fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভুয়ো আই. টি. আই কেন্দ্রের নামে রমরমা ব্যবসা,  প্রতারিত হচ্ছে অসহায় বেকার সমাজ

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: ভুয়ো আই. টি. আই কেন্দ্রের নামে রমরমা ব্যবসা চলছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার অন্তর্গত দশগ্রামে ‘সৌনাভ স্টাডি সেন্টার’ ও সৌনাভ কাউন্সিলিং একাডেমি’ একই দুই নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রাইভেট আই. টি. আই কেন্দ্র দাবি করে নানা ট্রেড প্রশিক্ষিত করবার প্রতিশ্রুতির প্রচার চালিয়ে আশেপাশের বেকার যুবক, যুবতীরা এর প্রলোভনে পা দিয়ে প্রতারিত হচ্ছে।

এমনই এক অসহায় পরিবারের বেকার যুবক এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নারায়ণগড় থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। দীপঙ্কর ঘোড়াই নামে ওই যুবক জানিয়েছে, ” আমার পটাশপুর থানার অন্তর্গত খাড়ান গ্রামে বাড়ি, খবর পাই  সবংএর দশগ্রামে প্রাইভেট আইটি. আই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণগত কোনো ট্রেড করলে বিভিন্ন চাকুরীর সুযোগ করে দেওয়া হয়। সেই মতো ‘সৌনাভ স্টাডি সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথা বলি ওনার মালিক নারায়ণগড় থানার অন্তর্গত দুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বলরাম পানিগ্রাহি বলেন- আমার এই প্রতিষ্ঠান থেকে ইলেকট্রিশিয়ান. ফিটার, ওয়েলডার, ইত্যাদি নানা ট্রেড প্রশিক্ষণ করিয়ে কাউন্সেলিং করানো হয় এবং নার্সিং ও প্যারামেডিকেল এর বিভিন্ন কোর্স বাইরের স্টেটের নামযাদা প্রতিষ্ঠান থেকে করিয়ে নিশ্চিত চাকুরির সহায়তা করে দেওয়া হয়।

                   আরও পড়ুন: দিঘায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত কলকাতার দুই পর্যটক

এগরা-পটাশপুর মেন রাস্তার ওপর ফলাও করে ব্যানারের গেটও চোখে পড়ার মতো। আমাকে তিন মাস প্রশিক্ষণের পর বাঙ্গ্যালোর-এ চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন আমি পাঁচ হাজার টাকা জমা দিই। ভুল ভাঙে কিছু দিন পর খবর নিয়ে জানতে পারি আদতে ওই কেন্দ্রটি আই. টি. আই স্বীকৃত কোনো সরকারি অনুমোদন নেই, আদতে ওটি একটি কোচিং সেন্টার, আমাকে ভুল বুঝিয়েছেন। পরে আমি টাকা জমা দেওয়ার রসিদ নিয়ে নারায়ণগড় থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়। থানার আধিকারিক পদক্ষেপ নিয়ে উল্লেখিত ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকে তলব করলে বলরাম পানিগ্রাহি বলেন, ‘এটা আমার কোনো আই. টি. আই ট্রেনিং সেন্টার না, এটা কোচিং সেন্টার, ওনারা বুঝতে ভুল করেছে সত্যতা প্রমাণ হলে প্রশাসন যা শাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেবো”

দীপঙ্কর ঘোড়াই এর মা মঞ্জুরী ঘোড়াই বলেন, “স্বামী দিনমজুর, আমরা বেশি লেখাপড়া জানি না, অতশত বুঝিও না, ছেলে যদি একটা চাকরি পাই, হয় তো আমাদের একটু দুর্দশা মিটবে,  মানুষ করতে টাকাটা দিয়েছি, পরে ওই প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র গ্রামের কিছু শিক্ষিত মানুষেরা দেখে বলেন এই প্রতিষ্ঠান জাল টাকা ফেরতের জন্য ওনার অফিসে যাই। তখনও উনি আমাদের বলেন আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুমোদিত, স্বস্তি বলতে থানার অফিসারের সহায়তায় বেগতিক বুঝে বলরাম পানিগ্রাহি এড্যভান্স পুরো পাঁচ হাজার টাকাই ফেরত দিয়ে একটা মুচলেখা লেখানো হয় থানার পক্ষ থেকে।

দীপঙ্কর ঘোড়াই বলেন, “নারায়ণ গড় থানার ওসির সহায়তায় টাকাটা পেলাম ঠিকই, শুনেছি আরও বেশ কিছু জন একই ভাবে প্রতারিত হয়েছে, বেকার ছেলেদের ঠকিয়ে ভুয়ো প্রতিষ্ঠান খুলে যারা ভুল বুঝিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তাদের প্রশাসন একটু লক্ষ্য নজর করুক। আর যাতে কেউ না ঠকে, প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন আদৌ আছে? কি নেই? তার সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য থানায় আর্তি জানিয়েছি।

Related Articles

Back to top button
Close