fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদী গর্ভে ভাঙন, তলিয়ে গেল জমি-আই সি ডি এস সেন্টার

মিল্টন পাল,মালদা:  উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে জল বাড়তে শুরু করে মালদার প্রধান তিনটি নদী গঙ্গা, ফুলহার, মহানন্দা নদীতে। যার ফলে মহানন্দা নদীর তীরবর্তী ইংরেজবাজার,পুরাতন মালদার বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে রতুয়ার মহানন্দাটোলা গ্রামপঞ্চায়েতের তিন ঘরিয়া এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন চলছে। ভাঙনের জেরে জমি বাড়ি , আই সি ডি এস সেন্টার তলিয়ে গেল। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার রতুয়ার মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন ঘড়িয়া গ্রামের ঘটনা। যে ভাবে এবছর গঙ্গা ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে আতঙ্কিত গ্রামের মানুষ।অন্যদিকে মালদার মানিকচক অব কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল কমতেই গঙ্গা নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীদের সেচ দফতরের আধিকারিকদের দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ মালদা জেলা প্রশাসনের।

এদিকে মঙ্গলবার তলিয়ে গিয়েছে আই সি ডি এস সেন্টার। তলিয়ে গিয়েছে জমি বসতভিটে। আর এতেই আতঙ্কের প্রহর গুনছে গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামের বাসিন্দা আকতার হোসেন বলেন,চলতি মাসের ৯তারিখ থেকে ভাঙন চলছে। যেভাবে ভাঙন চলছে বাড়ি ঘর খুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। ভাঙন অব্যহত থাকলেও প্রশাসনের কোন হেলদোল নেই। ভাঙন রোধের কাজ না করা হলে কয়েক দিনের মধ্যে গ্রামে জল ঢুকে যাবে। জলবন্দী হবে কয়েক হাজার গ্রামবাসী।এই পরিস্থিতে আমরা প্রশাসনিক কোন সাহায্য পাচ্ছি না। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কাছে অনুরোধ করছি ভাঙন রোধের কাজ করে গ্রামবাসীদের রক্ষা করুন।

অন্যদিকে মালদার কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল কমতেই গঙ্গা নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।এই নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী। গত দু-তিন দিন থেকে  বাঙ্গীটোলা ও বৈষ্ণবনগরের গঙ্গার ভাঙন শুরু হয়েছে। জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে গঙ্গা তার ধ্বংসলীলা শুরু করেছে।কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বাঙ্গীটোলা এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন  ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।  গঙ্গার ধার বরাবর ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমি গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে গঙ্গা থেকে বাঁধের দূরত্ব ২৫ থেকে ৩০ ফিট ও নেই । ফলে ভাঙনের পাশাপাশি গোটা কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকে বন্যার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে।  ফলে গঙ্গার তীরবর্তী বাঙ্গীটোলা অঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ এক সপ্তাহ ধরে এখানে সেচ দফতরের আধিকারিক আসেনি । সেচ দফতর ভাঙন রোধের জন্য কোন কাজ করছে না।

আরও পড়ুন: করোনা আবহে প্রবল তাপপ্রবাহ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জেরবার মার্কিন মুলুক

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত চাষি সুধীর মন্ডল জানান , আমাদের অনেকের জমি চলে গেছে গঙ্গায়। আমাদের ২ বিঘা জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই জমিই ছিল আমাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বল।এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। এবার কী করে সংসার চালাবো, কিছুই বুঝতে পারছি না। সেচ দফতরের জেলা নির্বাহী বাস্তুকার প্রণব সামন্ত বলেন,‘‌”চকবাহাদুরপুর এলাকায় যেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে, কিছুটা অংশ ফরাক্কা ব্যারেজ দেখভাল করে। কিছুটা জেলা সেচ দপ্তরের অধীনে। ভোররাত থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি।

জেলা বিজেপি সহ সভাপতি অজয় গাঙ্গুলী বলেন,এই পরিস্থিতিতে জেলা সেচ দফতর ও ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ভাঙ্গন মোকাবিলা করার কাজ করার জন্য অনুরোধ করছি। প্রতিবছর ভাঙন হলেও রাজ্য সরকার তা দেখে। কিন্তু বাস্তবে কোন কাজ করে না। রাজ্যের সরকার সব টাকা লুঠপাট করছে। এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল। তিনি বলেন ভাঙন মোকাবিলা করার কাজ কেন্দ্র সরকারের কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে ভাঙন এলাকার মানুষকে উঁচু স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close