fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

পরিবারের দাবিতে হাসপাতাল থেকে রোগীকে ছাড়ানোর পরেও ফের সাহায্যের দাবি! বিপাকে খোদ স্বাস্থ্য কমিশনই

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কাউকে সাহায্যের পরিণাম যে এরকম ভয়ঙ্কর হবে, তা ভাবতে পারেননি স্বাস্থ্য কমিশনের কর্তারাই। বকেয়া বিল না মেটালে রোগীকে ছাড়া হচ্ছে না, এই দাবিতে প্রথমে স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল রোগীর পরিবার। কিন্তু স্বাস্থ্য কমিশনের হস্তক্ষেপে রোগী হাসপাতাল থেকে বাইরে আসতেই বদলে যায় অভিযোগের ধরণ।
হাসপাতালে বিল হওয়া ৩৫ লক্ষ টাকার মধ্যে বাকি ১৯ লক্ষ টাকা মকুব করে দেওয়ার আবেদন জানান রোগীর স্ত্রী। স্বাস্থ্য কমিশনের কোনও আইনের আওতায় এরকম সাহায্যের কোনও উপায় নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানা গিয়েছে, গত ১২ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে এবং আরও একাধিক অসুস্থতা নিয়ে মেডিকা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন ডায়মণ্ড হারবার কোর্টের আইনজীবী অলোককান্তি ন্যায়বান। সেই কারণে টানা ৭৭ দিন ভর্তি থাকতে হয় অলোককান্তিবাবুকে।
এদিকে হাসপাতালের বিল বেড়ে যাচ্ছে দেখে পরিবার মোট বিলের পরিমাণ জানতে চায়।
মেডিকা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসা বাবদ অলোকবাবুর বিল হয়েছে সাড়ে ৩৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত ১৬ লক্ষ টাকা দিতে পেরেছিলেন অলোকবাবুর স্ত্রী মধুমিতা ন্যায়বান। বিপুল পরিমাণ এই বিল দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে যান তিনি।

বিল না মেটালে স্বামীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে না তা তিনি জানতেন। তাই বেসরকারি হাসপাতালে গাফিলতি খতিয়ে দেখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কমিশনকেই ফন্দি এঁটে হাতিয়ার করেন তিনি। প্রথমে অলোকবাবুর স্ত্রী মধুমিতা স্বাস্থ্য কমিশনে এসে দাবি করেন, বিল বাকি থাকার জন্য হাসপাতাল আমার স্বামীকে ছাড়ছে না। দয়া করে সাহায্য করুন।’ যেহেতু বিল বাকি থাকার জন্য হাসপাতাল কোনও সুস্থ রোগীকে আটকে রাখতে পারে না, সেই সংস্থান দেখিয়ে হস্তক্ষেপ করে মধুমিতার স্বামীকে হাসপাতাল থেকে বের করে আনে স্বাস্থ্য কমিশন। এর পরেই অনুরোধের সুরে মধুমিতা বলেন, ‘বাকি ১৯ লক্ষ টাকা আমার পক্ষে আর দেওয়া সম্ভব নয়, দয়া করে সাহায্য করুন।’
আর এভাবেই মহিলার আর যেতে সাহায্য করে উল্টে স্বাস্থ্য কমিশন পড়েছে বিপাকে।

স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম কুমার বন্দোপাধ্যায় বলেন, স্বাস্থ্য কমিশন কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সাহায্য করতে পারে না। স্বাস্থ্য কমিশনের অনুরোধে যদি হাসপাতাল বিল রিভিউ করে কিছুটা কমিয়েও দেয়, তাহলেও রোগীর পরিবার তা দিতে পারবে না। সেক্ষেত্রে বিল না মেটানোর দায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ বা স্বাস্থ্য কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে উল্টে এই পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে স্বাস্থ্য কমিশনকে। হাসপাতাল যে খারাপ চিকিৎসা দিয়েছে, তাও বলছেন না পরিবার। অর্থাৎ চিকিৎসা গাফিলতির কোনও প্রমাণ নেই। তবে চিন্তা ভাবনা করে একটি মধ্যপন্থা বার করেছে স্বাস্থ্য কমিশন। মেডিকা সুপার স্পেশ্যালিটি হসপিটালকে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমিশনের অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, তারা রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বিষয়টি যাতে সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করবেন।

Related Articles

Back to top button
Close