fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভাঙন অব্যাহত, জমির পর জমি চলে গিয়েছে নদীগর্ভে, শুরু রাজনৈতিক সংঘাত

মিল্টন পাল, মালদা: জেলার সবচেয়ে বড়ো সমস্যা ভাঙন। সোমবারের পর মঙ্গলবারও ভাঙন অব্যাহত। যার ফলে গঙ্গার তীরবর্তী এলাকার প্রচুর জমি বস্তভিটা গঙ্গা গর্ভে চলে গিয়েছে। দেখা দিয়েছে পানীয় জল ও খাদ্য সমস্যা। এমত অবস্থায় প্রশাসনের সাহায্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভাঙন কবলিত গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার জেলার কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বৈষ্ণবনগর বীরনগর এলাকার চিনা বাজার গ্রামে।

সাংসদ খগেন মুর্মুরের অভিযোগ, ইউপিএর সময়ে ভাঙন প্রতিরোধে যে সমস্ত ঠিকাদাররা কাজ করেছে তারা কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ। যার ব্যপক দুর্নীতি হয়েছে। তার ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে এখানকার মানুষদের। পাল্টা আবু হাসেম খান চৌধুরী বলেন, এনডিএ আমলে ভাঙন রোধের কোনও কাজ করা হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, মালদা জেলার কালিয়াচক ৩নম্বর ব্লকের বিস্তৃর্ণ এলাকা গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে। পাশাপাশি মানিকচক, রতুয়া, হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় রয়েছে গঙ্গা ও ফুল হার নদী। সেখানেও ভাঙন অব্যহত রয়েছে। কালিয়াচক ৩নম্বর ব্লকের ভাঙন মোকাবিলার কাজ করে ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। ইউপিএ ওয়ানের আমলে তৎকালীন জল সম্পদ মন্ত্রী প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশ মুন্সির উদ্যোগে ফারাক্কা ব্যারেজ এই এলাকায় কাজ শুরু করে। সেই সময় ঠিক হয় নদীর আপস্ট্রিমে ৪০ কিলোমিটার ও ডাউনস্ট্রিমে ৮০কিলোমিটার পর্যন্ত ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ কাজ করবে।

আরও পড়ুন: ভারতের স্বার্থ খেয়াল রেখেই বিদেশ নীতি নির্ধারণ করবে শ্রীলঙ্কা: কলম্বো

কিন্তু পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত বদল হয়। কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করে নদীর আপস্ট্রিমে ১২ কিলোমিটার ও ডাউনস্ট্রিমে ৬ কিলোমিটার ভাঙ্গন মোকাবিলার কাজ করে বেরেজ কর্তৃপক্ষ।কিন্তু তার পরেও জেলার ভাঙন সমস্যা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দা হেসামুদ্দিন শেখ বলেন,যে হারে ভাঙন হচ্ছে তাতে কয়েকদিনের মধ্যে আরও জমি গঙ্গা গর্ভে চলে যাবে। প্রশাসন কোনওরকম সাহায্যে করছে না। এই পরিস্থিতিতে ভাঙন মোকাবিলার কাজ না করা হলে গ্রামবাসীদের ভাঙনে ভেসে যেতে হবে। আমরা চাই এই ভাঙন দ্রুততার সঙ্গে মোকাবিলা করা হোক।

উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর অভিযোগ, ‘ইউপি এর সময় কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ ঠিকাদাররা এই কাজের বরাত পায়। তারা এত দুর্নীতি করেছে যে আজকে আবার ভাঙন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। একদিকে মালদার বৈষ্ণবনগর অপরদিকে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা এলাকায় ভাঙন হচ্ছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ আবু হাশেম খান চৌধুরী বলেন,বৈষ্ণনগর চিনা বাজার এলাকায় প্রচুর ভাঙ্গন হয়। ইউ পি এ সরকারের আমলে আমরা প্রচুর টাকা নিয়ে এসেছে দুটো বাঁধ দিতাম। একটা নষ্ট হয়ে গেলে আরেকটা রক্ষা করবে। প্রিয়রঞ্জন দাস মুন্সির সময় এই কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু এই কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার সব নষ্ট করে দিলেন। তারা এই কাজ দেখতেন না দেখেন না। কাজেই এইবার ওই এলাকায় প্রচুর ভাঙন হয়েছে মালদা ও মুর্শিদাবাদে।এই ভাঙনের জন্য বর্তমান এনডিএ সরকারের সিদ্ধান্তই দায়ী। আজকে তারা বঞ্চিত করছেন কেন। তারা সঠিক ভাবে কাজ না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখোপাত্র শুভময় বসু বলেন, কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের ভাঙন পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। হাজার হাজার পরিবার তাদের শেষ সম্বল টুকু রক্ষা করতে পারছেনা। ফলে তাদের ত্রাণশিবিরে থাকতে হচ্ছে। এই ডাউনস্ট্রিমের কাজটা ফারাক্কা ব্যারেজের প্রজেক্ট। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের করার কথা। প্রতিবছর এই দাবি আমরা জানাই। কিন্তু অজানা কারণে কাজ হয়না। দীর্ঘ বিজেপি সরকারের এই আমলে এবং পূর্বতন কংগ্রেস পরবর্তীতে বিজেপি সরকারের আমলে বাংলা এই ভাবেই বঞ্চিত হয়ে আসছে। এরা বাংলার কথা কেউ ভাবেনা। সেই কারণে বিজেপি ডাউনস্ট্রিম এর কাজগুলো করে না। মানুষকে তারা বিপদে ফেলে। আমরা অবিলম্বে দাবি জানাচ্ছি ডাউনস্ট্রিম ভাঙ্গন রোধে কাজ করে একটা চিরস্থায়ী সমাধান করা হোক।যে ভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার ভাঙন রোধের কাজ শুরু করুক।

Related Articles

Back to top button
Close