fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দুর্গাপুজো নিয়ে অনিশ্চয়তায় উদ্যোক্তারা, কাজ নেই রায়গঞ্জের কুমোরটুলিতে

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: অন্যান্য বছর রথের পরের দিন থেকে খুঁটি পুজোর মাধ্যমে শুরু হয়ে যায় বাঙালীর জাতীয় উৎসব দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি পর্ব। ব্যস্ততা চরমে ওঠে কুমোরটুলিতে। কিন্তু এবছর করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কুমোরটুলির সেই চেনা ছবি উধাও। নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে চারদিকে। কারণ কাজের বরাত প্রায় নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে মাথায় হাত পড়েছে প্রতিমা শিল্পী ও ডেকরেটার্সদের।

উল্লেখ্য চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল লকডাউন। বর্তমানে আনলক ওয়ান পর্ব শুরু হলেও কনটেইনমেন্ট জোনগুলিতে এখনও নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে। পাশাপাশি  প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনকে আরও ছন্দহীন করে দিয়েছে। দীর্ঘ লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। তীব্র ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে আদৌ দুর্গাপুজো সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত পুজো উদ্যোক্তারা।

আরও পড়ুন:আলিপুরদুয়ারে পিছিয়ে তৃণমূল সব আসনে এগিয়ে বিজেপি

রায়গঞ্জ শহরের পুজো উদ্যোক্তারা বলেন,” গতবার  পুজো শেষের একমাসের মধ্যেই পরবর্তী পুজোর মিটিং হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের ফলে মানুষের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। আদৌ পুজো করতে পারব কিনা সন্দেহ রয়েছে। আর যদিওবা পুজো হয় তাহলে একেবারেই আড়ম্বরহীন ভাবে করতে হবে।” একই বক্তব্য উঠে এসেছে রায়গঞ্জের কুমোরটুলির প্রতিমাশিল্পীদের বক্তব্যেও।

প্রবীণ মৃৎশিল্পী ভানু পাল বলেন,” প্রতিবছর বিগবাজেটের আট থেকে দশটি প্রতিমার অর্ডার পাই। সঙ্গে কয়েকটি বাড়ির পুজো থাকে। কিন্তু এবছর এখনও একটিও ক্লাবের পুজোর বরাত পাই নি। দু -তিনটে বাড়ির পুজোর প্রতিমা বানাচ্ছি। ” মৃৎশিল্পীরা আরও জানিয়েছেন, অন্যান্যবার রথের পরদিন থেকেই প্রতিমা বানানোর চরম ব্যস্ততা শুরু হয়ে যেতো। এবছর কিছুই শুরু হয়নি। চারিদিক নিস্তব্ধ। পুজোর সময় প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যবসা হতো এখানে। এবার দশ শতাংশ ব্যবসা হবে কিনা ঠিক নেই। কীভাবে রুজি রোজগার টিকে থাকবে জানা নেই। ” একই অবস্থা শহরের ডেকোরেটার্সদেরও।

আরও পড়ুন:কোচবিহারের ৫ বিধানসভায় এগিয়ে বিজেপি, নাটাবাড়িতে পিছিয়ে মন্ত্রী রবীন্দ্র!

মানিক সাহা নামে এক মন্ডপ শিল্পী বলেন,” লকডাউনের জন্য এবছর বিয়ে, অন্নপ্রাশনের মতো সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ভেবেছিলাম পুজোয় কিছুটা লাভের মুখ দেখব। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটি অর্ডারও পাইনি। টাকা না থাকায় বাঁশের অর্ডার দিতে পারিনি। আমাদের শিল্পের সঙ্গে অনেক শ্রমিক যুক্ত। তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। এই অসহায় পরিস্থিতিতে কোনও সরকারই আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। সব মিলিয়ে এক অজানা আশংকা ক্রমশ গ্রাস করছে দুর্গাপুজোর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যুক্ত বহু মানুষকে।

 

Related Articles

Back to top button
Close