fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা গুজবে ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের দেহ সৎকার করতে ‘না’ স্বজনদের, এগিয়ে এলেন মুসলিমরা

অভিষেক চৌধুরী, কালনা: করোনা আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও স্বজনরা কেউ এগিয়ে আসেননি হিন্দু পরিবারের বৃদ্ধর মৃতদেহ সৎকার করতে। এই পরিস্থিতিতে তিন দিন ধরে পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমা হাসপাতাল মর্গে পড়েছিল অশীতিপর বৃদ্ধ সন্তোষ ঘোষালের মৃতদেহ।

মন্তেশ্বরের মামুদপুর গ্রাম নিবাসী ব্রাহ্মণ বৃদ্ধর এমন করুণ পরিণতি মেনেনিতে পারেননি পাশের গ্রামের মুসলিম মানুষজন। এলাকার যুবক ফরিয়াদ মল্লিক ও তাঁর সতীর্থরা মৃতর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার পৌছে যান কালনা হাসপাতাল মর্গে । সেখান থেকে মৃতদেহ নিয়ে এসে হিন্দু শাস্ত্র মতে তারা গ্রামের শ্মশানে ব্রাহ্মন বৃদ্ধের দেহ সৎকার সারলেন। মুসলিম যুবকদের এমন মহানুভবতার তারিফ করেছেন আপামোর মন্তেশ্বরবাসী ।

মৃতর মেয়ে মণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন , তাঁর সত্তরোর্ধ্ব বাবা সন্তোষ ঘোষাল কিডনির অসুখে ভগছিলেন । কয়েকদিন আগে উনার শারীরিক অসুস্থতা বাড়ে । ওই দিন তাঁরা সন্তোষ বাবুকে নিয়েযান মন্তেশ্বর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্রে । চিকিৎসা শুরুর আগে করোনা পরীক্ষার জন্য সেখানে সন্তোষবাবুর লালা রসের নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসক । সন্তোষবাবুর স্ত্রী ও কন্যা অভিযোগ করেছেন , রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত হাসপাতালে কোন চিকিৎসাই হয় না বৃদ্ধর । সেই কারণে কার্যত বিনা চিকিৎসায় সন্তোষ বাবুর মৃত্যু হয় ।

তার পর পিপিই কিট পরিয়ে মৃতদেহ পাঠিয়ে দেওয়া হয় কালনা মহকুমা হাসপাতাল মর্গে । তারই মধ্যে কেউ গ্রামে রটিয়ে দেয় করোনা আক্রান্ত হয়ে সন্তোষবাবুর মৃত্যু হয়েছে । যা নিয়ে সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় । মৃতর মেয়ে আরও বলেন ,তাঁর বাবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও স্বজনরা ও গ্রামের লোকজন মুখ ফিরিয়ে নিয়ে থাকেন । কেউ তাঁর বাবার মৃতদেহ সৎকার করতে যেতে চান না ।

কালনা হাসপাতাল মর্গেই তিন দিন ধরে মৃতদেহ পড়ে থাকে । মণিকা দেবী বলেন, এদিন পাশের গ্রামের ফরিয়াদ মল্লিক সহ অপর মুসলিম ভাই ও দাদারা এদিন এগিয়ে আসায় তিনি তাঁর বাবার দেহ সৎকার্য সম্পন্ন করতে সক্ষম হলেন ।

ফরিয়াদ মল্লিক এদিন বলেন, ‘মোরা এক বৃন্তে দুই টি কুসুম হিন্দু মুসলমান’। এটা যে নিছক কথার কথা নয় সেটা তাঁরা বোঝেন । ফরিয়াদ বলেন , করোনা আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও এক হিন্দু ব্রাহ্মন বৃদ্ধের দেহ সৎকারে কেউ এগিয়ে আসছে না এটা তাঁদের ব্যাথিত করেছিল । তাই ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের সৎকার্যের দায়িত্ব তাঁরাই কাঁধে তুলে নেন । হিন্দু শাস্ত্র মতেই ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের দেহ সৎকার সম্পন্ন হয়েছে ।

Related Articles

Back to top button
Close