fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জালনোট পাচারের মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করল NIA

মিল্টন পাল, মালদা: জালনোট পাচারের কিংপিংকে গ্রেপ্তার করলো এনআইএ।  ভারত-বাংলাদেশ জাল নোট চক্রের অন্যতম কিংপিন। মালদার বৈষ্ণবনগর থানার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মোহনপুর এলাকায় তার বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এন আই এ। গত কয়েক বছর ধরে ওয়ান্টেড ছিল ওই জালনোট করবারির। তার মাথাযড় ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। শুক্রবার ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য মালদা আদালতে পেশ করে এন আই এ।
জানা গিয়েছে,ধৃতের নাম এনামুল হক (৪৬)। বাড়ি মালদার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বৈষ্ণবনগর থানার মোহনপুর গ্রামে। এনামুল হক মালদা মুর্শিদাবাদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে জালনোট সংগ্রহ করত এবং তা দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ,তেলেঙ্গানা সহ বিভিন্ন জায়গায় প্যাডেলারের মাধ্যমে জালনোট পাচার করত। এর আগে মোহাম্মদ মাহবুব বাগি সহ বেশ কয়েকজনকে দক্ষিণ ভারতে জাল নোট চক্রের যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ। সেখানেই তারা জিজ্ঞাসাবাদে এই ব্যক্তির নাম বলে। এরপর থেকেই এর খোঁজ চালাচ্ছিল তদন্তকারী সংস্থা। এর খোঁজ দিতে পারলেই ২৫হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। ধৃতের বাড়ি ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সবদলপুর এলাকার ঠিক পাশেই মোহনপুর এলাকা। আর সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ নিয়ে এই জালনোট গুলি বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করত সে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এনআইএর তদন্তকারী দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
দীর্ঘদিন ধরেই মালদা জেলাকে করিডোর করে ভারতে জালনোট চক্র বাংলাদেশ থেকে রীতিমতো সক্রিয়।এর পিছনে রয়েছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। জেএমবি জামাত সহ বাংলাদেশের বেশকিছু জঙ্গি সংগঠন প্রত্যক্ষ মদত দেয় এই জালনোট কারবারিদের। উদ্দেশ্য একটাই ভারতের অর্থনীতিতে ভেঙে দেওয়া। এর আগে নোট বন্দির পর জালনোট কিছুটা কমলেও কিছুদিনের মধ্যেই গোলাপি ২০০০ টাকার নতুন নোট বাজারে চলে আসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সূত্রে জানা যায় বছর কয়েক আগে বাংলাদেশের শিবগঞ্জের মনাকষা এলাকার বাসিন্দা ওখানকার ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার হাবিবুর রহমান ওরূপে হাবিলকে বাংলাদেশের রেপিড অ্যাকশন বাহিনী গ্রেপ্তার করে। এই হাবিলই ছিল এই জাল নোট চক্রের অন্যতম কিং।
এনআইএ বিএসএফ পুলিশের মতন বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা গুলি মালদা কালিয়াচক বৈষ্ণবনগর জালনোট কারীদের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয় হয়। এরপর জালনোট কারবারীরা তাদের পাচারের রুট কিছুটা পাল্টে ফেলে।বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এলাকার জহরপুর, জহরপুর ট্র্যাক,বাখের আলী, মাসুদপুর এলাকা দিয়ে গঙ্গা নদী পার করে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান হয়ে জেলার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পরছে। বিগত বছর খানেক ধরে মালদায় জাল নোটের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মুর্শিদাবাদে মূলত জালনোট কারবারিদের সক্রিয়তা দেখা যায়। প্রচুর জাল নোট উদ্ধার হয়।এনামুল হক নামে এই জাল নোটের কিংপিন এনআইএর জালে ধরা পরায় জালনোট কারবারিরা কিছুটা ধাক্কা খাবে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।  টুইটারের মাধ্যমে এনআইএ প্রেস বিবৃতিতে এনামুল হকের গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে নিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close