fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

ভয়াবহ বন্যার কবলে উত্তর ভারত, ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ লক্ষ মানুষ

১০৮টি ড্যামকে সতর্কতা জারি IMD'র

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের একাংশ। করোনা সংক্রমণের মধ্যে ভারতের একাধিক রাজ্যে শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। অসম, বিহার, উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই বন্যার কবলে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ক্ষতি হয়েছে সম্পত্তির। তারমধ্যেই এবার গুজরাত, অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড বৃষ্টির জেরে নদীর জল বাড়ছে। তার ফলে সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা প্রশাসনের। একদিকে করোনা, অন্যদিকে বন্যা, কীভাবে সবটা সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে চিন্তায় উত্তর থেকে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্য। বর্তমানে বন্যার প্রভাব সবথেকে বেশি পড়েছে বিহারে। ইতিমধ্যেই এই রাজ্যের ১৬টি জেলায় ৮৩ লাখের বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, এই রাজ্যের ১৬ জেলায় এখনও অবধি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার মানুষ সরাসরি বন্যার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যা ৭০-এর বেশি। উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

                   আরও পড়ুন: শুভ জন্মদিন… ভালো থেকো কল্লোলিনী তিলোত্তমা

জানা গিয়েছে, পটনার গান্ধী ঘাট ও হাতিদাহ এবং ভাগলপুর জেলার কহলগাঁও এলাকায় গঙ্গার জল বিপসীমার উপর দিয়ে বইছে। ইতিমধ্যেই বক্সার, দিঘা, গান্ধী ঘাট, হাতিদাহ ও কহলগাঁওয়ে সব নদীর জল বাড়ছে। ভেঙেছে রাস্তাঘাট, নদীর পাড়। চাষের জমির পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গবাদি পশুর ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে বিহারের উত্তর ভাগের জেলাগুলিতে নতুন করে নেপালে উৎপত্তি হওয়া নদীগুলোর মাধ্যমে হু হু করে জল ঢুকছে। যার ফলে ক্রমশই ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি।

বন্যার প্রভাব পড়েছে উত্তরপ্রদেশেও। ইতিমধ্যেই এই রাজ্যের প্রায় ১৬টি জেলার হাজারের বেশি গ্রাম বন্যার কবলে পড়েছে। ক্রমাগত এর প্রকোপ বাড়ছে। বন্যার পরিস্থিতি রাজধানী দিল্লিতেও। আবহাওয়া দফতর বলছে, স্বাভাবিকের চেয়ে ১১ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে দিল্লি-উত্তরপ্রদেশে। শহর অঞ্চলগুলিতে তীব্র যানজটে বেহাল নগর জীবন। গাড়ির লাইন পড়ে গেছে সড়কগুলিতে। কোনও কোনও রাস্তা নদীর মতোই ভরে আছে জলে। গ্রামজীবনের অবস্থা শোচনীয়। ঘরছাড়া কয়েক হাজার মানুষ।

 

উত্তরপ্রদেশের হাজারের বেশি গ্রামের মধ্যে বহু গ্রামে এখনও পৌঁছনোই যায়নি বলে জানা গেছে সরকারি সূত্রে। রিলিফ কমিশনার সঞ্জয় গয়াল জানিয়েছেন, বহু জায়গায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। রাপ্তি, ঘাগরা, শারদা– তিন নদীর জলই বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বহু মাটির বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। পরিবার, গবাদি পশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, আরব সাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমী হাওয়া এবং বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বের হাওয়ার জন্য অঞ্চলগুলিতে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। ফলে বুধবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতে। সম্বল, গুলাওটি, সিয়ানা, বুলন্দশহর, খুরজা, কোসলি, বাওয়াল, নুহ, সোহনা, পালওয়াল, হোদাল, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম, মানেসর, বল্লভগড়— এইসব এলাকা বিপন্ন।

বন্যার সতর্কতা জারি হয়েছে গুজরাতেও। কিছু কিছু এলাকাতে ইতিমধ্যেই বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীতে জল বাড়ছে। তার জেরে ১০৮টি ড্যামকে সতর্ক করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close