fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শুভেন্দু অধিকারী বনাম ফিরহাদ হাকিম, সূর্যোদয় দিবসের বর্ষপূতিতে তিন সভা ঘিরে তপ্ত নন্দীগ্রাম

ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলবো না তো নন্দীগ্রাম! বার্তা মমতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: জমি আন্দোলনের ২০০৭ সালের রক্তস্নাত সূর্যোদয় দিবসের বর্ষপূতিতে একইদিনে সমাবেশ, পালটা সভা ও আবার তার জবাবি সভাও হচ্ছে নন্দীগ্রামে। আজকের এই তিন সভা ঘিরে ক্রমশ উত্তাপ বেড়েই চলেছে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তীতে নানা আন্দোলন-লড়াইয়ের গর্ভগৃহ মেদিনীপুরে। পক্ষ ও বিপক্ষ মিলিয়ে অবশ্য তিনটি সভার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজ্যের পরিবহণ, সেচ ও জলসম্পদমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আজ ১০ নভেম্বর। ১৩ বছর আগে আজকের দিনেই ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের বুকে প্রতিবাদী মানুষের দিকে গুলি চালেছিল। মারা গিয়েছিলেন প্রতিবাদী মানুষেরা। সকালে সেই রক্তস্নাত অধ্যায়ের কথা বাংলার মানুষকে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নিজে ট্যুইট করে বংলার মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রাম তথা বাংলার মানুষকে বার্তা দিলেন, ‘ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলবো না তো নন্দীগ্রাম।’ এদিন নন্দীগ্রামের বুকে তৃণমূলের দুটি কর্মসূচী থাকছে। একটি হাজরাকাটায়, অন্যটি তেখালিতে। এই দুই সভার দিকেই আজ নজর থাকবে বাংলার।

রক্তস্নাত সূর্যোদয় দিবসের ১৩তম বর্ষপূর্তিতে নন্দীগ্রাম  -এর ‘তেখালি চলো’ কর্মসূচিতে সকাল সাড়ে দশটায় স্কুলমাঠে হবে স্মরণসভা। এর জন্য সোমবার বেলা থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও অন্য জেলার ‘শুভেন্দুর অনুগামী’রা সেখানে আসতে শুরু করে দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী ব’নাম ফিরহাদ হাকিম; নন্দীগ্রামে শ’হিদ দিবসে মুখোমুখি ল’ড়াই। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু বনাম ফিরহাদ; কিন্তু শ’হিদ দিবসে আসল ল’ড়াইটা শুভেন্দু বনাম মমতারই। মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে; নন্দীগ্রাম দিবসের সভা ঘিরে; প্রস্তুতি ও বিতর্ক দুইই তুঙ্গে। নন্দীগ্রামের গোকুলনগর হাইস্কুলের মাঠে; বাঁধা হয়েছে বিরাট ম্যারাপ। তৃণমূল নয়, শুভেন্দুর সভা হবে; ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে। শুভেন্দুর এই সভার; বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, নন্দীগ্রামে শ’হিদ দিবস; পালন করবে তৃণমূলই। তাই একই দিনে, নন্দীগ্রামের হাজারকাটায় তৃণমূলের সভা; সেখানকার প্রধান বক্তা হলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তবে, তৃণমূলকে পাত্তা না দিয়েই; নন্দীগ্রামে সভা করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সভা; অন্যদিকে তৃণমূলের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা; যেখানে মূল বক্তা ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবারে শুভেন্দুর সভা হবে; ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে। যার বিরোধিতায় সরব হয়েছে; জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই দলীয় প্রতীক না থাকলে; কোনও সভায় কর্মীদের যোগ না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন; দলের পূর্ব মেদিনীপুরের সহ সভাপতি অখিল গিরি। “শুভেন্দু ঠিক করলেন না”; লড়াইয়ের আগেই যেন হার স্বীকার ফিরহাদ হাকিমের।

সোমবার কলকাতায় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “শুভেন্দুর উচিত আগামিকাল দলের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া। দলের প্রতিটি সদস্যরই দায়িত্ব ও কর্ত্যব দলীয় নির্দেশ মেনে চলা।” এরপরই পুরমন্ত্রী জানান, নন্দীগ্রাম আন্দোলন হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে। আমরা সবাই নেত্রীর সেই লড়াইয়ের জন্য গর্ববোধ করি। সেদিন বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণ করতে দলীয় সভা হচ্ছে। সেই সভায় দলীয় নির্দেশে অনেকে যাবেন।

আরও পড়ুন: Bihar Election: নিজের সংখ্যা বাড়াচ্ছে NDA, হাসানপুরে পিছিয়ে তেজপ্রতাপ

যে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূলের উত্থান, এবার সেখানেই ধীরে ধীরে; পায়ের তলার মাটি সরছে তৃণমূলের। তার প্রধান কারণ হলেন; রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে শুভেন্দুর গতিবিধি নিয়ে; তৃণমূলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম আ’শঙ্কা। জল্পনা উঠেছে যে, ২০২১ এর নির্বাচনের আগেই; শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অনুগামীদের নিয়ে তৃণমূল ছাড়তে পারেন এমনও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আর এর মধ্যেই মঙ্গলবার; দু দুটি জনসভা। নন্দীগ্রামে ভূমি উচ্ছেদ কমিটির ব্যানারে; শুভেন্দু অধিকারীর জনসভা। অন্যদিকে, একই দিনে নন্দীগ্রামের হাজারকাটায় তৃণমূলের সভা। প্রধান বক্তা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম হলেও; আসলে এখানে না থেকেও আছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারীর সভার সঙ্গে; তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। আর তৃণমূলের সভাতেও; যাবেন না শুভেন্দু অধিকারী। লড়াই, শুভেন্দু ফিরহাদের হলেও; নন্দীগ্রামে আসল লড়াই কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই। কে জিতবে? সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।

 

Related Articles

Back to top button
Close