fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সপ্তাহব্যাপী রক্তদান শিবির হুগলীতে

পার্থ সামন্ত, তারকেশ্বর: আমাদের রাজ্যে ৫৬ থেকে ৬০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী। যাঁদের বেঁচে থাকতে মাসে গড়ে প্রায় দুবার ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত নিতে হয়। সম্প্রতি লকডাউনের কারনে অনেক ঘোষিত রক্তদান শিবির বন্ধ করতে হয়েছে। বর্তমানে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্তের জন্য হাহাকার পড়েছে চারিদিকে। এই রকম সময়ে এগিয়ে এলো হুগলী জিলা কৃষাণ ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেস। আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছে হুগলী জিলা কৃষাণ ক্ষেতমজদুর তুনমূল কংগ্রেস। ৮ ই এপ্রিল থেকে চলবে ১৪ ই এপ্রিল পর্যন্ত এই রক্তদান শিবির।

হুগলী জেলার ধনেখালির কোটালপুরে এই রক্তদান শিবির চলছে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ রুখতে মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দূরে দূরে পাতা হয়েছে বেড। প্রত্যেক রক্তদাতাকে দেওয়া হয়েছে মাস্ক ও হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। শুরুতেই স্যানিটাইজ করা হয়েছে গোটা চত্ত্বর। প্রত্যেক রক্তদাতা রক্ত দিয়ে বেড থেকে উঠলে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে বেড সিট। নতুন করে প্রত্যেকবার বেড সংলগ্ন জায়গা স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। রক্তদান শিবিরে নতুন রক্তদাতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। জীবনে প্রথম রক্ত দিলেন মনিমালা বাউরি। মনিমালা দেবী জানান তিনি একজন খেত মজুর। তিনি বলেন নিজের ইচ্ছায় রক্ত দিতে আসা। কেন রক্ত দিতে এসেছেন জিগ্যেস করলে বলেন শুনছি রক্ত দিলে শরীর ভালো থাকে আর এই রক্তে অন্য তিন জন মানুষের প্রাণ বাঁচবে। আর এক রক্তদাতা হীরু মালিক বলেন লকডাউনের জন্য মুমূর্ষু রোগীরা রক্ত পাচ্ছে না। সেই মুমূর্ষু রোগীদের জন্য রক্ত দিতে আসা।

রক্তদান শিবির প্রসঙ্গে কৃষাণ ক্ষেতমজদুর তুনমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহরায় বলেন চারিদিকে রক্তের আকাল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় আমাদের এই উদ্যোগ। রামেন্দু বাবু বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন স্বাস্থ্য বিধি মেনে রক্তদান শিবির করে ব্লাড ব্যাংক গুলিতে রক্তের জোগান ঠিক রাখতে। তিনি বলেন বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্ম দিনকে সামনে রেখে এই শিবিরের আয়োজন। রামেন্দু বাবু বলেন প্রতিদিন ৩০ জন করে সাত দিনে ২১০ জন রক্ত দেবেন। তিনি জানান লকডাউনের আইন যাতে না ভাঙে তার জন্য কাছাকাছি তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষরা রক্ত দেবেন। গোপীনাথপুর ১, গোপীনাথপুর ২ এবং পাড়াম্বুয়া সাহবাজার ছাড়া অন্য কোন গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কোন রক্তদাতা আসবে না বলে তিনি জানান। স্থানীয় গ্রামবাসীরা এই রক্তদান শিবিরের প্রসংশা করেন।

Related Articles

Back to top button
Close