fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

তুরস্কের জাদুঘর হায়া সোফিয়া’কে মসজিদে রুপান্তর নিয়ে সমালোচনার ঝড়, সিদ্ধান্তে অটল এরদোগান

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ইস্তানবুলের অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনা হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করা নিয়ে সমালোচনার ঝর বইছে বিশ্বজুড়ে। তুরস্কের এই পদক্ষেপকে ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গ্রিস। ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আমেরিকা, ফ্রান্স ও রাশিয়া। রাশিয়ার উপ-বিদেশ মন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো বলেছেন, ‘তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখপ্রকাশ করছে মস্কো।’ অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব চার্চ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে লেখা এক চিঠিতে হায়া সোফিয়াকে মসজিদ বানানোর উদ্যোগে দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছে।

বিশ্বজুড়ে নানান সমালোচনার পরেও ‘হায়া সোফিয়া’কে মসজিদ বানানোর সিদ্ধান্তে অটল এরদোগান। এ সিদ্ধান্তকে তিনি তুরস্কের ‘সার্বভৌম অধিকারের ব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেছেন। ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে একটি অনুষ্ঠানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, “যারা নিজ দেশে ইসলামোফোবিয়ার (মুসলিমদের ওপর ঘৃণা) বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় না… তারা তুরস্কের সার্বভৌম অধিকার ব্যবহারের ইচ্ছার ওপর আক্রমণ করছে।” একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, “হায়া সোফিয়া সব ধর্মের মানুষের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে।”

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের প্রধান গির্জা (ক্যাথেড্রাল) হিসেবে হায়া সোফিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক শতাব্দী পর ১৪৫৩ সালে ওসমানিয়া শাসনামলে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রুপান্তরিত করা হয়। কিন্তু, ১৯৩৪ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক এই মসজিদে নামাজ নিষিদ্ধ করেন এবং আয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে পরিণত করেন। এখন এটি ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।

কিন্তু, তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ওই স্থাপনা তথা জাদুঘরকে ফের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করার পদক্ষেপ নেওয়ায় বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বছর দুয়েক আগে সেখানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতও করেছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, হায়া সোফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না বলে শুক্রবার রায় দিয়েছেন তুরস্কের একটি আদালত। এর কিছুক্ষণ পরেই স্থাপনাটিকে আবারও মসজিদে রূপান্তরের ঘোষণা দেন এরদোগান। এর পরপরই অন্তত ৮৬ বছর পর ফের আজান দেয়া হয় হায়া সোফিয়ায়। কিন্তু, সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো – কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য এরদোগান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

Related Articles

Back to top button
Close