fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফানের জেরে পাট চাষে ব্যপক ক্ষতি, মাথায় হাত চাষিদের

মিল্টন পাল,মালদা: মরশুমের শুরুতে মাথায় হাত পাট চাষিদের। মালদা জেলার বিভিন্ন ব্লকে শুরু হয়েছে পাট চাষ। কিন্তু দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে পাটের পাতায় রোগ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে শুরু করেছে। তারওপর আমফান ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পাট চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন চাষিরা। সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে চাচোল মহাকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ও ২ ব্লকে।

স্থানীয় পাট চাষি হারুন আলি বলেন, এবছর অসময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। কখনো আবার ঝড় এবং শিলা বৃষ্টিও হয়েছে। তারপর আবার আমফান ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে মালদায়। এর জেরে পাটের ফলনে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিতে শুরু করেছে। পাটের পাতায় পোকা লেগে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে পাট গাছে। এমনকি জমিতে হঠাৎ করে আগাছাতেই প্রচুর পরিমাণে পাটের ক্ষতি করছে। আমরা টাকা ধার করে পাট চাষ শুরু করেছি। কিন্তু বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার চরম লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলেই মনে করছি। ধার নেওয়া টাকা কিভাবে শোধ করব সেটাও ভেবে কুল করতে পারছি না।

আরও পড়ুন: ফের দুর্ঘটনার কবলে পরিযায়ী শ্রমিকরা, উত্তরপ্রদেশে বাস দুর্ঘটনায় আহত ২০

হরিশ্চন্দ্রপুরের পাট চাষি মমতাজ আলি বলেন, একই তো দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে লকডাউন চলছে। যার জন্য জমিতে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারি নি । গত বছরের পাট ঘরে জমা হয়ে আছে। এবছরের শোনা যাচ্ছে পাটের দাম পাওয়া যাবে না। পাট চাষের শুরুতেই রোগপোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় প্রচুর ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করা যাবে তা বুঝতে পারা যাচ্ছে না।

জেলা জুট মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক গোপাল ভগৎ বলেন, এবছর লক ডাউনের জন্য পাটের দাম তেমন ভাবে পাওয়া যাবে না বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাটের গোলাগুলিতে লেবারের অভাব দেখা গিয়েছে। মিলমালিকরা পাটের দাম যেভাবে দেয় , আমরাও সেই স্থানীয় চাষীদের পাটের দাম দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না। এবছর পাটের পাতায় পোকা লাগায় পাটের ফলন আশানুরূপ হবে না বলেই আমাদের ধারণা।

চাঁচোলের মহকুমার শাসক সব্যসাচী রায় জানিয়েছেন,পাট চাষিদের সমস্যার কথা শুনেছি। আমফানের প্রভাব কোথায় কতটা পড়েছে , তার একটি তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close