেদিনীপুর বনবিভাগ পার্শ্ববর্তী বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেই এই রাস্তা তৈরি করা হবে। চাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান মেপে ক্ষতিপূরণ দেবে বনদপ্তর।” তাও গ্রহরাজের আগমনের চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে গুড়গুড়িপাল সহ বিভিন্ন এলাকার সর্বশান্ত হওয়া একাধিক চাষিদের ।

 

Related Articles

Back to top button
Close