fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কবি প্রণামেও মন্ত্রী- মেয়রের রাজনৈতিক দূরত্ব, শিলিগুড়ি পুরসভা নিয়ে ঠান্ডা লড়াই

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: করোনা আবহে শুক্রবার অচেনা পঁচিশে বৈশাখ দেখলো শিলিগুড়ি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানাত তাঁরই গান ও কবিতায় মুখরিত হল না শিলিগুড়ি। আর কবি প্রণামের এই অচেন পরিবেশেও রাজনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব ও শহরের মেয়র অশোক ভট্টাচার্য।

করোনা প্রতিরোধে লকডাউন চলছে। তার জেরে কবি প্রণাম হল নমো নমো করে। অন্যান্য বারের মতো রাস্তায় রাস্তায় প্রভাতফেরি, স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন সংগঠনে ছিল না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। তবে নবান্নের নির্দেশে রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতো এদিন সকালে শিলিগুড়িতেও পুলিশকর্মীরা রবীন্দ্র সংগীত, রবীন্দ্র কবিতা আবৃতি করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করেন। এদিন সকালে বাঘাযতীন পার্কে রবীন্দ্র মূর্তিতে প্রথমে মালা দিতে আসেন পর্যটনমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার। বিশ্বকবিকে মালা পরিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পর্যটন মন্ত্রী ওখানে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। সে সময় বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত হন মেয়র। মন্ত্রীর দিকে না তাকিয়েই তিনি সোজা চলে যান রবীন্দ্র মূর্তির কাছে মালা পরানোর জন্য। গৌতমবাবু আর সেখানে অপেক্ষা না করে গাড়িতে উঠে বাড়ির পথ ধরেন। উপস্থিত গুটি কয়েক রবীন্দ্রানুরাগী সেই দৃশ্য উপভোগ করেন।

আরও পড়ুন: সিআইএসএফ জওয়ানের আচমকা মৃত্যুতে বন্ধ জাদুঘর, ৩৩ কর্মী জওয়ান কোয়ারেন্টাইনে

এখন মন্ত্রী ও মেয়রের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়াদ শেষের পর রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করে তা নিয়ে। কলকাতা পুরসভাযর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও তার পারিষদকে যেভাবেই রাজ্য সরকার দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে তা নিয়ে শিলিগুড়ি শহর রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাগুলিরও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি দেখিয়ে যে যুক্তিতে ও কলকাতা পুরসভার আইনকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে একই যুক্তিতে শিলিগুড়ি সহ অন্যান্য পুরসভার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের একই অবস্থান হওয়া উচিত।

১৭ মে শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়াদ শেষ হবে। রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় তা দেখে পদক্ষেপ করবেন বলে জানিয়েছেন অশোকবাবু। তিনি বলেন, ‘ একমাত্র কলকাতা পুরসভার আইনেই বোর্ডের মেয়াদ শেষের প্রশাসক বসানোর নিয়ম নেই। এটা একটা ত্রুটি। কিন্তু রাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার জন্য আগে অর্ডিন্যান্স জারি করা দরকার ছিল। তা না করে রাজ্য সরকার অসাংবিধানিকভাবে পদক্ষেপ করেছে। এর জন্য মামলাও হয়েছে। কারণ সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেই বোর্ডকে ক্ষমতায় রাখা ঠিক নয়। শুনেছি এক আধিকারিক সংবিধানের এই দিকটি বোঝাতে গিয়ে সরকারের কোপ পড়েছেন।’

Related Articles

Back to top button
Close