fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় তৈরি হচ্ছে বায়ুসেনার (IAF) আপৎকালীন রানওয়ে, তৎপরতা তুঙ্গে

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: যুদ্ধবিমানের ওঠা-নামার জন্য তৈরির তৎপরতা দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায়৷ বেলদার বাখরাবাদের ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে তারই প্রস্তুতি চোখে পড়ল। ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার আবহেই যুদ্ধ বিমান ওঠা-নামার সুবিধার্থে তৈরি হতে চলেছে নতুন রানওয়ে। জরুরিকালীন অবস্থায় অতি সহজেই যুদ্ধবিমান নামানো যাবে। ভারতীয় বায়ুসেনা এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে বেলদা থানার বাখরাবাদ থেকে পোস্তাপুল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটারব্যাপী ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর তৈরি হচ্ছে আপৎকালীন যুদ্ধ বিমান ওঠা-নামার ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে এজন্য ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’দিকে থাকা বড় গাছগুলিকে কেটে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। চলছে মাপ নেওয়ার প্রক্রিয়া।

ভারত-পাকিস্তান কিংবা ভারতীয়-চিন সীমান্ত এলাকাগুলিতে যেখানে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সময় দেশের ভিতরে মোট তেরোটি জায়গায় এই আপৎকালীন যুদ্ধ বিমান ওঠা-নামার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এজন্য জাতীয় সড়কের প্রস্তাবিত এলাকার দু’দিকে প্রায় ৩০ মিটার মতো জায়গা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জাতীয় সড়কের মাঝখানে যে অংশে ফুলের চারা লাগানোর জন্য নির্ধারিত ছিল সেগুলিও সম্পূর্ণ ভরাট করে এই আপৎকালীন রানওয়ে তৈরি হবে। ৫ কিলোমিটারব্যাপী জাতীয় সড়কে তৈরি হওয়া রানওয়ের মধ্যে থাকবে স্বয়ংক্রিয় কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রস্তাবিত এলাকায় বহু আগে এই পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা আটকে ছিল।

আরও পড়ুন:সুইডেন ও বেঙ্গালুরু হিংসার মধ্যে সাদৃশ্য বুঝুন

সূত্রের খবর, সীমান্ত এলাকার উত্তেজনার পারদ যখন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে সেদিকের কথা ভেবে ও আপৎকালীন অনেক দেশীয় সুযোগ সুবিধার জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বেলদা থেকে কিছুটা দূরেই খড়্গপুরের সালুয়ায় রয়েছে এয়ার বেস ক্যাম্প।
ডিপার্টমেন্টের এক আধিকারিক বলেন, “জরুরিকালীন যুদ্ধবিমান অবতরণের জন্য এই রানওয়ে তৈরির কাজ চলছে। যেখানে জরুরিকালীন সময় যুদ্ধ বিমান ওঠা-নামা করবে। আমরা সেই পরিকল্পনামাফিক সার্ভের কাজ করছি। এই বিমান ওঠা-নামার সময় দরকার হলে জাতীয় সড়কের দু’পাশে যানবাহনকে কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারপর উঠে গেলে তাদের আবার যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। মূলত জরুরিকালীন অবস্থার জন্য এই ধরনের পরিষেবা পশ্চিম মেদিনীপুরের একমাত্র এখানে হচ্ছে।”

জাতীয় সড়ক আধিকারিক সারমান রায় বলেন, “আমাদের যে নির্দেশ এসেছে সেই নির্দেশ মোতাবেক আমরা কাজ করছি। মূলত জরুরিকালীন অবস্থায় এয়ার ফোর্সের যুদ্ধবিমান ওঠা-নামার জন্য এই ধরনের রানওয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে। যা দেশের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক। সেই অনুসারে এখন চলছে সার্ভে এবং তার আনুষাঙ্গিক কাজকর্ম” ।

খড়্গপুর থেকে দিঘা যাওয়ার পথে আপনিও হতে পারেন সেই ভাগ্যবান, যিনি দেখতে পাবেন ভারতীয় বায়ু সেনা বা INDIAN AIR FORCE এর জঙ্গি বিমানের ওঠা নামা। ঘটনা যায় হোক না কেনো, সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন পথচারী পর্যটকরা, বাইক কিংবা চার চাকার পাশাপাশি যদি পাশের রানওয়ে দিয়ে একটি যুদ্ধ বিমান ওঠা নামা করে, দেখতে কার না ভালো লাগবে? এই খবরে খুশিতে ভাসছে স্থানীয় বাসিন্দারা, মানুষের উন্মাদনাও চোখে পড়ার মতো।

Related Articles

Back to top button
Close