fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

যুবতীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য মন্তেশ্বরে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালনা: গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক যুবতীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে। মৃত যুবতীর নাম সুমাইয়া খাতুন(২১)। তার বাড়ি মন্তেশ্বরের মৌসা গ্রামের পূর্ব পাড়ায়। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় ও ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। এই মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। যুবতীর পরিবার জানায় যে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলেই তাদের অনুমান। তাই ঘটনার তদন্ত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশকে আবেদন জানায় মৃত যুবতীর পরিবার।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মন্তেশ্বরের মৌসা ও পুটশুড়ি এলাকার মধ্যে ফাঁকা মাঠে থাকা একটি সাবমার্সিবল পাম্পের ঘরের বাইরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায় ওই যুবতীকে। এরপরেই স্থানীয় ও পরিবারের লোকজনের কাছে খবর পেয়ে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মৃতদেহটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পরিবারের দাবি বেশ কয়েকমাস ধরেই কাটোয়ার মুলটি এলাকার এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিলো ওই যুবতীর। তার মধ্যেই এই ঘটনা।

আরও পড়ুন: করোনা আক্রান্ত কালনা হাসপাতালের চিকিৎসক

মৃতার দাদা ত্বহা সেখ বলেন, ‘বোন লকডাউনের মধ্যেই মহারাষ্ট্র থেকে বাড়ি ফিরে আসে। এর ছয় মাস আগে হঠাৎ করেই বোন বাড়ি থেকে চলে যায়। তারপরেই সে জানায় সে মহারাষ্ট্রে চলে যায় রহমান নামে কাটোয়ার ওই যুবকের সঙ্গে। আর ওখানে একটি ফ্যাক্টরীতে তারা কাজেও যোগ দেয়। ওই যুবককে বিয়ে করে বলেও বোন জানায়। কিন্তু পরে ওই যুবকের পরিবার এই সম্পর্ককে মেনে নেয়নি। ওই যুবকের সঙ্গে বোন ফোনেও কথা বলতো। অসুস্থ মা যখন ঘুমিয়ে পড়ে সেইসময় বুধবার রাত আটটা থেকে নয়টার মধ্যে বোন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ও কাগজে লিখে রেখে দিয়ে যায় যে, রহমান নামে ওই ছেলেটির সঙ্গে বাসে করে চলে যাচ্ছে বলে। পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি সাবমার্সিবল পাম্পের ঘরের বাইরের দেওয়ালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বোনকে ঝুলতে দেখা যায়। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায় বোনের পরনে থাকা জামা উল্টো করে পড়ানো রয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থাকা একটি ব্যাগের ভিতর জামাকাপড় ও কিছু অলঙ্কার উদ্ধার হলেও বোনের মোবাইল দুটি পাওয়া যায়নি। আমাদের অনুমান বোনকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবো। ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছি পুলিশকে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close