fbpx
অসমআন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

অসমের ধুবরি জেল থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরল ২৫ বাংলাদেশি 

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে এসে কাজ করার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে চার মাস কারাভোগের পর ২৫ বাংলাদেশি ধুবরি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরেছে।

বুধবার বিকালে তারা বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে বন্দি জীবনের অবসান ঘটে তাদের। মিডিয়ার দৌলতে আলোচিত হওয়ায়, অনেকে দেখতে আসেন তাদের। এসময় আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাদেরকে বরণ করে নেয়া হয় ফুল দিয়ে।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর ও বাংলাদেশ-ভারত বর্ডার ভিকটিম রেসকিউ কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, গত ২৯ আগস্ট ভারতের ধুবড়ি আদালত প্রায় চার মাসের হাজতবাস শেষে মুক্তির আদেশ দেয় তাদের। অন্যান্য অফিসিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে চেংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

গত ৩ মে বাংলাদেশে ফেরার সময় ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে আসা ২৬ বাংলাদেশিকে আটক করে ধুবরি পুলিশ। এদের একজন ভারতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।ধৃতরা বৈধ পাসপোর্ট ও তিন মাস মেয়াদের ভ্রমণ ভিসায় ভারতে গিয়েছিল। করোনার সময় লকডাউনের ফলে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ধুবরি পুলিশ তাদের আটক করে।

অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন আরও জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ভারত সরকারের প্রসিকিউশন মামলাটি কলঅফ করার সম্মতি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে সকল পক্ষের আইনজীবীদের শুনানির পর ধুবড়ি আদালতের বিচারক জেলহাজতে আটক ২৫ জন বাংলাদেশিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি এবং মামলাটি নথিজাত করার আদেশ দেয়। এরমধ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার হলো।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ২৬ বাংলাদেশি ভারতে আসেন। বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ ভিসা থাকলেও ভারতে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন চলার মধ্যে গত ২ মে ওই ২৬ জন বাংলাদেশি দুটি মিনিবাসে অসমের জোরহাট জেলা থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পশ্চিমবঙ্গের চেংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা ছিল তাদের। ভারতে জেলে ও খামারকর্মী হিসেবে কাজ করা এসব বাংলাদেশিকে পরদিন (৩ মে) সকালে বাহালপুর এলাকা থেকে আটক করে অসমের ধুব জেলা পুলিশ। করোনা পরীক্ষার পর তাদের পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। গত ৫ মে ওই ২৬ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং ফরেনার্স (সংশোধিত) অ্যাক্ট, ২০০৪ এবং পাসপোর্ট অ্যাক্ট, ১৯৬৭’র ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দেশটির পুলিশ।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাসপোর্টধারী এসব বাংলাদেশি টি-ওয়ান ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এই ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি না থাকলেও অসম পুলিশের অভিযোগ, এই বাংলাদেশিরা রাজ্যের জোরহাট, গোলাঘাট ও শিবসাগর এলাকায় কর্মসংস্থান কার্যক্রমে যুক্ত থেকে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close