fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

সাইবার নিরাপত্তায় জোর! কলকাতা পুলিশের ৯টি ডিভিশনে পুজোর আগেই খুলছে সাইবার ল্যাব

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কিছুদিন আগেই ‘ভুয়ো দুর্গাপুজো’ মেসেজ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছিল গোটা রাজ্যে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য জুড়ে ভুয়ো মেসেজের মাধ্যমে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অপপ্রচার চালিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে কালিমালিপ্ত করারও চেষ্টা চলতে পারে, এমন ইঙ্গিত পেয়েছেন লালবাজারের গোয়েন্দারাও। সেই কারণে কিছুদিন আগেই নবান্নে রাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই কারণেই এ বার শহরের ৯টি পুলি়শ ডিভিশনেই ‘সাইবার ল্যাব’ খুলতে চলেছে কলকাতা পুলিশ।

সূত্রের খবর, শহরের কোথাও কোন সাইবার অপরাধ ঘটলে যাতে সকলকে লালবাজার ছুটে আসতে না হয়, তার জন্যই এই নয়া পরিকল্পনা বলে জানা গিয়েছে। লকডাউনের সময় অন্যান্য অপরাধের মাত্রা অনেকটাই কমে গেলেও সাইবার অপরাধের মাত্রা প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনটা বলছেন লালবাজারের কর্তারাই। আর সাইবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আর্থিক প্রতারণার অপরাধের হার শহরে সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, কেউ না জেনে আর্থিকভাবে প্রতারিত হওয়ার পরেও স্থানীয় থানায় গেলে সেই থানার ওসি তাকে লালবাজারে পাঠাচ্ছেন। লালবাজারে অভিযোগ জানাতে কেটে যাচ্ছে অনেকটা সময়। ততক্ষণে অপরাধীকে ধরার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাচ্ছে। আর এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে অনেককে প্রতারণা করা এবং পরিচয় গোপন করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে প্রতারকরা।

সেই কারণে সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে মানুষ যেমন চট করে পুলিশকে পাশে পান, ঠিক সেভাবেই সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, তার জন্য পরিকল্পনা মাফিক প্রত্যেকটি ডেপুটি কমিশনারের অফিসে একটি পৃথক সাইবার ল্যাব চালু করতে চলেছে কলকাতা পুলিশ।

জানা গিয়েছে, পুজোর আগেই এই সাইবার ল্যাবগুলি চালু হতে চলেছে। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, প্রতিটি ল্যাবরেটরিতে চার-পাঁচ জন করে সাইবার বিশেষজ্ঞ থাকবেন। তাদের অধীনে আরো কিছু শিক্ষানবিশ সাইবার কর্মী থাকবেন। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তাদের যাচাই করে বেছে নেওয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গে থাকবেন প্রশিক্ষিত পুলিশকর্মীরাও। তারা ডিভিশনের সাইবার ল্যাবের সঙ্গে লালবাজারে মূল সাইবার ল্যাবের সমন্বয় এবং সংযোগ রক্ষা করে চলবেন। তবে খুব জটিল কোনও সাইবার মামলা হলে তা লালবাজারের মূল সাইবার ল্যাবের মাধ্যমেই সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।সাইবার থানায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো প্রোফাইল খুলে তাতে অশালীন ছবি-ভিডিও পোস্ট করে হুমকি থেকে ভুয়ো সাইট তৈরি করে অনলাইন জালিয়াতি সংক্রান্ত সাইবার অপরাধের তদন্তে অভিযুক্তের মোবাইল বা কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক থেকে প্রায়ই তথ্য উদ্ধারের জন্য সাইবার ল্যাবের প্রয়োজন হয়। এ বার থেকে এমন কাজ প্রতিটি ডিভিশনের নিজস্ব ল্যাবেই হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন:করোনা আক্রান্ত বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী

বর্তমানে কলকাতা পুলিশের একটি মাত্র সাইবার থানা রয়েছে, যা রয়েছে লালবাজারে। সারা শহর মিলিয়ে এখন ৪০০-৫০০ টি অভিযোগ সেখানে জমা পড়ে। সাইবার থানার সঙ্গে থাকা সাইবার ল্যাবটিতে অভিযোগের এত বিপুল পাহাড় হয়ে যায় যে, লালবাজারের সীমিত সংখ্যক কর্মী নিয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তার ওপর কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিত্তিক সাইবার অপরাধের কিনারা করতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা তদন্ত পিছিয়ে যায়। সেই কারণেই সাইবার লেভেলে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা নিয়েছেন লালবাজারের কর্তারা। এতে লালবাজারের মূল সাইবার ল্যাবেও চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা কর্তাদের।

 

Related Articles

Back to top button
Close