fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করলেন পরিবেশপ্রেমী কৃষ্ণগোপাল

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : বাজারে কচ্ছপ বিক্রি হচ্ছে শুনেই রসায়নের শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠন ‘মেদিনীপুর ছাত্রসমাজে’র সভাপতি কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী উদ্ধার করলেন বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। পটাশপুর থানার ১ নং অঞ্চলের অযোধ্যাপুর বাজারের ঘটনা। প্রতিদিন এখানে বিক্রি হয় কচ্ছপ। তিনি বাজারের সকল মৎস্য ব্যবসায়ীদের এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার কথা বলেন এবং বিক্রয় করলে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত জেল হতে পারে বলে জানান।

 

 

 

অথচ পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়েই প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মাছের বাজারে দেদার বিক্রি চলছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। তেমনি তমলুকের কাঁকটিয়া এবং সবংয়ের তেমাথানি বাজারেও ঢেলে বিকোয় অনেক কচ্ছপ। বনদপ্তরকে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটি Indian Flapshel Turtle। যা বিরল প্রজাতির। বাংলাদেশের অনুরোধে ১৯৭৫ সালে এই প্রজাতির কচ্ছপকে CITES এর Appendix 2 তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও ১৯৮৩ তে এই ধরনের কচ্ছপকে ‘এনডেনজারড স্পিসিস’ (48 FR 52740) থেকে মুক্ত করা হযলেও CITES এর তালিকায় নথিভুক্ত রয়েছে এখনও। আপাতত এক শ্রেনীর মানুষের চূড়ান্ত লোভের শিকার এই কচ্ছপ।

 

 

এ ধরনের কচ্ছপ খুবই দেখা যায় ভারতীয় ভূমিতে। এছাড়া আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, বার্মা, বাংলাদেশের মিঠা জলের পুকুর, ডোবা, নদীতে দেখা মেলে। রাজস্থানের শুষ্ক মরু এলাকার পুকুরেও পাওয়া যায়। তবে ভয়ঙ্কর খরাতেও এঁরা প্রায় ১৬০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এঁদের বিজ্ঞানীরা চেনে এবং জানে Lissemys punctata নামে। যদিও এঁর একটি সাব স্পিসিস Lissemys andersoni রয়েছে। পরিবেশপ্রেমী রাকেশ সিংহ দেব বলেন, মানুষ মূলতঃ সুস্বাদু খাবারের লোভে এঁদের হত্যা করে। অথচ বায়োডাইভার্সিটি রক্ষায় এঁদের বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। আমাদের পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি খুব প্রয়োজন এখন। এঁরা সর্বভুক। ছোট ছোট মাছ, ব্যাঙ, পোকা মাকড় সহ জলজ কীটপতঙ্গ খায়। এভাবেই এঁরা জলের ক্ষতিকর বিষয়গুলো গলাধঃকরণ করে জলদূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিনে এঁদের খোলক থেকে চর্মরোগের এবং ভারতে যক্ষ্মারোগের ঔষধ তৈরি হয়। ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ এই প্রজাতির কচ্ছপের ‘মিওসিন’ যুগের জীবাশ্ম মিলেছে নেপালে।

 

 

 

কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী বলেন, এলাকার সাধারণ শিক্ষিত মানুষজনের সাহায্য নিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রশাসনিক গাফিলতিতে এক শ্রেনীর দুর্বৃত্ত চোরাচালানকারিদের বাড়বাড়ন্ত জেলা জুড়ে। উদাসীন বনদপ্তরের আধিকারিকরাও। প্রশাসনের উচিত স্থানীয় বাজারগুলোতে কড়া নজরদারি করা। তবেই বাঁচানো সম্ভব এই বিরল প্রজাতিটিকে।

Related Articles

Back to top button
Close