fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সবুজের অভিযানে চারা শুধু রোপন নয়, সংরক্ষণেও ভূমিকা নিতে হবে উদ্যোক্তাদের : অভিমত স্থানীয়দের

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস : প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত মহৎ কর্মদ্যোগ। কিন্তু এই মিশন অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রাকে সফল করতে হলে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা জরুরী, অন্যথায় মুখ থুবড়ে পড়বে সমস্ত কর্ম প্রচেষ্টা, অভিমত পরিবেশ বিজ্ঞানীদের।

 

আরও পড়ুন: কয়লাখনি নিয়ে আলোচনায় ব্রাত্য , ফুঁসছে আদিবাসী সমাজ

 

বর্ষা এলেই এই ধরনের কর্মসূচি ফলপ্রসূ করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান গুলিও এগিয়ে আসে, কর্মসূচি রূপায়নে। সাম্প্রতিক আমফান ঝড়ে প্রচুর সবুজ ধ্বংস হয়েছে। ঘটনায় পরিবেশ সুরক্ষায় সবুজ সংরক্ষণ সহ নতুন ভাবে সৃষ্টির কাজে হাত লাগাতে হবে দেশের যুব সমাজ কে,এ বার্তা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্য ব্যাপী শুরু হয়েছে সেই কর্মাভিযান। সবুজের অভিযানে পিছিয়ে নেই বগুলাও। অন্যান্যদের সঙ্গে বগুলা ইউথ ফোর্সের ভূমিকাও অত্যন্ত প্রশংসনীয়,তবে সংরক্ষণ সহ পরিচর্যার ক্ষেত্রেও ভূমিকা নিতে হবে উদ্দোক্তাদের, দাবি উঠলো এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।করোনা আমফান প্রেক্ষাপটে জনপরিষেবায় একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বগুলার এই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান নেতাজী ইউথ ফোর্স।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের নন স্টপ কর্মধারা অব্যাহত।

৯ ই জুলাই বগুলা স্টেশন পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন এবং ১০ ই জুলাই মুড়াগাছা স্বামী নরোত্তমানন্দ বিদ্যা মন্দির প্রাঙ্গণে সৌন্দর্য্যায়ন সহ এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ভূমিকা পালনে, অন্যতম দাবিদারের অংশিদারীত্বে নিজেদের অনেকাংশে এগিয়ে রাখলো বগুলার নেতাজী ইউথ ফোর্স। ৯ ই জুলাই বগুলা স্টেশনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডাঃ স্বপন বিশ্বাসের নজরদারিতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।স্থানীয়রা এই উদ্দোগকে সাধূবাদ জানালেও কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন অনেকেই।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, স্থানীয় প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যের অভিমত,গাছ তো লাগানো হল এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দূষণ মুক্ত সমাজ গঠনে এর ভুমিকা ও অপরিসীম কিন্তু আশঙ্কা পরিচর্যা সহ সংরক্ষণের জন্য কোন পরিকল্পনা না থাকলে, মাঠে মারা যাবে পুরো উদ্দোগ।গাছ লাগালেই কিন্তু দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না,বিষয় টি কিন্তু ভেবে দেখতে হবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ উদ্দোক্তা সংগঠনকে।

প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে বগুলা নেতাজী ইউথ ফোর্সের বিভিন্ন জনহিতকর সেবামূলক কর্মকান্ডে প্রবাসী সহ দেশ ও রাজ্যের অভ্যন্তরে অনেকের ই নজর এখন বগুলা সহ নেতাজী ইউথ ফোর্স সম্পর্কে জানার আগ্রহে। কলকাতার একজন বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মন্তব্য করেছেন,ছবি এবং সংবাদ পড়ে যতটা বুঝেছি,বগুলার নেতাজী ইউথ ফোর্সের মেম্বাররা প্রত্যেকেই স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া।এরা তো দেখছি, অবিরাম অর্থাৎ ননস্টপ সেবামূলক কাজকর্ম করেই চলেছে। সপ্তাহের একদিন ও হয়তো বিশ্রাম নেই এদের। কিন্তু প্রশ্ন,এরা বাড়িতে খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করেতো? আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি, কেরিয়ার গঠনের সময় এখন, নিজেদের বর্তমান কে পুরো সঁপে দিয়েছে আর্তের সেবায়। উদ্দোগ ভালো কিন্তু নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে ঘামতি পড়ে যাবে না তো! সব কিছু ব্যালেন্স অর্থাৎ ভারসাম্য বজায় রেখে করা উচিৎ নয় কি। জনসেবা অবশ্যই করতে হবে, সুস্থ জীবন গঠনে সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি অংশ হল জনসেবা কিন্তু পরিধি আরও বাড়তে হলে আত্ম স্বনির্ভর হওয়া উচিৎ। বিষয়টি ভূলে গেলে চলবে না।অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখার অনুরোধ করছেন ঐ শুভাকাঙ্ক্ষী।

 

Related Articles

Back to top button
Close