fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পরিবারের আপত্তিতে ঠাঁই মেলেনি বাড়িতে, গাছে মাঁচা বেঁধে কোয়ারেন্টাইনে প্রৌঢ়

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: হরিয়ানার একটি নামী গাড়ির কোম্পানিতে কাজ করতেন রায়গঞ্জের বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা অজিত মন্ডল। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর বকেয়া টাকাপয়সার জন্য কারখানায় গিয়ে আটকে পড়েছিলেন লকডাউনে। অনেক কষ্টে গত ৭- মে ফেরেন নিজের গ্রামে। কিন্তু যাদের জন্য ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন সেই পরিবারের সদস্যদের আপত্তিতে বছর ষাটের অজিতবাবু ঢুকতে পারেননি নিজ বাড়িতে। বাধ্য হয়ে গ্রামের বাইরে পুকুরের পাশের একটি গাছে মাচা বেঁধে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর। একটিবারের জন্য স্বাস্থ দফতর বা স্থানীয় প্রশাসন দেখা করতে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন অজিতবাবু।

আরও পড়ুন:রাস্তায় আর যত্রতত্র ফেলা যাবে না ব্যবহৃত মাস্ক…কড়া আইন আনতে চলেছে পুরসভা

উল্লেখ্য, কাজের খোঁজে একটা সময় ভিন রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন অজিতবাবু। কাজ করতেন হরিয়ানার একটি নামী গাড়ির কারখানাতে। চাকরী থেকে অবসর নেওয়ার পর বকেয়া টাকাপয়সা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার জন্য থেকে গিয়েছিলেন দিল্লীতে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারনে দেশে লকডাউন শুরু হওয়ায় আটকে পড়েন সেখানে। বহু চেষ্টার পর গত ৭-ই মে ফেরেন নিজের গ্রাম রাড়িয়াতে। কিন্তু গ্রামে ঢুকেও মেলিনি বাড়ি ফেরার অনুমতি। পরিবার ও গ্রামবাসীদের কথা ভেবে আশ্রয় নিয়েছেন গ্রামের একটি পুকুরের পাশে গাছের মাচায়। একটিবারের জন্য নিজের ছেলে, ছেলের বউ খোঁজ নিতে আসেনি বাবার।

এই অভিমান বুকে নিয়ে প্রায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন অজিতবাবু। স্বাস্থ দফতর নাম, ঠিকানা নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে আর আসেনি। পাশে দাঁড়ায় নি স্থানীয় প্রশাসন। নিজের হাতে রান্না করে প্রচন্ড গরমে গাছের মাচায় দিন রাত কাটছে এই অসহায় মানুষটির। এসব কথা বলতে গিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। অজিতবাবু বলেন,” পরিবার ও গ্রামের সুরক্ষার স্বার্থেই এভাবে দিন কাটাচ্ছি। ছেলে বা পরিবাবের কেউ একটিবারের জন্য খোঁজ নেয়নি। নিজেকেই সব কিছু করতে হচ্ছে। বাড়ির লোকেদের কথা ভেবে মন খুব খারাপ হয়ে যায়। কষ্ট হয়। ” অজিতবাবু আরও বলেন,” স্বাস্থদফতর শুধু নাম, ঠিকানা লিখে নিয়ে গিয়েই দায় সেরেছে। কেউ আসেনি। স্থানীয় প্রশাসন ও খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে নি।

আরও পড়ুন:আমেরিকার বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে কলকাতায় পথে নামল বামেরা

” অন্যদিকে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা বলেন,” বিষয়টা জানতাম না। খোঁজ নেব। তবে অজিতবাবু গ্রামবাসীর কথা ভেবে এভাবে রয়েছেন এটা ভালো। স্বাস্থদফতরের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রশাসনিক ভাবে তার পাশে যাতে দাঁড়ানো যায়, সেবিষয়ে উদ্যোগ নেব।

Related Articles

Back to top button
Close